দুটি উপজেলায় চেয়ারম্যান হতে আওয়ামী লীগ নেতাদের তৎপরতা

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৩৬ পিএম, ১০ জানুয়ারি ২০১৯ বৃহস্পতিবার

দুটি উপজেলায় চেয়ারম্যান হতে আওয়ামী লীগ নেতাদের তৎপরতা

আসন্ন উপজেলা নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের দুটি উপজেলাতে শুরু হয়েছে আগাম তৎপরতা। চেয়ারম্যান হতে ইতোমধ্যে আগ্রহীরা বিভিন্নজনের দারস্থ হতে শুরু করেছেন। চেষ্টা করছেন সেখানকার এমপিদের দৃষ্টি সমর্থন পেতে। কারণ প্রার্থীদের মতে, এমপিরা সদয় হলেই চেয়ারম্যান হওয়া সম্ভব।

জানা যায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষ করেই এবার প্রায় ৫০০ উপজেলায় নির্বাচন আয়োজন করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমদিকে এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।

স্থানীয় সূত্র বলছে, এবারের উপজেলা নির্বাচনে বন্দর উপজেলায় জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে মাঠে রয়েছেন মদনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: এম এ সালাম, বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন আহমেদ ও কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধান। অপরদিকে আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন বন্দর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম এ রশিদ।

এদের মধ্যে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী এম এ রশিদের আওয়ামীলীগের একজন ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিতি রয়েছে। জাতীয় পার্টির বর্তমান সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের বিজয় অর্জন করার ক্ষেত্রেও তার অবদান রয়েছে। একই সাথে এম এর রশিদ ২০১৪ সালের ৯ জুন অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছিলেন। কিন্তু স্থানীয় এমপির সমর্থন না থাকায় তার জয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়ে উঠেনি। এই নির্বাচনে এম এ রশিদ ৯ হাজার ৭৬১ ভোট পেয়ে চতুর্থ স্থান অর্জন করেছিলেন।

অন্যদিকে জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী মদনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: এম এ সালাম ও কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধান ২০১৪ সালের উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন। সেই নির্বাচনে দেলোয়ার হোসেন প্রধান ১১ হাজার ১৩২ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় এবং এমএ সালাম (ঘোড়া) ১০ হাজার ৮৮১ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছিলেন।

ফলশ্রুতিতে উপজেলা নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বন্দর উপজেলার মনোনয়ন প্রত্যাশীদের নিয়ে আলাপ আলোচনা সরগরম হয়ে উঠছে। গত উপজেলা নির্বাচনে স্থানীয় এমপি সেলিম ওসমান প্রতক্ষ্যভাবে আওয়ামীলীগের প্রার্থীর সমর্থন না দিলেও এবার তিনি কাকে সমর্থন দিবেন সেটা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা গুঞ্জন ভেসে বেড়াচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি কাকে সমর্থন দিবেন সেটাই এখন লক্ষ্যণীয় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ তার সমর্থন যার পক্ষে যাবে উপজেলা নির্বাচনে বিজয় অর্জন করা তার জন্য তততাই সহজ হয়ে যাবে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালের জানুয়ারীতে অনুষ্ঠিত হয় সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচন। সে নির্বাচনে বিএনপির আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস চেয়ারম্যান নির্বাচিত  হয়েছিলেন। পরবর্তীতে সদর উপজেলার কিছু এলাকা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন গঠন হওয়ায় ওই সব এলাকা বাদ দিয়ে উপজেলা পরিষদ আইন ১৯৯৮ (২০০৯ সনের ৩০ জুন সংশোধিত) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার সদর উপজেলা পুনর্গঠন করে। ২০১৪ সালের ৪ মার্চ এ সংক্রান্ত একটি গেজেট প্রকাশ করা হয়।

এদিকে কয়েকটি এলাকা বাদ দিয়ে উপজেলা গঠন হওয়ায় গত বছর ৬ এপ্রিল উচ্চ আদালতে একটি রিট করা হয়। আদালতে রিট করার পেছনের কারিগর বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান এ কথা আড়ালে আবঢালে স্বীকার করেছেন অনেক বিএনপি নেতা। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এ জটিলতার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। তখন নির্বাচন নিয়ে আর কোন বাধা থাকবে না।

এরই মধ্যে এবারের সদর উপজেলার নির্বাচনে নাম শোনা যাচ্ছে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির জেলার সভাপতি চন্দন শীল, মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজাম ও সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলালের নাম। নির্বাচনী মাঠের শেষ হিসেব নিকেশ অনুযায়ী তারাই এগিয়ে রয়েছেন। যদিও চন্দন শীলের ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছেন তিনি চাচ্ছেন না উপজেলার চেয়ারম্যান হতে।

এর আগে চন্দন শীলকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বানানোর চেষ্টা করেছিলেন শামীম ওসমান। কিন্তু শেষতক অনেক নাটকীয়তার পর সেখানে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনকে মনোনয়ন ও পরে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান হয়েছেন। আওয়ামী লীগের একটি অংশ চাচ্ছে পুরস্কার হিসেবে চন্দন শীলকে চেয়ারম্যান প্রার্থী ও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দিতে।  আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরাও মনে করছেন, ১৬ জুন চাষাঢ়া আওয়ামী লীগ অফিসে বোমা হামলায় দুই পা হারানো চন্দন শীলকে পুরস্কার ও ত্যাগের প্রতিদান স্বরূপ চেয়ারম্যান মনোনয়ন দেওয়া উচিত।

একই সাথে শামীম ওসমানের ঘনিষ্টজনদের একটি গ্রুপ চাচ্ছেন মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজামকে চেয়ারম্যান প্রার্থী করতে।

এদিকে আওয়ামীলীগের অপর একটি অংশ চাচ্ছেন মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলালকে সদর উপজেলার চেয়ারম্যান হিসেবে। আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে হেলাল ও তার পরিবারের ত্যাগ অনুযায়ী মূল্যায়ন করা উচিত বলে মনে করছেন এই মহলটি। তাছাড়া নারায়ণগঞ্জ সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রাজু আহমেদের পক্ষেও চলছে প্রচারণা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামীলীগের শাসনামলে শামীম ওসমানের যারা ভরসার পাত্র ছিলেন তাদের মধ্যে একজন গোলাম সারোয়ার যিনি ইতোমধ্যে ইন্তেকাল করেছেন। তিনি ছিলেন এক সময়ের শহর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। সারোয়ার ছাড়াও তার ছোট ভাই জাকিরুল আলম হেলাল ওইসময়ে সরকারী তোলারাম কলেজের জিএস ছিলেন। বর্তমানে সেই জাকিরুল আলম হেলাল মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে রয়েছেন। তার ছোট ভাই শাহাদাৎ হোসেন সাজনু নগর যুবলীগের সভাপতি পদে রয়েছেন। তার নেতৃত্বে মহানগর যুবলীগের কমিটি আসছে বলেই মনে করছেন সকলে। আর সর্বশেষ ভাগ্নে মোঃ জুয়েল হোসেন মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি পদে আসীন হয়েছেন।

জানা গেছে, ২০০১ সালের ৩০ অক্টোবর সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভরাডুবির পর যখন নেতাকর্মীরা দেশত্যাগ করে তখন রাজধানীতেই ছিলেন হেলাল ও সাজনুরা। যদিও এর আগে ড্রেজারের একটি টেন্ডারকে কেন্দ্র করে প্রয়াত নুরুল আমিন মাকসুদ ও সারোয়ার গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলিতে শহরের খানপুর এলাকার লিটন নামের যুবক প্রাণ হারায়। ওই মামলায় সারোয়ার পরিবারকে বেশ হেনস্থার শিকার হতে হয়। তবে তার পরে ও ২০০১ এর পরে রাজধানীতে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে শামীম ওসমানের পক্ষে প্রথম স্লোগান তুলে মিছিল বের করেছিল হেলাল। এসব কারণে মহানগর আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী পদে হেলালও পোড়খাওয়া নেতা হিসেবে পরীক্ষিত। তাছাড়া সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে রয়েছে বিপুল সংখ্যক কর্মীবাহিনী।

সে হিসেবে মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলালকেই সদর উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে চাচ্ছেন আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও