তৈমূর আলমে চমক

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৫:১৭ পিএম, ৮ জানুয়ারি ২০১৯ মঙ্গলবার

তৈমূর আলমে চমক

নারায়ণগঞ্জে বিএনপি দলটির রাজনৈতিক অঙ্গনের জনপ্রিয় মুখ ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার দলীয় কোন পদ পদবী না থাকলেও একের পর এক চমক দেখিয়ে এসেছেন।

এমনকি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েও প্রার্থীদের পাশে থেকে বিএনপি দলটির জন্য নিষ্ঠার সাথে কাজ করেছেন; যেকারণে দলের মহাসচিব জেলার ৫ জন প্রার্থীর দায়িত্ব তার হাতে তুলে দিয়েছিলেন। এদিকে বিএনপির চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ দলটির সভানেত্রী শেখ হাসিনার মুখেও যোগ্য প্রার্থী হিসেবে তৈমূরের নাম প্রকাশ পেয়েছে। তাছাড়া বিগত কমিটিগুলোতে তৈমূরকে বাদ দিয়ে অন্যদের পদায়িত করার ফলে দলের বেহাল দশা দেখা যায়। এতে করে ফের তৈমূরের প্রাপ্তির বিষয়টি বেশ জোরালো আকার ধারণ করছে। এতে করে তৈমূর কেন্দ্র কিংবা জেলার শীর্ষ পদ প্রাপ্তির মধ্য দিয়ে চমক দেখাতে পারে বলে মনে করছেন দলের নেতাকর্মীরা।

জেলার বর্ষিয়ান নেতাদের তালিকায় থাকা হেভিওয়েট নেতা তৈমূর আলম খন্দকার কয়েকবার জেলার শীর্ষ পদ হাসিল করলেও রহস্যজনক কারণে দুবছর আগে জেলা বিএনপি কমিটি গঠনের সময় তাকে মাইনাস করা হয়। আর তাতে করে বিএনপি দলটি সংগঠনিক দিক দিয়ে বেশ দুর্বল হয়ে পড়ে। এতে করে দলের নেতাকর্মীদের মুখে বার বার ত্যাগী নেতাদের তালিকার শীর্ষে থাকা তৈমূরের নামটি ভেসে বেড়াচ্ছে।

অন্যদিকে তৈমূরকে মাইনাস করে করা এ জেলার ওই কমিটি ২বছরেও তেমন সফলতা বয়ে আনতে পারেনি। বরং বার বার দিয়েছে ব্যর্থতার জয়গান। সবশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও পুরো ব্যর্থতা দেখান। নির্বাচনে জেলা বিএনপির কেউ মাঠে নামেনি। আর মহানগর বিএনপির একটি অংশ মাঠে থাকলেও ক্ষমতাসীনদের পক্ষে কাজ করেছে। আর অন্য অংশ পুরো ব্যর্থতার প্রমাণ দিয়েছে।

এতে দলের নেতাকর্মীরা বলছেন, একদিকে নারায়ণগঞ্জে বিএনপি দলের নেতাদের চরম ব্যর্থতা সবার কাছে স্পষ্ট হয়েছে। অন্যদিকে পদে না থেকেও রীতিমত চমক দেখিয়ে গেছেন তৈমূর আলম খন্দকার। এছাড়া বিএনপির চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল আওয়ামীলীগের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুখেও এই জনপ্রিয় নেতার নাম প্রকাশ পেয়েছে। এর ফলে তার জনপ্রিয়তার বিষয়টি সবার কাছেই স্পষ্ট হয়েছে। যেকারণে তাকে এবার নিশ্চয় দল থেকে মূল্যায়ন করা হবে। হয়তো কেন্দ্রের কোন একটি পদ কিংবা জেলার শীর্ষ পদ দেয়া হতে পারে। তেমনই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

সূত্র বলছে, বিএনপি দলটি সুবিধাবাদীদের মাইনাস করে ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করে দলকে শক্তিশালী করে তুলতে চাইছে। যেকারণে ত্যাগী ও যোগ্য নেতাদের তালিকা করতে শুরু করেছে। আর সেই তালিকায় উপরিভাগে তৈমূরের নাম রয়েছে। কারণ তার কর্মকা-ই তাকে উপরে তুলেছে। বারবার নির্বাচনে ব্যর্থ হওয়ার এই নেতাকে এবার দল থেকে বড় কোন ধরনের চমক দেয়া হতে পারে। কেননা পুলিশি হামলা, মামলা এড়িয়ে এই নেতা সব সময় দলের জন্য কাজ করে গেছেন। কখনো পিছপা হননি।

জানা যায়, দলীয় কোন পদ পদবীতে না থাকলেও তৈমূর দলীয় কর্মকান্ডে বেশ সক্রিয় রয়েছে। আর সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৈমূর বিএনপি দলটির প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করেছেন। যেকারণে বন্দরের ঐক্যফ্রন্টের এক সমাবেশে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তৈমূর আলম খন্দকারের উপর জেলার ৫ জন প্রার্থীর দায়িত্ব তুলে দেন। এছাড়া বিগত দিনেও পুলিশ ও ক্ষমতাসীনদের বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করে আন্দোলন কর্মসূচি পালন করে গেছেন। এতে করে ত্যাগী নেতা হিসেবে সবার কাছে বেশ জনপ্রিয় তিনি।

গত ৩০ ডিসেম্বর নানা আলোচনা আর সমালোচনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীদের সংগঠনের প্রতি ভালোবাসা ও আনুগত্যকে পরখ করেছেন কেন্দ্রীয় বিএনপি। ফলে নির্বাচনের পর পরই দলের ভবিষ্যত কর্মপন্থা নির্ধারণের জন্য রাজধানীর পাশ্ববর্তী জেলা হিসেবে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে উত্থান পতনের সম্ভাবনা রয়েছে। যার ধারাবাহিকতায় প্রথমেই নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানর বিএনপিতে রদবদলের আভাস পাওয়া গেছে। দলের গতি ফিরিয়ে আনার জন্য ভেঙ্গে দেয়া হতে পারে পুরাতন কমিটি। আর এতে অনেকেই হারাতে পারেন পদ পদবী এবং সাথে সাথে ত্যাগী নেতাদেরও কমিটিতে ফিরিয়ে আনা হতে পারে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে নারায়ণগঞ্জে গণআন্দোলন গড়ে তুলতে কাজী মনিরুজ্জামান মনির ও অ্যাডভোকেট আবুল কালামের ব্যর্থতার কারণে আবারো লাইমলাইটে আসেন অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। সর্বশেষ অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার জেলা বিএনপির সাংগঠনিক দায়িত্ব দেয় কেন্দ্র। তবে এতে জেলা ও মহানগর বিএনপির দুই কর্ণধার কাজী মনিরুজ্জামান মনির ও অ্যাডভোকেট আবুল কালাম যে নাখোশ সেটা তাদের কর্মকান্ডেই পরিস্ফুট হয়ে পড়েছে বলেই মনে করছেন দলটির নেতাকর্মীরা। তবে তৈমূরের সঙ্গে একত্রে কর্মসূচী পালনে জেলা ও মহানগর বিএনপির দুই কর্ণধারের যে অনীহা সেটা তারা বুঝিয়ে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অমান্য করে। মূলত তারা চান না জেলার রাজনীতিতে তৈমূর আবার ফিরে আসুক।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তৈমূর আলম খন্দকার যে কতটুকু যোগ্য ও জনপ্রিয় নেতা তা আওয়ামীলীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুখে তৈমূরের নাম শুনেই বোঝা গেছে। আর তাতে করে আবারো লাইমলাইটে উঠে এসেছেন তিনি। তাছাড়া দলের নির্দেশনাকে মেনে বারবার প্রার্থী বঞ্চিত এই নেতা এবার হয়তো দল থেকে মূল্যায়ন হতে যাচ্ছে। তবে তাকে কতটুকু মূল্যায়ন করা হবে এখন সেটাই দেখার বিষয়।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও