মন্ত্রীত্বের স্বাদ মিটলেও বঞ্চিতই রইল শহর

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৩৫ পিএম, ৬ জানুয়ারি ২০১৯ রবিবার

মন্ত্রীত্বের স্বাদ মিটলেও বঞ্চিতই রইল শহর

প্রাচ্যের ড্যান্ডিখ্যাত নারায়ণগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চলের পাশাপাশি রাজনীতির সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত। বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জন্ম এ নারায়ণগঞ্জ জেলাতেই। আর সদ্য অনুষ্ঠিত হওয়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার ৫টি আসনেই মহাজোটের প্রার্থীরা নির্বাচিত হন। যার মধ্যে আওয়ামীলীগের ৩জন ও জাতীয় পার্টির দুইজন। এ ৫জন নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে মন্ত্রীত্ব পাওয়া নিয়ে সরগরম হয়ে উঠে গোটা নারায়ণগঞ্জ। আওয়ামীলীগের তিন বিজয়ী প্রার্থীর মধ্যে মন্ত্রী হবেন এমন রব সত্য হওয়ার পথেই রয়েছে।

আগামী ৭ জানুয়ারী শপথ গ্রহণের মধ্যমে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রীর দায়িত্বগ্রহণ করবেন নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের গোলাম দস্তগীর গাজী। এতে মন্ত্রীত্বের স্বাদ মিটলেও বঞ্চিত রয়ে যাচ্ছে শহর। আওয়ামীলীগ থেকে বিএনপি দুই প্রধান দলের কেউ শহর থেকে মন্ত্রীত্ব পায়নি।

সাধারণ মানুষের দাবি, শহরের মন্ত্রীত্ব না পাওয়ায় পুরানো অক্ষেপ ঠিকই রয়ে গেছে। উপজেলা ভিত্তিক মন্ত্রীত্ব দেওয়ায় শহরের মূলে তেমন কোন প্রভাব পড়বে না। নগরীর যে সকল সমস্যাগুলো রয়েছে সেগুলো আগের মতেই থেকে যাবে।

জানা যায়, এবারের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের বর্তমান ক্ষমতানসীন দলের মনোনীত প্রার্থীরা বিজয়ী হন এদের মধ্যে দুইজন হ্যাট্টিক বিজয় অর্জন করেছেন। তাঁরা হলেন নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী এবং নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু।

একই সাথে অন্যরা টানা দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তারা হলেন নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনে লিয়াকত হোসেন খোকা, নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে শামীম ওসমান ও নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনে সেলিম ওসমান। আর শামীম ওসমান ২০১৪, ২০১৮ ও ১৯৯৬ সালে এমপি নির্বাচিন হন।

৫জনের মধ্যে সেলিম ওসমান, শামীম ওসমান ছিলেন সদর উপজেলার দুই এমপি। রাজনৈতিক কর্মসূচি কিংবা শহরের যেকোন সমস্যায় এগিয়ে থাকেন এ দুই সহোদর। জাতীয় পার্টির থেকে ভাই সেলিম ওসমান নির্বাচিত হলেও শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমান দুইজনই আওয়ামীলীগের একনিষ্ঠ নেতা। ফলে ঢাকায় কোন কেন্দ্রীয় সমাবেশ সফল করার জন্য দুই ভাই বড় অবদান রাখেন।

সূত্র বলছে, রাজধানী লগোয়া হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে রাজনীতির সূতিগার হিসেবে পরিচিত নারায়ণঞ্জ। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধে এ জেলার অবদান খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। ফলে সব সরকারই রাজনৈতিক বিবেচনায় নারায়ণগঞ্জকে গুরুত্বের সহিত মূল্যায়ন করার চেষ্টা করেছেন। ফলশ্রুতিতে স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের (আওয়ামীলীগ) সরকারের সময় (১৯৭৩ এর নির্বাচনে) এমপি হয়েছিল নারায়ণগঞ্জের ভাষা সৈনিক একেএম সামসুজ্জোহা। সত্তর দশকের শেষের দিকে জিয়াউর রহমানের (বিএনপি) শাসনামলে নারায়ণগঞ্জ থেকে এম এ সাত্তারকে পাটমন্ত্রী করা হয়। তিনি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের এমপি ছিলেন। এম এ সাত্তারকে মন্ত্রী করার মধ্যে দিয়ে নারায়ণগঞ্জবাসী প্রথম মন্ত্রীত্বের স্বাদ পায়।

আশির দশকে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের (জাতীয় পাটি) শাসনামলে সোনারগাঁয়ের আ ন ম বাহাউল হককে উপ-মন্ত্রীর পদমর্যায় জেলা পরিষদের চেয়াম্যান করা হয়। ফলে তখন প্রথম উপমন্ত্রীরও স্বাদ পেল নারায়ণগঞ্জবাসী। ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর নারায়ণগঞ্জ থেকে আব্দুল মতিন চৌধুরীকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী করা হয়। মতিন চৌধুরী রূপগঞ্জ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) করার মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জবাসীর মুখ উজ্জল হয়ে উঠে।

১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসে। নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনেই আওয়ামীলীগের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়। কিন্তু নারায়ণগঞ্জবাসীর কপালে মন্ত্রী জোটেনি। ২০০১ সালে আবার বিএনপি ক্ষমতায় আসে। তখন আব্দুল মতিন চৌধুরীকে পুনরায় বস্ত্রমন্ত্রী করা হয়। একই সাথে সোনারগাঁও আসন থেকে নির্বাচিত এমপি অধ্যাপক রেজাউল করিমকেও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী করা হয়। একই জেলায় দুইজনকে মন্ত্রী করার কারণে আরেক ধাপ নারায়ণগঞ্জবাসীর মুখ উজ্জল হয়। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আবার আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসে। এরপর থেকে আওয়ামীলীগ সরকারই সবসময় সরকার গঠন করে আসছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে জেলার পাঁচটি আসনের মধ্যে আওয়ামীলীগ তিনটি ও তাদের শরিক জাতীয় পাটি দুটি আসনে এমপি নির্বাচিত হয়। কিন্তু এবারের মন্ত্রী সভায়ও নারায়ণগঞ্জ স্থান পায়নি। তার ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আওয়ামীলীগ জয়লাভ করে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও