এবার দর্শক হচ্ছে বিএনপি

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:১১ পিএম, ১২ জানুয়ারি ২০১৯ শনিবার

এবার দর্শক হচ্ছে বিএনপি

নানা আলোচনা সমালোচনার মধ্য দিয়ে গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়ে গেল একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি তেমন কোন অবদান রাখতে পারেনি। সারাদেশের মতো নারায়ণগঞ্জ বিএনপিও অনেকটা নিস্ক্রিয়ভাবে নির্বাচনের সময়কাল অতিবাহিত করেছেন। সেই নির্বাচনের পর এবার উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করছে না। ফলে একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নেতাকর্মীরা মাঝে মাঝে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করলেও এবার উপজেলা নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ বিএনপিকে নিরব দর্শক হয়ে থাকতে হচ্ছে।

জানা যায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষ করেই এবার প্রায় ৫০০ উপজেলায় নির্বাচন আয়োজন করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমদিকে এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার সম্ভাবনা রয়েছে। দলের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই উপজেলা নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণের ব্যাপারে অনেকটাই অনিশ্চয়তা রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ সদর ও বন্দর উপজেলার বিএনপি থেকে নির্বাচিত বর্তমান চেয়ারম্যান যথাক্রমে আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস ও আতাউর রহমান মুকুলেরও এবারের উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহনের ইচ্ছা নেই। সেই সূত্র ধরে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীদের ভূমিকা থাকবে নিরব দর্শকের মতো।

সূত্র বলছে, দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে রয়েছে বিএনপি। আর এই ক্ষমতার বাইরে থাকাবস্থায় নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা একের পর এক ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে আসছেন। দলীয় আন্দোলন সংগ্রামসহ কোন কর্মসূচিতেই নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীদেরকে জাগানো সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীদের তেমন কোন ভূমিকা রাখতে দেখা যায়নি। শুধুমাত্র মনোনীত প্রার্থীদেরকেই মাঝে মাঝে সংশ্লিষ্ট এলাকায় দেখা মিলেছে। তাদের ছাড়া অন্য কোন নেতাকর্মীদেরকে তেমন কোন ভূমিকা রাখতে দেখা যায়নি। এমনকি শীর্ষ পদে থাকা নেতারাও নিস্ক্রীয় ভূমিকা পালন করেছেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল নরায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান, নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে বিএনপির সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনে জেলা বিএনপির সহ সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বিএনপির নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে জমিয়ত উলামা নেতা মনির হোসাইন কাসেমী এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা সাবেক সংসদ সদস্য এস এম আকরাম।

এসকল মনোনীত প্রার্থীরা দলীয় প্রতিক পাওয়ার পর থেকেই সংসদীয় এলাকায় প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে এই প্রচার প্রচারণায় তারা সবসময় বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থীদের চেয়ে পিছিয়ে ছিলেন। এই নির্বাচনকে ঘিরেও নারায়ণগঞ্জ বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা জেগে উঠতে পারেননি। শুধুমাত্র প্রার্থীদেরকেই সংসদীয় এলাকায় মাঝে মধ্যে দেখা গেছে। তাদের সাথে জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তেমন একটা দেখা যায়নি। যদিও তাদের অভিযোগ, তাদের বিরুদ্ধে অনেক মামলা রয়েছে।

তবে তৃণমূল পর্যায়ের মতে, সদিচ্ছা থাকলে মামলাকে উপেক্ষা করেও প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনী মাঠে নামা যেত। জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে গণমানুষের কাছে পৌছাতে পারলে অবশ্যই সাড়া পাওয়া যেত। আর সাধারণ মানুষের মাঝে সাড়া জাগাতে পারলে এই শক্তির মাঝে অন্য কোন শক্তি ঠিকে থাকতো পারতো না। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীদের দ্বারা সেটা সম্ভব হয়নি।

ফলশ্রুতিতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যর্থতার পর এবার উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেয়ায় নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীদেরকে নিরব দর্শক হয়েই থাকতে হচ্ছে। রাজনীতিতে তারা তেমন একটা সক্রিয় হয়ে উঠার সুযোগ পাচ্ছে না।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও