মন্ত্রীত্ব পেয়েও নীরব নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৩৩ পিএম, ৭ জানুয়ারি ২০১৯ সোমবার

মন্ত্রীত্ব পেয়েও নীরব নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ

দীর্ঘ কয়েক যুগ পর নারায়ণগঞ্জ থেকে মন্ত্রী ঘোষণা করার পরও জেলা ও মহানগর পর্যায়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে নেই কোন আনন্দ উল্লাস। এমনকি প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন বার্তা জানিয়েছেন শুভেচ্ছা র‌্যালীও। একরকম নিরবেই শেষ হলে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান।

৭ জানুয়ারী সোমবার বিকেলে রাজধানী ঢাকায় বঙ্গভবনে বস্ত্র ও পাঠ মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ ও রেজিস্টারে স্বাক্ষর করেন নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের এমপি গোলাম দস্তগীর গাজী সহ নতুন মন্ত্রীপরিষদের সদস্যরা।

এর আগে রোববার দুপুরে আনুষ্ঠানিক ভাবে নতুন মন্ত্রী পরিষদে থাকার বিষয়ে ডাক পান গোলাম দস্তগীর গাজী। ঘোষণার পর থেকে সোমবার বিকেল পর্যন্ত জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে তেমন কোন কর্মসূচি দেখা যায়নি। এমনি গণমাধ্যমেও আসেনি নূন্যতম অভিন্দন বার্তাও।

জানা যায়, এবারের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের বর্তমান ক্ষমতানসীন দলের মনোনীত প্রার্থীরা বিজয়ী হন এদের মধ্যে দুইজন হ্যাট্টিক বিজয় অর্জন করেছেন। তারা হলেন নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী এবং নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু।


একই সাথে অন্যরা টানা দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তারা হলেন নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও) আসনে লিয়াকত হোসেন খোকা, নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে শামীম ওসমান ও নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনে সেলিম ওসমান।

প্রতিবারের মতো এবারেও তাদেরকে ঘিরে বর্তমান সরকারের মন্ত্রী পরিষদে জায়গা নিয়ে আলাপ আলোচনায় সরগরম হয়ে উঠে নারায়ণগঞ্জ। কিন্তু শামীম ওসমান, সেলিম ওসমানের পরিবর্তে মন্ত্রী নির্বাচিত হন গোলাম দস্তগীর গাজী। আর তাতেই আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা নিরব বলে ধারণা করেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

আওয়ামীলীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের দাবি, আওয়ামীলীগের জন্মলগ্ন থেকে ওসমান পরিবার জড়িত। বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনে ও দলীয় কর্মসূচির অগ্রভাগেই ছিল ওসমান পরিবার। এর ধারাবাহিকতায় রয়েছেন বর্তমান প্রজন্মের নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান। দলীয় নির্দেশ ও রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে গিয়েই তিনি গডফাদার উপাধী পেয়েছেন। এখনও নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানরগ আওয়ামীলীগকে আগলে রেখেছেন। এছাড়াও দলীয় কর্মসূচি পালন করেছেন সফল ভাবে। কিন্তু শামীম ওসমানকে মন্ত্রী সভায় না রাখায় আওয়ামীলীগের নেতারা তেমন খুশি নন। আর সেই কারণে শহর জুড়ে নেই কোন কর্মসূচিও।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর থেকেই রূপগঞ্জে আওয়ামীলীগের কর্মীরা যার যার অবস্থান থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশায় গণসংযোগ প্রচার প্রচারণা শুরু করেন। এ নিয়ে দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায় উপজেলা আওয়ামীলীগ। ওই সময় রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিকের নেতৃত্বে উপজেলা আওয়ামীলীগ একটি অংশ ও এমপি গোলাম দস্তগীর গাজীর নেতৃত্বে আরেকটি অংশ মাঠে নামে। ফলে নির্বাচনকালীন সময়ে দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এমনকি দুই গ্রুপের হয়ে ৪১জন দলীয় মনোনয়ন ফরমও সংগ্রহ করেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিকের সমর্থনে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায় এমপি শামীম ওসমানকে। আর এমপি গোলাম দস্তগীর গাজীর সমর্থকে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে। এসবের মধ্যে শামীম ওসমান ও আইভীর মধ্যে রাজনৈতিক ভাবে নেতৃত্বের লড়াই রয়েছে দীর্ঘদিনের।

অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানরগ আওয়ামীলীগের দুই কমিটির অধিকাংশ নেতাই শামীম ওসমানের অনুগামী। যারা বিভিন্ন সময় শামীম ওসমানের পক্ষ নিয়ে মেয়র আইভী সহ তার পক্ষের লোকজনের বিষোধগার করতে শোনা গেছে। ফলে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যেও রয়েছে বিভক্তি। ফলে আইভী পন্থী আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দ উল্লাস দেখা গেছে। তবে মন্ত্রী পরিষদের শামীম ওসমানের নাম না থাকায় হতাশ তার পন্থী আওয়ামীলীগের নেতারা।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও

আরো খবর