পালিয়েছেন কাসেমী, সক্রিয় আকরাম

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৪১ পিএম, ৯ জানুয়ারি ২০১৯ বুধবার

পালিয়েছেন কাসেমী, সক্রিয় আকরাম

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের মনির হোসাইন কাসেমী ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এস এম আকরামকে নিয়ে ক্ষোভ ছিল নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে। আর এই ক্ষোভের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল নির্বাচনের পরপরই তারা নারায়গঞ্জের রাজনীতি থেকে উধাও হয়ে যাবেন। বিপরীতে তাদের পক্ষে মাঠে নেমে পরিণতি ভুগতে হবে নেতাকর্মীদেরকে। এবার তাদের সেই অভিযোগের সত্যতা মিলেছে।

নির্বাচনের পরপরই নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি থেকে উধাও হয়ে গেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের বিএনপির নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মনোনীত প্রার্থী জমিয়ত উলামার মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী। নির্বাচনের পরে বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে তার তেমন একটা যোগাযোগ নেই। তবে এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনের বিএনপির নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মনোনীত প্রার্থী আওয়ামীলীগের সাবেক সংসদ সদস্য এস এম আকরাম। নির্বাচনের পরও তিনি বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। যদিও তিনি হচ্ছেন মাহামুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বাধীন নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা।

জানা যায়, অনেকদিন ধরেই ক্ষমতার বাইরে রয়েছে বিএনপি। ক্ষমতার বাইরে থাকা অবস্থায় নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কয়েক শতাধিক মামলা করা হয়েছে। একই সাথে এসকল মামলার আসামী করা হয়েছে কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে। ফলে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করার অনেক সতর্কতা অবলম্বন করে চলেন নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা। যতটুকু সম্ভব তারা কর্মসূচি এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন।

এরই মধ্যে এবারের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে মনির হোসাইন কাসেমী ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে এস এম আকরামকে মনোনয়ন দেয়া হয়। এদের মধ্যে এস এম আকরামকে বিএনপির নেতাকর্মীরা মেনে নিতে পারলেও মনির হোসাইন কাসেমীকে কোনভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না। কারণ নির্বাচনের ফলাফল খারাপ হলে তারা নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি থেকে বিদায় নেয়ার সম্ভাবনা ছিল। বিপরীতে তাদের পক্ষে নির্বাচনী মাঠে নামতে গিয়ে এর পরিণাম ভুগতে হবে বিএনপির নেতাকর্মীরা।

আর সেই সেই সূত্র ধরে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা মনির হোসাইন কাসেমীর পক্ষে তেমন একটা গুরুত্ব দিয়ে নির্বাচনী মাঠে নামেনি। যদিও তার পক্ষে কাজ করতে গিয়ে জেলা বিএনপির সহ সভাপতি পারভেজ আহমেদ গ্রেফতার হয়েছেন। তিনি এখনও কারাগারে আটক রয়েছেন। তবে তার কোন খোঁজ খবর রাখছেন না মনির হোসাই কাসেমী। একই সাথে বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথেও তার সকল রকমের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এস এম আকরামের পক্ষে কাজ করতে গিয়ে মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাকর্মীরাসহ অনেকেই রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলার আসামী হয়েছেন। এস এম আকরামও তাদের প্রতিদানের কথা মনে রেখেছেন। বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে তিনি নিয়মিতই যোগাযোগ করে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে বিএনপির অনেকে নেতাকর্মী এসকল মামলায় জামিনও পেয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতা জানিয়েছেন, নির্বাচনের পর এখন পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের মনোনীত মনির হোসাইন কাসেমীর সাথে বিএনপির নেতাকর্মীদের কোনো যোগাযোগ হয়নি। তবে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের মনোনীত এস এম আকরামের সাথে বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রায় নিয়মিতই যোগাযোগ হচ্ছে। তিনি নেতাকর্মীদেরকে বিভিন্নভাবে সহযোগীতা করে যাচ্ছেন।

প্রসঙ্গত নারায়ণগঞ্জ-৪ তথা ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ আসনে প্রথম থেকেই চূড়ান্ত প্রার্থীতা নিশ্চিত ছিলো শাহ আলমের। কিন্তু নির্বাচনের একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে উড়ে এসে জুড়ে বসে বিএনপির মনোনয়ন বাগিয়ে নেন জমিয়ত উলামার নেতা মনির হোসাইন কাসেমী। সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে তার হাতেই তুলে দেয়া হয় ধানের শীষ। তবে নির্বাচনে মাঠে তার কোন উপস্থিতি ছিল না।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও