কেন্দ্রের দিকে তাকিয়ে আওয়ামীলীগ বিএনপি

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:১৯ পিএম, ১২ জানুয়ারি ২০১৯ শনিবার

কেন্দ্রের দিকে তাকিয়ে আওয়ামীলীগ বিএনপি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের আওয়ামীলীগ ও বিএনপি দলটিতে নানা ভুল ও ব্যর্থতার কারণে রদবদল সহ নতুন কমিটি হতে যাচ্ছে। দুটি দলই ভবিষ্যৎ রাজনীতির কথা চিন্তা করে দলকে সাংগঠনিক দিক দিয়ে আরো শক্তিশালী করে তুলছে চাইছেন। যেকারণে বিএনপি ও আওয়ামীলীগ দলটি বিভিন্ন কমিটিগুলোতে রদবদল করতে যাচ্ছে। আর সেই রাদবদলের খবর ইতোমধ্যে দলের সকল নেতার কাছেই অনেকা ওপেন সিক্রেটে পরিণত হয়েছে। তাই পদ প্রত্যাশী নেতারা এখন কেন্দ্রের দিকে তাকিয়ে আছে।

একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি দলটির ভরাডুবির পর দলটি নীতিনির্ধারকদের টনক নড়েছে। তাছাড়া দলের পদ পদবী ধারী নেতাদের বিদ্রোহী ও ব্যর্থতার পাল্লা ভারী হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের পদধারী নেতারা নির্বাচনে তেমন কোন অবদান রাখতে দেখা যায়নি। যেকারণে জেলা ও মহানগরের অনেক পদধারী নেতাকে নিয়ে বির্তক রয়েছে। এতে করে কমিটিগুলোতে রদবদরের চিন্ত কারছে নীতিনির্ধারকরা।

বিএনপি
বিএনপির একটি সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান ও সেক্রেটারী মামুন মাহমুদের উপর ক্রমশ আস্থা হারাতে শুরু করেছেন খোদ তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। সবশেষ নির্বাচনে মামুন মাহমুদ একদিনের জন্যও কোন প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নামেনি। বিপরীতে কাজী মনিরুজ্জামানেরও কোন নির্দেশনা পায়নি নেতাকর্মীরা। সে কারণে জেলার কমিটি পুনর্গঠন হতে পারে। এখানে এবার আলোচনায় চলে আসছেন সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিন ও সোনারগাঁয়ের আজহারুল ইসলাম মান্নান। এছাড়া জেলা বিএনপির নিয়ন্ত্রক হিসেবে আসতে পারেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তৈমূর আলম খন্দকার। তাছাড়া স্টিয়ারিং কমিটিও হতে যাচ্ছে জেলা বিএনপির অদৃশ্য হিসেবে। সেখানে আড়াইহাজারের নজরুল ইসলাম আজাদ, ফতুল্লার শাহআলম ও রূপগঞ্জের মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপুর নাম রয়েছে।

অপরদিকে সংসদ নির্বাচনে মহানগর বিএনপির সভাপতি আবুল কালামের ভূমিকাতে সবাই ক্ষুব্ধ ও হতবাক। বন্দরে কালামের এলাকাতে দলেরম মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আসলেও সেখানে তিনি ছিলেন না। তবে সেক্রেটারী এটিএম কামালের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা হলেও তিনি ছিলেন সরব। সে কারণে কামালের একমাত্র ছেলেকেও একরাত থাকতে হয়েছে থানার ভেতরে আটক অবস্থায়। দলের হাই কমান্ডও কামালের প্রতি সন্তুষ্ট। পরবর্তী কমিটিতে এটিএম কামাল হতে পারেন সভাপতি। যদিও এ দৌড়ে চেষ্টা করছেন সহ সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খান। তিনিও সম্প্রতি ৫৯ দিন কারাভোগ করেছেন। তবে আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আবারো সাখাওয়াত আগ্রহী হলে তাকে সহ সভাপতির পদেই রাখতে পারে হাই কমান্ড। সেক্রেটারী পদে বর্তমান কমিটির পদত্যাগী যুগ্ম সম্পাদক মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদকেই তালিকার শীর্ষে রাখা হয়েছে। তবে তিনি আবার মহানগর যুবদলের সভাপতি থাকায় দেখা দিয়েছে প্রশ্ন। এ ক্ষেত্রে যুবদল ছাড়লেই খোরশেদকে দেওয়া হতে পারে মহানগর বিএনপির সেক্রেটারীর পদ। তাছাড়া জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুকুল ইসলাম রাজীবকেও মহানগর বিএনপির সেক্রেটারী করা হতে পারে।

জানা গেছে, সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি দলটির একটি বড় অংশ দলটির সাথে বেঈমানীকরে ক্ষতাসীনদের পক্ষে কাজ করে। আবার অনেকে পরোক্ষভাবে ক্ষমতাসীনদের পক্ষে কাজ করার জন্য আড়ালে চলে যায়। এতে করে মাঠ ফাঁকা হয়ে পড়লে ক্ষমতাসীনরা মাঠ দখলে নেয়। তাই বিএনপি দলটির নেতাদের ব্যর্থতা ও বিদ্রোহীতা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠে।

আওয়ামী লীগ
দলের একাধিক নেতা জানান, মহানগর কমিটির সভাপতি পদে বর্তমান সেক্রেটারী খোকন সাহা ও সহ সভাপতি চন্দন শীলের নাম উঠে এসেছে। তাদের মধ্যে দুইজনই পোড়খাওয়া নেতাদের অন্যতম। মাঝে খোকন সাহাকে দেখা যায় প্রভাবশালী ওসমান পরিবারের সঙ্গে বিরোধে জড়াতে। তবে পরবর্তীতে তিনি আবার নির্বাচনের আগে মিলে যান তাদের সঙ্গে। বিপরীতে কমতি নেই চন্দন শীলের ক্ষেত্রে। জেলা পরিষদের সবশেষ নির্বাচনে তাঁর নাম কেন্দ্রে পাঠানো হলেও শেষতক তিনি মনোনয়ন পাননি। তাছাড়া ২০০১ সালের ১৬ জুন চাষাঢ়া আওয়ামী লীগ অফিসে বোমা হামলায় দুই পা হারান তিনি।

সেক্রেটারী পদে বেশ কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পদ পাওয়ার তালিকায় রয়েছেন কয়েকজন। তারা হলেন মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল ও জিএম আরাফাত।

আওয়ামী লীগের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানান, জেলা কমিটিতে সেক্রেটারী হিসেবে রূপগঞ্জের উপজেলা চেয়ারম্যান শাহাজান ভূইয়া ও সোনারগাঁয়ের সাবেক এমপি আবদুল্লাহ আল কায়সারের নাম প্রস্তাব করছেন। জেলার ভবিষ্যত কমিটিতে আবু সুফিয়ান, সোনারগাঁয়ের মাহফুজুর রহমান কালাম ও আবু জাফর বিরুও ভালো অবস্থানে আসতে পারেন। তাছাড়া সিদ্ধিরগঞ্জের সাবেক পৌর প্রশাসক মতিন প্রধানওকে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হওয়া দেখা যেতে পারে।

জানাগেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ জেলার পদধারী নেতাদের অনেকে কোন ধরনের অবদান রাখেনি। নৌকার পক্ষে কাজ করেনি। তাছাড়া নিজ বলয়ের অনুগামীরা মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার ফলে অনেকে নৌকার প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নামেনি। সেই বিষয়গুলো কেন্দ্র থেকে মনিটরিং করা হয়েছে। যেকারণে নির্বাচনের পর নতুন কমিটি সহ অনেকগুলো কমিটিতে রদবদল হতে যাচ্ছে।

সূত্র বলছে, নতুন কমিটি ও রদবদলের বিষয়ে ইতোমধ্যে সবাই প্রায় অবগত হয়েগেছে। আর খুব শিঘ্রই আসতে যাচ্ছে এ পরিবর্তন। তবে এখন দলের নেতাদের মধ্যে পদ প্রত্যাশীরা কেন্দ্রের দিকে তাঁকিয়ে আছে। যেকারণে দুটো দলের নেতারা এখন দলীয় কর্মসূচির মধ্য দিয়ে স্বাভাবিক কর্মকা-ে জড়াচ্ছে। কোন ধরণের বিতর্কে জড়াচ্ছেনা। সবাই যার যার নিজ নিজ অবস্থান থেকে ত্যাগী ও যোগ্য নেতা হিসেবে নিজেকে জাহির করার চেষ্টা করছে। এর মধ্যে অনেকে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে এ ব্যাপারে আলাপ আলোচনা শুরু করে দিয়েছে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও