অটো স্ট্যান্ডে দফায় দফায় হাত বদল

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৩:২২ পিএম, ৫ জানুয়ারি ২০১৯ শনিবার

অটো স্ট্যান্ডে দফায় দফায় হাত বদল

আওয়ামীলীগ ফের ক্ষমতায় আসার পর ফতুল্লায় সেক্টর দখলের মহৎসব চালাচ্ছে সরকারী দলের নেতারা। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সেক্টর দখল নিতে মরিয়া হয়ে উঠছে সরকারী দলের লোকজন। পঞ্চবটিতে শ্রমিকলীগ নেতা কাউছার আহম্মেদ পলাশ বাহিনীকে হটিয়ে ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন অটোবাইক স্ট্যান্ডটি নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল। তবে দুদিন অতিবাহিত হতেই আনোয়ার হোসেনের কাছ থেকে থানা যুবলীগের সভাপতি মীর সোহেল বাহিনী জোরপূর্বক দখল নিয়ে নেয়। এতে করে পঞ্চবটিতে স্বেচ্ছাসেবকলীগ ও যুবলীগের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোন সময় দুপক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটতে পারে।

জানা গেছে, ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শামীম ওসমান এমপি হিসাবে নির্বাচিত হওয়ার পর পঞ্চবটি-পাগলা সড়কে চলাচলরত ইজিবাইক স্ট্যান্ডটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন। সে তার লোকজন নিয়ে পলাশের লোকদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইজিবাইক স্ট্যান্ডের অফিসটি তাদের দখলে নিয়ে নেয়। আর অফিসে থাকা পলাশের ছবি নামিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান ও বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি সাটিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু দুইদিন পরই আনোয়ার হোসেনের কাছ থেকে অটো স্ট্যান্ডটি ছিনিয়ে নিতে ফতুল্লা থানা যুবলীগের সভাপতি মীর সোহেলের বাহিনী হানা দেয়। এসময় মীর সোহেলের নির্দেশে ফাজিলপুরের শাহিন, হিরো, দুলু, বাবুল, স্বপন সরদার, ফারুক সহ আরো কয়েকজন আনোয়ারের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইজিবাইক স্ট্যান্ডের অফিস জোর করে দখলে নিয়ে নেয়। শাহিন গংরা আনোয়ারকে হুঙ্কার দিয়ে বলে ইজিবাইক স্ট্যান্ড মীর সোহেলের লোকদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এখনো আনোয়ারকে কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। তবে পঞ্চবটিতে এলাকার ইজিবাইক স্ট্যান্ড দখল নেয়াকে কেন্দ্র করে স্বেচ্ছাসেবকলীগ ও যুবলীগের মধ্যে দেখা দিয়েছে উত্তেজনা। এতে ফের দখলবাজির রাজনীতি শুরু হয়ে গেছে।

পলাশ বাহিনীর সদস্য আজিজুল জানান, ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের একদিন পর পঞ্চবটির ইজিবাইক স্ট্যান্ডের অফিস দখলে নিয়ে নেয় ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার। সে তার লোকজন নিয়ে অফিসের তালা ভেঙ্গে তাদের তালা ঝুলিয়ে দেয়। পরে তারা শ্রমিক নেতা কাউছার আহম্মেদ পলাশ ভাইয়ের ছবিগুলো সরিয়ে দেয়। এখন কিছু বলতে না পারলেও সময়মত এর উচিত জবাব দেয়া হবে।

ফতুল্ল¬া থানা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন জানান, শ্রমিক নেতা কাউছার আহম্মেদ পলাশ আলীগঞ্জের লোক হয়ে তার লোকজন পঞ্চবটিতে সেক্টর দখল করে চাঁদাবাজিতে মেতে উঠেছে। দীর্ঘদিন তার লোকজন চাঁদাবাজি করে আসছিল। এবার নির্বাচনের পর পলাশের দূর্গে হানা দিয়ে ইজিবাইক স্ট্যান্ডের অফিস নিয়ন্ত্রণে নেয়া হয়েছে। যারা শামীম ওসমানের আদর্শের সৈনিক তারাই এ অফিসে বসবে। কিন্তু পলাশের লোকদের হটিয়ে আমরা ইজিবাইক স্ট্যান্ড আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার দুইদিন পর থানা যুবলীগের সভাপতি মীর সোহেলের লোকজন জোরপূর্বক ভাবে সেই অফিস তারা দখল করে নেয়। আর এ অফিস দখল নিতে মীর সোহেল প্রভাব খাটিয়েছে।

প্রসঙ্গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন পাগলার শ্রমিক লীগ নেতা কাউসার আহমেদ পলাশ। কিন্তু সেখানে ছিল তার বড় ধরনের জালিয়াতি। মামলার তথ্য গোপন আর স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে শতকরা ১ভাগ ভোটারের সাক্ষর জমা দিতে পারেনি তিনি। বাদ হয়ে যায় মনোনয়নপত্র। এরই মধ্যে ফতুল্লার কয়েকটি শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনায় এসে যায় পলাশের নাম। বেকায়দায় পড়ে ওমরার নামে দেশ ছাড়েন পলাশ, ফিরেন ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের ভোট গ্রহণের পর। তিনি মূলত বিভিন্ন সময়ে মামলার এজাহারে লিখেছেন ফতুল্লার সর্বশ্রেষ্ঠ অদ্বিতীয় শ্রমিক নেতা। সে কারণে ফতুল্লার গার্মেন্ট সেক্টরে কোন শ্রমিক নেতার নাম উচ্চারণ হলেই পলাশের নাম চলে আসে। সেই পলাশের কব্জায় ছিল অনেকগুলো সেক্টর যেখানে থেকে মাসে উপার্যন হতে লাখ লাখ টাকা। উঠেছিল চাঁদাবাজীর অভিযোগও।
সেই পলাশের কব্জায় থাকা সা¤্রাজ্য ক্রমশ তার হাত থেকে সরে যাচ্ছে। সেখানে নতুন করে হানা দিতে যাচ্ছে স্থানীয় লোকজন। জড়াচ্ছেন সেখানকার আওয়ামী লীগের নেতারাও।

পাগলা ও আলীগঞ্জ এলাকা ঘুরে জানা গেছে, পাগলা, আলীগঞ্জ ও ফতুল্লা এলাকাতে বুড়িগঙ্গার তীরে অন্তত ১৫টি ঘাট হতে দৈনিক নৌ যান হতে মালামাল লোড আনলোড হয়। সেখানে প্রত্যেক শ্রমিকের কাছ থেকে মজুরি হতে প্রতিদিন মোটা অংকের টাকা কেটে নেওয়া হতো। বিভিন্ন সংগঠনের নামে এসব টাকা কেটে নেওয়া হলেও সংগঠনগুলো ছিল পলাশের নেতৃত্বে।

এছাড়া নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় কুতুবপুর ইউনিয়নে ব্যাটারীচালিত অটোরিকশা (ইজিবাইক) থেকে জাতীয় শ্রমিকলীগের শ্রমিক উন্নয়ন ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কাউসার আহাম্মেদ পলাশের নেতৃত্বে বছরে ৫৭ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ করেছে ব্যাটারীচালিত অটোরিকশার মালিক ও শ্রমিকরা। চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করলে কিংবা চাঁদা দিতে দেরী হলে শ্রমিকদের উপর নেমে আসে নির্যাতনের খড়গ।

কুতুবপুর ছাড়াও পঞ্চবটি, ফতুল্লা ও আশেপাশের কয়েকটি স্ট্যান্ড থেকেও প্রতিদিন করা হতো চাঁদাবাজী। পাগলার ট্রাক স্ট্যান্ড থেকেও তোলা হতো মোটা অংকের টাকা।

তবে দেরিতে হলেও কিছুটা কৌশলীভাবে পলাশের এসব অপ সাম্রাজ্যে হানা দিতে দেখা যাচ্ছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের। অচিরেই এসব বিষয় ক্রমশ দৃশ্যমান হবে মনে করা হচ্ছে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও