১০ দিনের ব্যবধানে আবারো তৈমূরের নাম উচ্চারণ করলেন প্রধানমন্ত্রী

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৪:৫৮ পিএম, ১১ জানুয়ারি ২০১৯ শুক্রবার

১০ দিনের ব্যবধানে আবারো তৈমূরের নাম উচ্চারণ করলেন প্রধানমন্ত্রী

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী ও নারায়ণগঞ্জ-১ তথা রূপগঞ্জ আসনে গোলাম দস্তগীর গাজীকে জয়ী করাতেই তৈমূর আলম খন্দকারকে বার বার কোরবানী দেওয়া হয়েছে মনে করছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। কারণ গত ১০ দিনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কণ্ঠে দুই দফা তৈমূর আলম খন্দকারের নাম উচ্চারিত হয়েছে। তিনি দুটি অনুষ্ঠানেই বোঝানোর চেষ্টা করেছেন দল তৈমূর আলম খন্দকারকে মনোনয়ন না দিয়ে যথার্থ কাজ করেনি। তৈমূর আলম খন্দকার জনপ্রিয়দের একজন বিএনপিতে।

সবশেষ ১০ জানুয়ারী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যারা নমিনেশন নিয়ে ট্রেড (বাণিজ্য) করেছে, অকশন (নিলাম) করেছে, তারা কী করে আশা করে যে নির্বাচনী জয়ী হবে। সিলেটে ইনাম আহমেদ চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি, যে বেশি টাকা দিয়েছে তাকেই নমিনেশন দেওয়া হয়েছে। ইনাম আহমেদ চৌধুরীকে নমিনেশন দিলে তিনি হয়তো জিততে পারতেন। ধামরাইয়ে আতাউর রহমান খানের ছেলে জিয়াউর রহমান খান নমিনেশন পাবে বলেই ধারণা ছিল। তিনি হয়তো জিততেনও কিন্তু তাকে নমিনেশন দেওয়া হয়নি, নারায়ণগঞ্জে তৈমুর আলম খন্দকারকে নমিনেশন দেওয়া হয়নি- এরকম আরও অনেক জায়গায় তারা যে বেশি টাকা দিয়েছে তাকে নমিনেশন দিয়েছে।’

এর আগে ৩১ ডিসেম্বর গণভবনে গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেখতে আসা দেশি বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং বিদেশি গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে শেখ হাসিনা বিএনপির প্রার্থীতা বাছাই প্রসঙ্গে তৈমূর আলম খন্দকারের নাম উচ্চারণ করে নিজের মতামত জানান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তখন বলেন, ‘যে বেশি টাকা দিতে পেরেছে সেই মনোনয়ন পেয়েছে এবং এ কারণে তারা তাদের অনেক জয়ী হওয়ার যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়নি। এমন অনেকেই মনোনয়ন পাননি। ‘আমি উদাহরণ দিয়ে দেখাতে পারি, ঢাকার ধামরাইয়ে জিয়াউর রহমান তাদের যোগ্য প্রার্থী ছিলেন, কিন্তু তিনি মনোনয়ন পাননি। নারায়ণগঞ্জের তৈমূর আলম তিনিও তাদের বিজয়ী প্রার্থী হতে পারতেন। তাঁকেও  মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। সিলেটে তাদের বিজয়ী হওয়ার মতো নেতা ইনাম আহমদ চৌধুরীকেও তারা মনোনয়ন দেয়নি।’

এখানে উল্লেখ্য যে, এর আগে এবারের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসন থেকে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। কিন্তু তাকে বিএনপি দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়নি। প্রাথমিক বাছাইপর্বে রাখলেও চূড়ান্ত পর্যারে গিয়ে তৈমূর আলম খন্দকারকে রাখা হয়নি। ফলে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির অনেক নেতাকর্মীদের মাঝেই ক্ষোভ রয়েছে।

এর আগে ২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে তৈমূর আলম খন্দকারকে বিএনপি থেকে সমর্থন দেয়া হয়েছিল। তিনিও বেশ জোরালোভাবেই নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন। নির্বাচনী মাঠে রাত দিন পরিশ্রম করে জয়ের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। শুধুমাত্র ভোটগ্রহণ বাকী ছিল। সকলেরই ধারণা করে নিয়েছিলেন অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারই হবেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র। কিন্তু ভোটের মাত্র ৭ ঘণ্টা আগে তাকে বসিয়ে দেওয়া হয়। ওই সময়ে অনেকেরই মন্তব্য ছিল অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারকে গোসল ছাড়াই কোরবানী দেওয়া হয়।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও

আরো খবর