প্রধানমন্ত্রীর চোখে যোগ্য তৈমূর বিএনপিতে অযোগ্য

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৩৩ পিএম, ১১ জানুয়ারি ২০১৯ শুক্রবার

প্রধানমন্ত্রীর চোখে যোগ্য তৈমূর বিএনপিতে অযোগ্য

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার বারবার আওয়ামীলীগ দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চোখে যোগ্য হলেও বিএনপি দলপি দলটি কাছে তিনি বরাবর অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত  হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিত তৈমূরকে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে বিজয় সম্ভাব্য প্রার্থী বলে উল্লেখ করে আসছেন। এতে করে আওয়ামীলীগ দলীটির কাছে তিনি যোগ্য হলেও বিএনপি দলটি তাকে কখনো সেভাবে মূল্যায়ন করেননি। উল্টো পদ পদবী সহ টানা ৪ বার নির্বাচন করা থেকে বঞ্চিত করেছেন।

এতে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তৈমূরের মত যোগ্য ব্যক্তিকে বিএনপি দলটি যথাযথ মূল্যায়ন না করার ফলে দলটির নড়াদশা দেখা দিয়েছে। আর তাতে তৈমূরের মত যোগ্য ব্যক্তিরা অবমূল্যায়িত হয়ে হারিয়ে যাচ্ছে।

দলের নেতাকর্মীরা বলছেন, দলের ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতা হিসেবে সবাই তৈমূরকে চিনে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে বারবার তার ঝুড়িতে ব্যর্থতার পাল্লা ভারী হচ্ছে। তিনি কেন বারবার অবমূল্যায়িত হচ্ছে তা কারো বোধগম্য নয়। তবে এই নেতাকে অবমূল্যায়ন করে কেন্দ্রীয় নেতারা দলকে ঠকাচ্ছে।

তারা বলছেন, ‘বিএনপি দলটি তৈমূরকে যোগ্য না মনে করলেও ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে বারবার যোগ্য নেতা হিসেবে বিবেচনা করে সম্ভাব্য বিজয়ী প্রার্থী হিসেবে তাকে উল্লেখ্য করছেন। এবং তার চোখে তৈমূর ঠিকই যথাযথ যোগ্য নেতা ও প্রার্থী হয়েছেন। এতে করে বিএনপি দলটির ভুলগুলো অনেকটা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা।’

জানা গেছে, ‘একাদশ জাতীয় সংসংদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসন থেকে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। কিন্তু তাকে বিএনপি দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়নি। প্রাথমিক বাছাইপর্বে রাখলেও চূড়ান্ত পর্যারে গিয়ে তৈমূর আলম খন্দকারকে রাখা হয়নি। ফলে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির অনেক নেতাকর্মীদের মাঝেই ক্ষোভ রয়েছে।

সবশেষ ১০ জানুয়ারী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যারা নমিনেশন নিয়ে ট্রেড (বাণিজ্য) করেছে, অকশন (নিলাম) করেছে, তারা কী করে আশা করে যে নির্বাচনী জয়ী হবে। সিলেটে ইনাম আহমেদ চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি, যে বেশি টাকা দিয়েছে তাকেই নমিনেশন দেওয়া হয়েছে। ইনাম আহমেদ চৌধুরীকে নমিনেশন দিলে তিনি হয়তো জিততে পারতেন। ধামরাইয়ে আতাউর রহমান খানের ছেলে জিয়াউর রহমান খান নমিনেশন পাবে বলেই ধারণা ছিল। তিনি হয়তো জিততেনও কিন্তু তাকে নমিনেশন দেওয়া হয়নি, নারায়ণগঞ্জে তৈমুর আলম খন্দকারকে নমিনেশন দেওয়া হয়নি- এরকম আরও অনেক জায়গায় তারা যে বেশি টাকা দিয়েছে তাকে নমিনেশন দিয়েছে।’

এর আগে ৩১ ডিসেম্বর গণভবনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেখতে আসা দেশি বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং বিদেশি গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে শেখ হাসিনা বিএনপির প্রার্থীতা বাছাই প্রসঙ্গে তৈমূর আলম খন্দকারের নাম উচ্চারণ করে নিজের মতামত জানান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তখন বলেন, ‘যে বেশি টাকা দিতে পেরেছে সেই মনোনয়ন পেয়েছে এবং এ কারণে তারা তাদের অনেক জয়ী হওয়ার যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়নি। এমন অনেকেই মনোনয়ন পাননি। ‘আমি উদাহরণ দিয়ে দেখাতে পারি, ঢাকার ধামরাইয়ে জিয়াউর রহমান তাদের যোগ্য প্রার্থী ছিলেন, কিন্তু তিনি মনোনয়ন পাননি। নারায়ণগঞ্জের তৈমূর আলম তিনিও তাদের বিজয়ী প্রার্থী হতে পারতেন। তাঁকেও  মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। সিলেটে তাদের বিজয়ী হওয়ার মতো নেতা ইনাম আহমদ চৌধুরীকেও তারা মনোনয়ন দেয়নি।’

জানা গেছে, চারবার নির্বাচন করতে গিয়ে ব্যর্থ হলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি তৈমূর আলম খন্দকার। কখনো নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে কোরবানি হয়েছে এই বর্ষীয়ান নেতা। আবার কখনো মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন।

২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে তৈমূর আলম খন্দকারকে বিএনপি থেকে সমর্থন দেয়া হয়েছিল। নির্বাচনী মাঠে রাত দিন পরিশ্রম করে জয়ের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। কিন্তু ভোটের মাত্র ৭ ঘণ্টা আগে তাকে বসিয়ে দেওয়া হয়। ওই সময়ে অনেকেরই মন্তব্য ছিল অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারকে গোসল ছাড়াই কোরবানী দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ২০০৭ সালে ওয়ান এলেভেনের পর নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন পান তৈমূর আলম খন্দকার। সেবার কেন্দ্রীয় ভাবে বিএনপি জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায় তৈমূর আলম খন্দকার নিবার্চন থেকে সরে দাঁড়ান।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও