তৈমূরের দিকেই ইউটার্ন নিচ্ছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৭:৫৬ পিএম, ৫ জানুয়ারি ২০১৯ শনিবার

তৈমূরের দিকেই ইউটার্ন নিচ্ছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি

নারায়ণগঞ্জ বিএনপির সর্বজন স্বীকৃত ত্যাগী নেতা হচ্ছেন বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। তার রাজনীতির শুরু থেকেই তিনি বিএনপির জন্য নিজ স্বার্থকে জলাঞ্জলী দিয়ে আসছেন। বিনিময়ে তিনি দল থেকে কিছুই পাননি শুধুমাত্র একের পর এক নিজ স্বার্থকে ত্যাগ করেই আসছেন।

নারায়ণগঞ্জের দল-মত নির্বিশেষে তার জনপ্রিয়তা রয়েছে। তারপরেও বিএনপি থেকে তাকে মূল্যায়ন করা হচ্ছিল না। একের পর তাকে তাকে বিভিন্নভাবে বঞ্চিত করা হচ্ছিল। তবে এবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ফের তৈমূর আলম খন্দকারের দিকেই ইউটার্ন নিচ্ছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি। নারায়ণগঞ্জ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ে তার কদর বাড়তে শুরু করছে।

এরই মধ্যে গত ৩০ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্ঠেও অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারে জনপ্রিয়তার কথা উচ্চারিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতে, এবারের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৈমূর আলম খন্দকার জনপ্রিয় ছিলেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী তৈমূর ছিলেন সম্ভাব্য বিজয়ীদের মধ্যে একজন।

প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য প্রকাশের পর পরই নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে রীতিমত আলোচনা শুরু হয়ে যায়। তৈমূর পন্থী নেতাকর্মীরাও বেশ উজ্জীবিত হয়ে উঠতে শুরু করেছে। তাদের অনেকেই বলছেন, তৈমূর আলম খন্দকারের জনপ্রিয়তা ফের প্রমাণিত হয়েছে।

জানা যায়, ২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে তৈমূর আলম খন্দকারকে বিএনপি থেকে সমর্থন দেয়া হয়েছিল। তিনিও বেশ জোরালোভাবেই নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন। নির্বাচনী মাঠে রাত দিন পরিশ্রম করে জয়ের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। শুধুমাত্র ভোটগ্রহণ বাকি ছিল। সকলেরই ধারণা করে নিয়েছিলেন অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারই হবেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র। কিন্তু ভোটের মাত্র ৭ ঘণ্টা আগে তাকে বসিয়ে দেওয়া হয়। ওই সময়ে অনেকেরই মন্তব্য ছিল অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারকে গোসল ছাড়াই কোরবানী দেওয়া হয়।

তারপরেও তৈমূর মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েননি। তিনি সবসময় নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশেই ছিলেন। নেতাকর্মীদের বিপদ-আপদে ও দলীয় কর্মসূচিতে অ্যাাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারই সবার আগে এগিয়ে গেছেন।

এর আগে ২০০৯ সালর জুন থেকে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি পদে আসীন ছিলেন অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। জেলা বিএনপির সভাপতি হলেও নারায়ণগঞ্জ শহর ও বন্দরের মূলধারার দু’টি কমিটিই ওই সময় অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারের নেতৃত্বেই গঠিত হয়েছিল। অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার ২০০৭ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু সেবারও তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতি থেকে অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারকে মাইনাস করার চেষ্টা করতে থাকেন কাজী মনিরুজ্জামান মনির ও অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। তাদের সেই চেষ্টা সফল হয় ২০১৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারী জেলা ও মহানগর বিএনপির আংশিক কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে। ওই আংশিক কমিটি দু’টিই এসেছে মূলত কাজী মনিরুজ্জামান মনির ও অ্যাডভোকেট আবুল কালামের হাত ধরেই। এছাড়া আংশিক কমিটিতে বেশীরভাগ পদেই এসেছে তাদের অনুগামী নেতারা। ওই আংশিক কমিটিতে তৈমূর অনুগামীদের তেমন একটা মূল্যায়ন করা হয়নি। যেকারণে পদচ্যুত হয়ে তৈমূর আলম খন্দকার নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি থেকে অনেকটা ছিটকে পড়ার অবস্থানে ছিলেন।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে নারায়ণগঞ্জে গণআন্দোলন গড়ে তুলতে কাজী মনিরুজ্জামান মনির ও অ্যাডভোকেট আবুল কালামের ব্যর্থতার কারণে আবারো লাইমলাইটে আসেন অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। বিভিন্ন কর্মসূচিতে সকলের পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে সমন্বয় করার দায়িত্ব দেয়া থাকে তৈমূর আলম খন্দকারকে। যদিও মনিরুজ্জামান মনির ও অ্যাডভোকেট আবুল কালাম চান না জেলার রাজনীতিতে তৈমূর আবার ফিরে আসুক। দলীয় নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তারা তৈমূর আলমকে অবজ্ঞা করে চলেন।

সর্বশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও কাজী মনিরুজ্জামান মনির ও অ্যাডভোকেট আবুল কালামের তেমন তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়নি। তবে কাজী মনিরুজ্জামান নিজেও নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে প্রার্থী ছিলেন। দলীয় মনোনীত প্রার্থী হয়েও বিএনপির নেতার্মীদের তেমন একটা সাড়া ফেলতে পারেনি। তার পক্ষে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের দেখা যায়নি। একইভাবে আবুল কালামও সংসদীয় এলাকায় সরবত দেখাননি। তিনি এবারের নির্বাচন প্রায় অনেকটা এড়িয়ে চলেছেন।

তাদের এই নিস্ক্রিয়তার কারণে কেন্দ্রীয় বিএনপি ভরসা রাখেন অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারের উপর। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৈমূরকে মনোনয়ন না দেওয়া হলেও পরবর্তীতে গত ২১ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জের বন্দরে এসে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ৫টি আসনের দায়িত্ব তার উপরেই দিয়ে যান।

এর আগে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটিতে তৈমূরকে অবজ্ঞা করা হলেও বিগত দিনে তিনি সহ তার ছোট ভাই মহানগর যুবদলের সভাপতি ও সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদকে বেশী কারাভোগ করতে হয়েছে রাজনৈতিক মামলায়। মামলার আসামী তৈমূরের ভাগ্নে মহানগর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রাশিদুর রহমান রশোও।

ফলে নেতাকর্মীদের মতে, নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতি ফের অ্যাডভোকেট আলম খন্দাকারের কাছেই ভিড়তে শুরু করছে। কারণ কেন্দ্রীয় বিএনপি বেশ ভাল করেই উপলব্দি করতে পারছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে তৈমূর আলমের কোনো বিকল্প নেই। তাকে যতই অবজ্ঞা কিংবা পদবঞ্চিত করা হোক কেন ডাক দেয়ার সাথে সাথেই বিএনপি তৈমূর আলমকে তারা কাছে ফিরে পাবে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও