পলাশের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:১৬ পিএম, ১২ জানুয়ারি ২০১৯ শনিবার

পলাশের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ

জাতীয় শ্রমিকলীগের শ্রমিক উন্নয়ন ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক এবং ইউনাইটেড ফেডারেশন অব গার্মেন্ট ওয়ার্কার্স কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সভাপতি কাওসার আহাম্মেদ পলাশের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে অভিযোগ প্রদান করেছেন বিকেএমইএ’র সাবেক প্রথম সহসভাপতি ও ক্রোনি গ্রুপের মালিক এএইচ আসলাম সানি। সম্প্রতি পলাশের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ এনে কারখানা বন্ধের পায়তারার অভিযোগ করেছেন তিনি।

অভিযোগে এএইচ আসলাম সানি উল্লেখ করেন, আমি একজন শিল্প উদ্যোক্তা। ১৯৯২ সাল থেকে আমি বিদেশে প্রস্তুত পোশাক রপ্তানী করে আসছেন। বর্তমানে আমার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে ১৫ হাজার শ্রমিক কর্মরত রয়েছে। আমরা বাৎসরিক প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার পণ্য রপ্তানী করে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করে রপ্তানী খাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে শ্রমিক নেতা খ্যাত কাওসার আহাম্মেদ পলাশ তার মোবাইল নাম্বার (০১৭১১-৩৩২০৯৬) থেকে আমার (আসলাম সানি) দু’টি মুঠোফোনে কল করে বিভিন্ন অর্থনৈতিক দাবি করে আসছে। কাওসার আহাম্মেদ পলাশকে বার বার সহযোগী করার পরেও গত এক মাস যাবৎ বৃহৎ আকারের চাঁদা দাবি করে আসছে এবং যাহা না দিলে হাজার হাজার শ্রমিককে কাজে লাগিয়ে কারখানা বন্ধ করে দিবে এবং আমাকে (আসলাম সানি) প্রাণনাশের হুমকী দিচ্ছে। এছাড়া কাওসার আহম্মেদ পলাশের চাঁদাবাজির কারণে ফতুল্লা শিল্পাঞ্চলের পাইওনিয়ার সুয়েটার লিমিটেড অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয় যাতে ২ হাজার ৫০০ জন শ্রমিক কাজ করতো। আরো উল্লেখ্য যে গত বছর বিদ্যুৎ জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর মালিকানাধীন হামিদ ফ্যাশনও কাওসার আহম্মেদ পলাশের চাপে বন্ধ করে দিয়েছে। এছাড়া ফতুল্লার রপ্তানীমুখী টাইম সুয়েটার্স, র‌্যাডিকেল, মেট্রো, মাইক্রোফাইবার, পলমল, লিবার্টি, মিশওয়্যারের মতো বৃহৎ কারখানাও বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল যা আজো চালু করা যায়নি।

এমতাবস্থায় আমরা বিকেএমইএ ও বিজেএমইএ’র নেতৃস্থানীয়দের জানাই এবং তাদের পরামর্শে ও দেশের স্বার্থে আমাদের শিল্প কারখানা চালু রাখার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। আমরা দেশের মূল অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে ও রপ্তানী অব্যাহত রাখার স্বার্থে উপরেল্লিখিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে আপনার মর্জি হয়।

