দেবরদের সংসদ সঙ্গী পারভীন ওসমান

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০২:১৬ পিএম, ১০ জানুয়ারি ২০১৯ বৃহস্পতিবার

দেবরদের সংসদ সঙ্গী পারভীন ওসমান

নারায়ণগঞ্জের এমপি ভ্রাতৃদ্বয় সেলিম ওসমান ও শামীম ওসমানের বড় ভাই প্রয়াত নাসিম ওসমানের স্ত্রী পারভীন ওসমানকে সংরক্ষিত মহিলা আসনের জন্য মনোনীত করেছে জাতীয় পার্টি। বুধবার ৯ জানুয়ারি সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এরশাদের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি খন্দকার দেলোয়ার জালালী এই তথ্য জানান।

গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন শামীম ওসমান। পাশের নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকে ভোট করে বিজয়ী হন তার ভাই সেলিম ওসমান।

নারায়ণগঞ্জ সদর ও বন্দর থানা নিয়ে গঠিত সেলিম ওসমানের এই আসনে কয়েক দফায় সাংসদ ছিলেন জাতীয় পার্টির সভাপতিমন্ডলীর সদস্য নাসিম ওসমান যিনি ২০১৪ সালের ৩০ এপ্রিল মারা যান। ওই বছরের ২৬ জুন উপ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম আকরামকে পরাজিত করে সেলিম ওসমান নির্বাচিত হন যাঁদের মধ্যে গত ৩০ ডিসেম্বরও সংসদ নির্বাচনে ভোটযুদ্ধ হয়েছিল। তবে এবার আকরাম ছিলেন নাগরিক ঐক্যের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী।

নাসিম ওসমানের স্ত্রী পারভীন ওসমান এবার মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হন। শেষ পর্যন্ত দেবর সেলিম মনোনয়ন পেলেও বঞ্চিত হন ভাবি পারভীন। তবে দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বঞ্চিত করলেন না পারভীন ওসমানকেও। তাকে করা হয়েছে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য।

নারায়ণগঞ্জে ওসমান পরিবারের গোড়াপত্তন করেন সেলিম ও শামীম ওসমানের দাদা এম ওসমান আলী। ১৯২০ এর দশকে তিনি কুমিল্লা থেকে নারায়ণগঞ্জে আসেন। তার সম্পর্কে যা জানা যায় তা হলো, রাজনীতি, ব্যবসা, সমাজসেবা ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে ওসমান আলী তখন থেকেই নারায়ণগঞ্জে সুপরিচিত হয়ে উঠেন।

ওসমান আলী ১৯৩৮ সালে নিজ গ্রামে একটি প্রাথমিক ও একটি উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জের তানজিম মুসাফিরখানা, রহমতুল্লাহ অডিটোরিয়াম ও গণপাঠাগার নির্মাণে তার অবদান ছিল। এসব জনহিতকর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ব্রিটিশ সরকার তাকে ১৯৪০ সালে ‘খান সাহেব’ উপাধিতে ভূষিত করে। কিন্তু ব্রিটিশ সরকারের দমননীতির প্রতিবাদে তিনি ১৯৪৪ সালে উপাধি বর্জন করেন। ব্রিটিশদের উপাধি বর্জনের সাহসী সিদ্ধান্তের জন্যও সেসময় তিনি সমানভাবে প্রশংসিত হন।

লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পাকিস্তান আন্দোলন শুরু হলে ওসমান আলী নারায়ণগঞ্জে আন্দোলনকে সংগঠিত করেন এবং বামপন্থী ও অন্যান্য স্থানীয় নেতাদের সহযোগিতায় সেখানে সা¤প্রদায়িক স¤প্রীতি বজায় রাখার চেষ্টা করেন। ১৯৪৬ সালে নারায়ণগঞ্জে ‘ঝুলন যাত্রা’কে কেন্দ্র করে সা¤প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হলে হিন্দু ও মুসলমানদের সমঝোতায় আনতে তিনি ভূমিকা রাখেন।

ওসমান আলী ১৯৪৬ সালে সাধারণ নির্বাচনে (নারায়ণগঞ্জ দক্ষিণ নির্বাচনী এলাকা) ঢাকার নবাব খাজা হাবিবুল্লাহকে পরাজিত করে বঙ্গীয় প্রাদেশিক আইনসভার সদস্য নির্বাচিত হন। এ সময় তিনি নারায়ণগঞ্জ শহর মুসলিম লিগের সভাপতি এবং ঢাকা জেলা মুসলিম লিগের সহ-সভাপতি ছিলেন। ১৯৪২ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত তিনি নারায়ণগঞ্জ শহর মুসলিম লিগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর ঢাকা জেলা মুসলিম লিগে ঢাকার নবাবদের সঙ্গে প্রগতিশীল গ্রুপের মতবিরোধ দেখা দেয়। এ বিরোধে ওসমান আলী প্রগতিশীল গ্রুপকে সমর্থন করেন এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে নারায়ণগঞ্জে গণসংবর্ধনা দেন।

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন প্রতিষ্ঠিত পাকিস্তানের প্রথম বিরোধী দল আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা-সদস্য ছিলেন এম ওসমান আলী। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ সেসময়ের রাজনীতিবিদরা তাকে অত্যন্ত সমীহ করতেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তার বিশেষ ভূমিকা ছিল। এ জন্য তিনি কারারুদ্ধ হন। ১৯৬২ সালের শাসনতান্ত্রিক আন্দোলন, ছয়দফা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে ওসমান আলী সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

বাবার পথ ধরেই রাজনীতিতে এসে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন ওসমান আলীর বড় ছেলে একেএম সামসুজ্জোহা। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে নির্বচনে তিনি সাংসদ হন। বঙ্গবন্ধুর সাথে রাজনীতির ময়দানে থাকা সামসুজ্জোহা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। মৃত্যুর ২৯তম বার্ষিকীতে এসে ২০১৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তাকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করা হয়।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও