ভোটের আগে আওয়ামী লীগকে আবারো ওয়াকওভার বিএনপির

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০১:৫৯ পিএম, ৭ জানুয়ারি ২০১৯ সোমবার

ভোটের আগে আওয়ামী লীগকে আবারো ওয়াকওভার বিএনপির

আসন্ন নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি নির্বাচনে এবার আওয়ামী লীগকে ওয়াকওভার দিতে যাচ্ছে বিএনপি। সবশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে সমিতির নির্বাচনেও। ফলে আওয়ামী লীগের একটি গ্রুপ ভেতরগতভাবে সক্রিয় হলেও বিএনপির নড়াদশায় তারাও ব্যাকফুটে যেতে শুরু করেছে।

আর সে কারণেই দলটির পক্ষে ভোটের দামামা বাজলেও কেউ আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। খোদ বিএনপির নীতি নির্ধারকেরাও রীতিমত হাল ছেড়ে দিতে শুরু করেছেন। পর্দার আড়াল থেকে যারা বিএনপির আইনজীবীদের নড়াতেন তারাও এবার চুপ হয়ে যাচ্ছেন। জানা গেছে, আইনজীবী সমিতি নির্বাচন মূলত আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য আনিসুর রহমান দিপু ও মহানগর আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী খোকন সাহা দেখভাল করতেন। কিন্তু গত বছর তথা ২০১৮ সালের ৩০ জানুয়ারীর ভোট নিয়ে সরাসরি শামীম ওসমান নিজেই মাঠে নামেন। দিপু ও খোকন সাহার আপত্তির পরেও হাসান ফেরদৌস জুয়েল ও মোহসীন মিয়ার নেতৃত্বে প্যানেল দেওয়া হয়। মাঠে নামেন শামীম ওসমান। তখন দিপু ও খোকন সাহার সঙ্গে শামীম ওসমানের বাহ্যিক বিরোধীতা প্রকাশ পেলেও শামীম ওসমান সেটাকে কৌশল বলেছিলেন। এখন আবার খোকন সাহাকে দেখা যাচ্ছে শামীম ওসমানের পাশে। গত নির্বাচনে জুয়েল ও মোহসীন হাড্ডাাহাড্ডি লড়াইয়ে জিতেন। আর আওয়ামী লীগের প্যানেল থেকে ৬জন। বিপরীতে সহ সভাপতি সহ ১১ পদে বিএনপি।

আসছে নির্বাচনে আবারো খোকন সাহা লড়তে পারেন এমন খবর চাউর আছে আদালতপাড়াতে। তিনিও মাঠ গুছিয়ে আনছিলেন। আওয়ামী লীগের একটি গ্রুপ মনে করেন, জুয়েল ও মোহসীন গ্রুপের বিরুদ্ধে বিএনপি মাঠে থাকলেই তখন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী গ্রুপের কদর থাকবে। তখন তারা দেনদরবার করে আগামী নির্বাচনের জন্য কয়েকটি পদে নিজেদের পছন্দের লোক মনোনয়ন দিতে পারতো। কিন্তু বিএনপি এখন থেকেই মাঠ ছেড়ে দিতে শুরু করেছে। ৭ জানুয়ারী বার্ষিক সাধারণ সভাতে থাকছেন না বিএনপির আইনজীবীদের অভিভাবক খ্যাত তৈমূর আলম খন্দকার যিনি গত বছর প্রচারণা চালাতে এসে পুলিশের মারধরের শিকার হয়ে গ্রেফতার হয়েছিলেন। এছাড়া সাবেক সভাপতি যিনি সর্বদা নির্বাচনকে জিইয়ে রাখতে সাখাওয়াত হোসেন খানও ৫৯ দিন কারাভোগের কারণে আছেন ব্যাকফুটে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির একজন শীর্ষ নেতা জানান, বর্তমান কমিটিতে বিএনপির ১১জন থাকলেও বিগত দিনে বিভিন্ন ধরনের হয়রানিমূলক মামলার ক্ষেত্রে তারা কোন সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি। তারা নিজেরাও কোন বৈঠক করে বিচারকের সঙ্গে দেখা করে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার প্রয়াস নেয়নি।

যদিও জেলা আইনজীবী সমিতির অভিষেক, নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন সহ আরো কয়েকটি ইস্যুতে বিএনপির ১১জন বাহ্যিকভাবে বেশ বিপ্লবী চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ দেখালেও ভেতরে ভেতরে আওয়ামী লীগের সঙ্গে গোপন সমঝোতা অক্ষুন্ন রাখে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর ছিল আইনজীবী সমিতির অভিষেক। কিন্তু ব্যানারের অজুহাতে সেই অনুষ্ঠানে হাজির হয়নি বিএনপির ১১জন। মূলত বিএনপির ভোট ব্যাংক অক্ষুন্ন রাখতেই এ কাজটি করে ১১জনের গ্রুপটি। কারণ তারা শেষ সময়ে এসে অনুধাবন করে এ সময়ে বাহ্যিকভাবে বিরোধীতা না দেখালে আগামীতে বিএনপির ভোট ব্যাংক টানতে পারবে না। অভিষেক অনুষ্ঠানের প্রস্তুতিতে সম্পৃক্ত ছিলেন সমিতির বিএনপির ১১জনও। সমিতির ১৭ পদের বিপরীতে ১১পদ জয়ী বিএনপির নেতাদের তাদের উপর ছিল গুরু দায়িত্ব। ভেতরগত প্রস্তুতি ছিল তারা অন্তত নতুন বার ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে মাইলফলকের সাক্ষী হবেন। কিন্তু ২৩ সেপ্টেম্বর সেই কাংখিত অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি ওই ১১জনকে যাদের নিয়ে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকা এমপি শামীম ওসমানও সমালোচনা করেন।

১১ জন হলেন সিনিয়র সহ সভাপতি দ রেজাউল করিম খান রেজা, সহ সভাপতি আজিজ আল মামুন, কোষাধ্যক্ষ নূরুল আমিন মাসুম, আপ্যায়ণ সম্পাদক সুমন মিয়া, লাইব্রেরী সম্পাদক ওমর ফারুক নয়ন, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মাসুম, সমাজ সেবা সম্পাদক শারমীন আক্তার, আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম মুক্তা, কার্যকরী পরিষদ সদস্য আল আমিন সবুজ, আমেনা প্রধান শিল্পী ও রফিকুল ইসলাম আনু।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির বহুতল বিশিষ্ট ডিজিটাল বার ভবনের কাজ শুরু হয়েছে। এর আগে বিশেষ সাধারণ সভায় সমিতির ভবন ভাঙ্গা নিয়ে নেতারা বেশ সোচ্চার থাকলেও ক্রমশ মিইয়ে যেতে শুরু করেছে। বিএনপির নেতৃত্ব দেওয়া অনেক আইনজীবী বলছেন, তারা আর কোন ঝুকি নিতে নারাজ।

তবে সাখাওয়াতের উপর ভরসা রাখলেও সাখাওয়াতের অনুগামীরা অনেকটাই বিচ্ছিন্ন। দীর্ঘ ৫৯ দিনের বন্দি জীবনে কাছে পাননি তার অনুগত কোন আইনজীবীদের। জেল থেকে মুক্ত হলেও তাকে রিসিভ করতে যাননি কেউই। খোদ মুক্তি শেষে পাননি কোন ফুলেল শুভেচ্ছা। ফিরে এসে অনেকটা একাকী সময় কাটিয়েছেন নিজ চেম্বারে।

এ ব্যাপারে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, আমার নির্বাচন করার কোন ইচ্ছা নেই। হয়তো কোন কর্মী অতিউৎসাহিত হয়ে আমাকে নির্বাচনী মাঠে দেখতে চায়। তবে এমন কোন সম্ভাবনা নেই। আমি মাত্র বের হয়েছি জেল থেকে, যথেষ্ট অসুস্থও আমি। আপাতত আমি নিজের শরীরের সুস্থতার কথা ভাবছি।

এদিকে জুয়েল ও মোহসীনের নেতৃত্বেই এবছর প্যানেল গঠন করা হতে যাচ্ছে আপাতত নিশ্চিত হওয়া গেছে। খোদ এমপি শামীম ওসমান এঁদের উপর আবারো আস্থা রাখতে চাচ্ছেন।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও

আরো খবর