মালিক ও শ্রমিকরা জানান, আমরা এই ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা (ইজিবাইক) চালিয়ে কোন রকমে আমাদের পরিবার পরিজন নিয়ে জীবন যাপন করি। অথচ ব্যটারীচালিত অটোরিকশার কমিটির আহবায়ক ও জাতীয় শ্রমিকলীগের শ্রমিক উন্নয়ন ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কাউসার আহাম্মেদ পলাশের নেতৃত্বে একটি চাঁদাবাজ মহল আমাদের পেটে লাথি মেরে আমাদের পরিবারের হক নষ্ট করে জোড় জুলুম অন্যায় অত্যাচার করে আমাদের ঘাম ঝরানো অর্থ টোকেনের মাধ্যমে চাঁদাবাজী করে নিয়ে যায়। আমরা বিপদে আপদে পড়লে সড়কে কোন দুর্ঘটনা ঘটলে তারা আমাদের কোন সাহায্য সহযোগিতা করেনা অথচ সাহায্য সহযোগিতার কথা বলে প্রতিদিন আমাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে আমাদের কষ্টের উপার্জিত অর্থ। ৬ বছর আগে টোকেন বাবদ প্রতি অটোরিকশা থেকে নেয়া হয়েছে ৬ হাজার ৫০০ টাকা। ৪০০ অটোরিকশা থেকে নেয়া হয়েছে সর্বমোট ২৬ লাখ টাকা। এছাড়া প্রতি ৩০ টাকা চাঁদা হিসেবে ৪০০ টি অটোরিকশা থেকে দৈনিক ১২ হাজার টাকা যা মাসে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা যা বছরে দাড়ায় ৪৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। এছাড়া ৩০০ টাকা মাসিক চাঁদা হিসেবে প্রতি মাসে ৪০০ টি অটোরিকশা থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা যা বছরে দাড়ায় ১৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা। শ্রমিকদের কল্যাণ ফান্ডের কথা বলা হলেও গত ৬ বছরে কেউই কল্যাণ ফান্ডের কোন হিসাব পায়নি। বরং হিসাব চাওয়ায় কমিটির সদস্যদেরকেও লাঞ্ছিত করে কমিটি থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। কুতুবপুর এলাকায় ব্যটারীচালিত অটোরিকশার কমিটির আহবায়ক ও জাতীয় শ্রমিকলীগের শ্রমিক উন্নয়ন ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কাউসার আহাম্মেদ পলাশের অনুগামী আজিজুল হক, মজিবর, সালু, সোহাগসহ একটি সিন্ডিকেট চাঁদাবাজি করে আসছে। এভাবে পঞ্চবটি থেকে পাগলা রুটেও বেপরোয়াভাবে চাঁদাবাজি চলে আসছে। আমাদের গরীবের ঘাম ঝরানো এই অর্থ দিয়ে কেউ কেউ রাতারাতি বিশাল অর্থের মালিক হয়ে গেছেন।আমরা আর কোন চাঁদাবাজকে চাঁদা দিতে চাইনা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার মহোদয়ের সুদৃষ্টি কামনা করছি অচিরেই যেন আমাদের এই চাঁদা দেয়া বন্ধ হয়। আমরা স্থানীয় এমপি শামীম ওসমানকেও জানিয়েছি তিনি আমাদেরকে কাউকে চাঁদা না দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে কাউসার আহাম্মেদ পলাশ গণমাধ্যমকে জানান, চাঁদাবাজির অভিযোগ সত্য নয়। যদি এ ধরনের কোন প্রমাণ থেকে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। ব্যাটারীচালিত অটোরিকশা মালিক শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদ একটি স্বাধীন সংগঠন। এখানে কোন চাঁদাবাজি হয়না।

জানা গেছে, গত ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জে আরেক ‘নূর হোসেন ফতুল্লার গডফাদার পলাশ ও তার চার খলিফা’ শিরোনামে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়। এছাড়া পলাশের কোন নাম না থাকলেও একটি সংবাদের রেশ ধরে সময়ের নারায়ণগঞ্জ, ডান্ডিবার্তা ও অনলাইন নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকমের ৫ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ২০ কোটি টাকার মানহানি মামলা করেন ও দুইটি তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা করেন। এর মধ্যে দৈনিক যুগান্তরের ফতুল্লা প্রতিনিধি আলামিন প্রধানের বিরুদ্ধে ১০ কোটি, ইত্তেফাকের নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা ও স্থানীয় দৈনিক ডান্ডিবার্তা পত্রিকার সম্পাদক হাবিবুর রহমান বাদলের বিরুদ্ধে ৫ কোটি এবং দৈনিক সময়ের নারায়ণগঞ্জ পত্রিকার সম্পাদক জাবেদ আহমেদ জুয়েলের বিরুদ্ধে ৫ কোটি টাকার মানহানি মামলা করেন। একই সঙ্গে আলামিন প্রধান ও নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকমের নির্বাহী সম্পাদক তানভীর হোসেনের বিরুদ্ধে দুইটি ৫৭ ধারায় মামলা করেন।

ওই সংবাদ প্রকাশের পর শুধু মামলা নয় তার বাহিনীর সদস্যরা ফতুল্লায় মিছিল করে সাংবাদিকদের চামড়া তুলে নেওয়ার হুমকি দেয়।

পরে ১১ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় শহীদ মিনারে সমাবেশ করে শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা কাউসার আহমেদ পলাশ সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের কিছুটা হুশিয়ার করেছিলেন। শ্রমিকদের উপস্থিতিতে ওই সমাবেশে তিনি বলেছেন, ‘আগামীতে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যে কোন সংবাদ প্রকাশ হলে আরো মামলা দেওয়া হবে। কোন ছাড় দেওয়া হবে না। আমি ছাড় দেওয়ার মানুষ না।’

গত ৫  মে ‘এক পলাশেই সর্বনাশ’ শিরোনামে ও  নারায়ণগঞ্জে শ্রমিকলীগের নাম তা-ব, চাঁদার জন্য ৩৬ শিল্প-কারখানা বন্ধ, এলাকা ছাড়ছেন ব্যবসায়ীরা’ বিশেষণে বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয় যা নিয়ে রীতিমত তোলপাড় হয়। ওই সংবাদটিতে বলা হয়েছে, অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছেন ফতুল্লার শ্রমিক লীগ নেতা কাউসার আহমেদ পলাশ। সরকার, প্রশাসন, দল- কোনো কিছুরই তোয়াক্কা করেন না তিনি। দেশের বৃহত্তম রপ্তানি খাত নিটশিল্পের প্রধান কেন্দ্র ফতুল্লার বিসিক পল্লীর শত শত গার্মেন্ট মালিক শ্রমিক অসন্তোষের আড়ালে পলাশের চাঁদাবাজির কাছে জিম্মি। আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতা তার (পলাশ) বাড়িতে আসার পর থেকে যেন বাদশাহ হয়ে উঠেছেন তিনি।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও