কার্যালয়বিহীন নারায়ণগঞ্জ বিএনপির ২২ মাস

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৭:৫৩ পিএম, ৫ জানুয়ারি ২০১৯ শনিবার

কার্যালয়বিহীন নারায়ণগঞ্জ বিএনপির ২২ মাস

দীর্ঘ প্রায় ২ বছর ধরে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি ঠিকানাবিহীন অবস্থায় রয়েছে। অস্থায়ী কিংবা নামকাওয়াস্তে ব্যক্তিগত কার্যালয় দিয়েই চলছে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম। নেতারা নিজের মতো করে নিজ নিজ বাসা বাড়ীকেই কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করছেন। ফলে নেতাকর্মীরা হয়ে পড়ছেন ছন্নছাড়া। দিন দিন জেলা ও মহানগর বিএনপি হয়ে যাচ্ছে ঘরমুখী। আর এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পদে থাকা নেতাকর্মীদের মাঝেও তেমন একটা আগ্রহ দেখাচ্ছে না। দিনের পর দিন এবং মাসের পর মাস অতিবাহিত হতে চললেও কার্যালয়ে ব্যাপারে জেলা ও মহানগনর বিএনপির সভাপতি ও সেক্রেটারী একপ্রকার উদাসীনতার পরিচয় দিচ্ছেন।

জানা যায়, তিন মেয়াদে ক্ষমতায় আসলেও নারায়ণগঞ্জে বিএনপির কোন পাকাপোক্ত কার্যালয় করতে পারেনি এখানকার বিএনপির ওই সময়ের এমপিরা। অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতৃত্বে আসার পর তৎকালীন নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা থেকে দোকান হিসেবে ইজারা নিয়ে ডিআইটি বাণিজ্যিক এলাকায় বিএনপির কার্যালয় করেন। এ কার্যালয়ে আর্থিকভাবে সবচেয়ে বেশি সহযোগীতা করেছিলেন বর্তমান জেলা কমিটির সহ সভাপতি আজাহারুল ইসলাম মান্নান।

বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে বিআরটিসির চেয়ারম্যান হয়ে অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার বিএনপির কার্যালয়টির জন্য পৌরসভা থেকে দোকান বরাদ্দ নেন। নগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট জাকির হোসেনের নামে এ দোকান ভাড়া নিয়ে বিএনপির কার্যালয় করা হয়। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সঙ্গে কার্যালয় নিয়ে মামলায় হেরে যাওয়ার পর ২০১৭ সালের ১০ মার্চ কার্যালয় ভবন ভেঙ্গে ফেলে। এরপর থেকেই নারায়ণগঞ্জ বিএনপি নতুন করে আর কার্যালয় নিতে পারেনি।

এরই মধ্যে ২০১৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি ঘোষণার মধ্য দিয়ে জেলা বিএনপির সভাপতির পদ থেকে অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার বিদায় নেন। জেলা বিএনপির নতুন নেতৃত্বে আসেন সভাপত কাজী মনিরুজ্জামান এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। একইভবে মহানগর বিএনপির নেতৃত্বে আসেন সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম এবং সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল।

তাদের এই কমিটি প্রায় ২ বছর অতিবাহিত হতে চললেও নারায়ণগঞ্জ বিএনপির কার্যালয়ের ব্যাপারে তেমন কোন মাথাব্যথা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। তবে মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম শহরের চারারগোপ এলাকার ফেন্ডস মার্কেটে তার নিজ বাসার একটি ফ্লোরকে অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করছেন। অন্যদিকে জেলা বিএনপির শহরে বসার মতো কোন জায়গা নেই।

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির কার্যালয় ভেঙ্গে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র জেলা বিএনপিকে একটি অস্থায়ী কার্যালয়ের জন্য স্থান নির্ধারন করতে বলেছিল মেয়র। স্থান নির্ধারন হলে সেখানে জায়গা বরাদ্ধ দিত নাসিক কিন্তু নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুামান ও সাধারণ সম্পাদক মামুন মাহমুদের এ নিয়ে কোন চিন্তা না থাকায় দলের অস্থায়ী কার্যালয় আর হচ্ছেনা বলেই ধরে নিয়েছেন জেলা বিএনপির নেতারা।

কার্যালয় ছাড়া দলীয় বৈঠকও হয়েছে একাধিকবার আর তা হয়েছে জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামানের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে। কর্মচারীর মত দলের কেউ কেউ সেখানে গেলেও জেলার নেতাকর্মীরা এখন আর সেখানে যেতে চাচ্ছেন না। প্রথম দিকে কিছু নেতা গেলেও এখন আর তাও হচ্ছেনা ফলে জেলা বিএনপির নিয়মিত বৈঠকও হয়না দলের। বিগত সময়ে জেলা বিএনপির এই কার্যালয় থেকেই বিএনপির বিভিন্ন নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালিত হতো। দলের অনেক সভা সমাবেশ, দলীয় কর্মকান্ডও পরিচালিত হয়েছে এখানে।  এই কার্যালয়কে ঘিরেই বিগত দিনে বিএনপির আন্দোলন সংগ্রামসহ নানা কর্মসূচী পালিত হতো। আর সেই কার্যালয়ের অভাবে এখন জেলা বিএনপির প্রায় সকল কর্মসুচীতেই ভাটা পড়েছে বলে মনে করছেন জেলা বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও

আরো খবর