তৈমূরের একাল সেকাল

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:০৯ পিএম, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ বুধবার

তৈমূরের একাল সেকাল

নারায়ণগঞ্জে বিএনপির রাজনীতিতে একমাত্র মজলুম হিসেবে পরিচিত আলোচিত নেতা তৈমূর আলম খন্দকার। তবে মজলুম খেতাবটি ঘিরে অনেকের মাঝে আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইলেও কালের বিবর্তনে তা অনেকটাই বাস্তবায়িত হচ্ছে। আর মজলুম খেতাবটি যেন তার নামের আগে আরো দৃঢ় হয়ে উঠছে। কেননা, পদ পদবীতে না থেকে হামলা, মামলা, জেলা, জুলুম আর নির্যাতন সহ্যের সর্বোচ্ছ গন্ডি পেরিয়ে এই বিএনপি নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরে এসেছেন। তবে এই নির্যাতিত ও ত্যাগী নেতা অবমূল্যায়িত হলেও দলের হাল ছাড়েনি। যেকারণে সবার নজরে উঠে এসেছেন এই নেতা।

সদ্য অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দলটির ভরাডুবি দেখা যায়। এর তাতে দলটির ত্যাগী ও সুবিধাবাদী নেতাদের চরিত্র সবার সামনে উঠে আসে। আর বিএনপি দলটির দুর্দশার মধ্যে দলের হাল ধরে রাখা নেতাদের তালিকায় তৈমূরের নাম উঠে এসেছে। শত নির্যাতন ও বাধা উপেক্ষা করে দলের হাল ধরে রেখেছে এতে করে মজলুমের খেতাবের সার্থকতা ফুটে উঠেছে।

জানা গেছে, তৈমূর নিজেকে মজলুম জননেতা দাবি করে আসছিলেন। এমনকি শহরের তার মাসদাইরের বাসভবনের সম্মেলন কক্ষের নাম করণ করা হয়েছে মজলুম মিলনায়তন। আর তা নিয়ে বেশ আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইতে থাকে। তবে এবার অবমূল্যায়িত পদ পদবীহীন নেতা তৈমূর আলমের দাবিকৃত সেই মজলুম খেতাবটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

আরো জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জে বিএনপির অন্যতম হেভিওয়েট নেতার নাম বলতে গেলে প্রথম সারিতে যাদের নাম আসে আদের একজন হচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি তৈমূর আলম খন্দকার। এই প্রবীন নেতা ১৯৯৬ সাল থেকে বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত আছেন। দলের সিদ্ধান্তের কারণে বারবার বঞ্চিত হলেও বিএনপির ভালো কিংবা খারাপ সব সময় তিনি ছিলেন দলের পাশে। দলের তৃণমূলকে উজ্জীবিত করতে তার ভূমিকাই ছিল সব থেকে বেশি। ২০০৭ সালের ওয়ান ইলিভেন থেকে শুরু করে বিএনপি দলটির ক্রান্তিকাল চলছে। এই সময়ের মধ্যে দলকে আগালে রাখার পেছনে তার বিশার ভূমিকা রয়েছে। এর জন্য অসংখ্যবার তাকে জেল-জুলুম সহ্য করতে হয়েছে।

অন্যদিকে বার বার নির্বাচন করতে চেয়েও ব্যর্থ হয়েছেন তৈমূর। তার পরেও বিএনপির প্রতি তৈমূরের এখনো যে যথেষ্ট শ্রদ্ধা রয়েছে তার প্রকাশই করেছেন ২১ ডিসেম্বর বন্দরের সোনাকান্দায় ঐক্যফ্রন্টের সভায় বিশাল শো-ডাউনের মাধ্যমে উপস্থিত হয়ে তাক লাগিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে। মাঠে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করায় তার বড় ভূমিকা রয়েছে তা বলা বাহুল্য। এখনো পর্যন্ত চারবার দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে দাঁড়াতে হয়েছে তাকে। সর্বশেষ একাদশ জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হন তিনি।

তবে এই নেতা বিএনপি দলটির দুঃসময়ে শক্তহাতে দলের হাল ধরেছে। ২০১৭ সালে জেলার বিএনপির নতুন কমিটিতে তাকে বাদ দেয়া হয়। এতে করে এই নেতা মনক্ষুন্ন হয়ে ব্যাকফুটে চলে গিয়েছিল পরবর্তীতে নির্বাচনের সময় ঠিকই দলের হাল ধরেছে।

দলীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, বিএনপি দলটিতে তৈমূর আলম খন্দকার ত্যাগী নেতার প্রতীক। এরুপ নেতার জন্যই মজলুম শব্দের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকার পরেও দলের হাল ধরে রেখেছেন। এমনকি পদ পদবী হারানোর পরেও একটুও পিছপা হননি। দলকে আগলে রাখার কারণে তার উপরে নির্যাতনের খড়গ ধারাবাহিকভাবে নেমে এসেছে। তিনি আসলেই মজলুম নেতা। তিনি তার কর্মের মধ্য দিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মনে মজলুম হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও