অনিশ্চয়তায় কায়সার মৌসুমী পলাশের রাজনীতি

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:১৩ পিএম, ১১ জানুয়ারি ২০১৯ শুক্রবার

অনিশ্চয়তায় কায়সার মৌসুমী পলাশের রাজনীতি

নারায়ণগঞ্জে ক্ষমতাসীন মহাজোটের তিন রাজনৈতিক নেতার রাজনীতি ক্রমশ অনিশ্চয়তার পথে এগুচ্ছে। দলের বিশৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টি দলের তিন মনোনয়ন বঞ্চিতকে দল থেকে কৌশলে মাইনাস করার পথে। এদের মধ্যে কয়েকজন বেশ কিছু কর্মকান্ডে ইতোমধ্যে বিতর্কিত হয়েছেন। তাতে করে এসব রাজনীতিক নেতাদের রাজনীতি অনেকটা অনিশ্চয়তার দিকে এগোচ্ছে।

সেই মাইনাসের তালিকায় রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের আওয়ামীলীগ দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত শ্রমিকলীগ নেতা কাউসার আহম্মেদ পলাশ, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের আওয়ামীলীগ দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী ও সাবেক সাংসদ কায়সার হাসনাত ও একই আসনের জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের পালিত কন্যা অনন্যা হুসেইন মৌসুমী। এরা সবাই দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে চেয়েছিল। কিন্তু শেষতক তা আর হয়ে ওঠেনি। আর দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের শাস্তিস্বরুপ সব সময় দলের পদ পদবী থেকে মাইনাস করা হয়। এমনকি দল থেকেও বহিষ্কার করা হয়।

এরই মধ্যে সংরক্ষিত আসনের নারী এমপি হওয়ার প্রচেষ্টা ছিলেন মৌসুমী ও কায়সারের স্ত্রী। কিন্তু জাতীয় পার্টি নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রয়াত এমপি নাসিম ওসমানের স্ত্রী পারভীন ওসমানকে এমপির মনোনয়ন দিয়েছেন।

জানা গেছে, ‘মহাজোটের আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টি দল দুটো একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কেন্দ্র থেকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়ার পরও মনোনয়ন বঞ্চিতরা বিদ্রোহীতার দিকে এগিয়ে চলে। এতে করে বিদ্রোহীতার কোন সুযোগ নেই বলে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা কঠোর হুশিয়ারী করে দেয়। কিন্তু তারপরও দলের অনেককেই তাদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকতে দেখা যায়।

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে আওয়ামীলীগ দলটির শরীক দল জাতীয় পার্টি থেকে লিয়াকত হোসেন খোকাকে মনোনয়ন দেয়া হয়। কিন্তু দলের মনোনয়ন বঞ্চিত আওয়ামীলীগ দলীয় সাবেক সাংসদ কায়সার হাসনাত বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যায়। তবে শেষতক চাপের মুখে নির্বাচনের মাত্র এক দিন আগে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ায়।

অন্যদিকে এই আসনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের পালিত কন্যা অনন্যা হুসেইন মৌসুমীও মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার প্রত্যায় ব্যক্ত করেও তিনি রহস্যজনক কারণে চুপসে যায়।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামীলীগ দলটি থেকে সাংসদ শামীম ওসমানকে মনোনয়ন দেয়া হয়। তবে সেই আসনে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে শ্রমিক লীগ নেতা কাউসার আহম্মেদ পলাশ স্বতন্ত্রের পথে এগুলেও শেষ পর্যন্ত বাছাই পর্বে তার মনোনয়ন বাতিল হয়ে যায়।

নির্বাচনের মনোনয়ন ইস্যুতে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে দুর্ধর্ষ ও বিতর্কিত শ্রমিকলীগ নেতা কাউসার আমম্মেদ পলাশ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র দাখিল করে আওয়ামীলীগের প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনাকে ড্যামকেয়ার করে মনোনয়নপত্র দাখিল করে। তাছাড়া এই নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজী, সন্ত্রাসীপনা সহ প্রভাব বিস্তারের কারণে বেশ বিতর্কিত হয়েছেন। এছাড়া সম্প্রতি শ্রমিক অসন্তোষের নেপথ্যে একমাত্র অদ্বিতীয় শ্রমিক নেতা হিসেবে পরিচিত পলাশের নাম উঠে আসছে। এতে করে নানা কারণে বিতর্কিত এই নেতা নির্বাচনের মনোনয়ন ইস্যুতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছে। এতে করে দলের পদ পদবী থেকে মাইনাস হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের আওয়ামীলীগ দলীয় সাবেক সাংসদ কায়সার হাসনাত স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত চাপের মুখে তা আর হয়ে উঠেনি। তবে ততক্ষণে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের তকমা ঠিকই ললাটে একে গেছে। একই আসনের জাতীয় পার্টি দলটির মনোনয়ন বঞ্চিত অনন্যা হুসেইন মৌসুমী স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে দলীয় নীতিনির্ধারকদের সাথে বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে। এমনকি তাদের নিয়ে বিরুপ মন্তব্য করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। এতে তার বিরুদ্ধে মামলা পর্যন্ত হয়েছে। আর সোনারগাঁ জাতীয় পার্টির সভাপতি পদ থেকে তাকে বাদ দিয়ে নতুন কমিটি গঠন করা হয়। পরে অবশ্য রহস্যজনক কারণে তিনি আর স্বতন্ত্র প্রার্থী হননি।

জানা গেছে, আওয়ামীলীগ দলটির মধ্যে মনোনয়ন ইসুকে কেন্দ্র করে কোন্দাল নিরসনের লক্ষ্যে নীতিনির্ধারকেরা দলের নির্দেশনার বাইরে যাওয়ার ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা সহ হুঁশিয়ারি করে দেন। এতে করে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই বলে দলটির শীর্ষ পদীয় নেতারা জানান।

ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনোনয়ন ইস্যুতে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘জনপ্রিয় ও যোগ্য নেতাদের মনোনয়ন দেয়া হবে। তবে দল যাকেই মনোনয়ন দিবে সবাইকে তার পক্ষে কাজ করতে হবে। দলের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখতে হবে। আর দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই।’

সূত্র বলছে, ‘ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ দলটি পূর্বে থেকে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে না যাওয়ার কঠোর নির্দেশনা দিয়ে আসছিল। কিন্তু শেষতক অনেকেই সেই পথে পা বাড়ায়। যদিও সফল কেউই হতে পারেনি। কিন্তু সেই পথে পা বাড়ানোর মানে হচ্ছে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করা। সেকারণে দল থেকে এসব নেতাদের দলীয় পদ পদবী থেকে মাইনাস করা হতে পারে। এমনকি কোন কোন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার পর্যন্ত করা হতে পারে। আর জাতীয় পার্টি দলটি কোন ধরনের নির্দেশনা ছাড়াই মৌসুমীকে দলের বিভিন্ন পদ থেকে মাইনাস করেছেন। তবে এখনো কেন্দ্রীয় পদ রয়ে গেছে। এতে করে আগামীতে সেই পদেও হানা পড়তে পারে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘মহাজোট দলটি টিকে থাকার পেছনে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয়টিকে কঠোরভাবে দেখা হয়। যেকারণে দলটি টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় টিকে আছে। এবারো তার ব্যাতয় ঘটবেনা। যেকারণে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এসব নেতাদের বিরুদ্ধে আরো কঠোর সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।’


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও