সেকেলে নারায়ণগঞ্জের এমপিরা

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:১১ পিএম, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ বুধবার

সেকেলে নারায়ণগঞ্জের এমপিরা

যুগে যুগে জগতে গীত হয়েছে তরুণ ও তারুণ্যের জয়গান। প্রবীণের প্রজ্ঞা ও পরামর্শ, নবীনের বল, সাহস ও উদ্দীপনায় পৃথিবীতে আসে পরিবর্তন। অসম্ভবকে সম্ভব করতে ঝুঁকি নিতে পারে শুধু তারুণ্য। তরুণ বা নওজোয়ানদের অসাধ্য কিছু নেই। প্রথা ভাঙায় দুঃসাহস দেখাতে পারে শুধু তরুণেরাই। স্থলে, পানিতে ও মহাকাশের যে কোনো অভিযানে অভিযাত্রী হওয়ার যোগ্য শুধু তরুণেরাই।

বাংলাদেশের জনসংখ্যার তিন ভাগের এক ভাগের বয়স ১৫ থেকে ৩৫ বছর। আগামী ১৫ বছর পর তাঁরাই রাষ্ট্রের ও সমাজের সব ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁদের মেধা ও প্রতিভা বিকশিত হওয়ার সুযোগ করে না দিলে তাঁরা যে শুধু অযোগ্য নাগরিক হবেন তা নয়, তাঁদের একটি অংশ বিপথগামী হতে পারে।

তাইতো এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ইশতেহারে ছিল তারুণ্য নির্ভর। ইশতেহারের মূল স্লোগান হচ্ছে ‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় অপ্রতিরোধ্য বাংলাদেশ’। এতে ২১টি বিশেষ অঙ্গীকার করা হয়েছে। এসব অঙ্গীকারের মধ্যে দুটি বিষয়ের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে একটি হচ্ছে তারুণ্যের শক্তি-বাংলাদেশের সমৃদ্ধি। এই শিরোনামে করা অঙ্গীকারে তরুণ ও যুবসমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর এবং কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তার কথা বলা হয়েছে।

কারণ ২০ থেকে ৫০ বছর, এই ৩০ বছর একজন মানুষের জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়। এই সময় মানুষের যে সাহস ও শারীরিক শক্তি থাকে, ৭২-এ গিয়ে তা থাকে না। আমাদের দেশের নেতার দিকে তাকালেও তাই দেখা যায়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৩৪ বছর বয়সে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। মন্ত্রী হয়েছিলেন ৩৬ বছর বয়সে। একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দেন ৫১ বছর বয়সে। তাজউদ্দীন আহমদ ২৯ বছর বয়সে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। অস্থায়ী প্রবাসী সরকারের প্রধানমন্ত্রীর গুরুদায়িত্ব গ্রহণ করেন ৪৬ বছর বয়সে। অপর দিকে সফল উদ্যোক্তাদের অনেকেরই বয়স ৩৫ থেকে ৫০-এর মধ্যে।

২৫ থেকে ৪৫ বছর বয়স্ক মানুষের মধ্যে স্বপ্ন থাকে, সাহস থাকে, লক্ষ্য থাকে এবং লক্ষ্য অর্জনের মনোবল থাকে, দক্ষতা ও শারীরিক শক্তি থাকে। বৃদ্ধদের মাইনাস করা হবে না। তাঁরা থাকবেন শ্রদ্ধার আসনে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সেই জন্যই তারুণ্যকে কাছে টেনেছেন। মন্ত্রী পরিষদে তরুণদের মূল্যায়ন করেছেন। তাদের মতামতকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাদেরকে বাড়িয়ে দিচ্ছেন সামনের দিকে।

সারা পৃথিবী এবং দেশ তরুণদের যেখানে গুরুত্ব দিচ্ছে সেখানে এই নারায়ণগঞ্জে তরুণরা কোন গুরুত্ব পাচ্ছে না। নেতারা রয়েছেন মান্ধাতার আমলের ধ্যান ধারণা নিয়ে। আলোচনা, সমালোচনা, পরামর্শ কোনটাতেই তরুণদের টানা হচ্ছে না বা গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে না। তাদের মতামতকে গ্রহণ বর্জন তো দূরের কথা শোনার সময়টুকু নেই তাদের। তাই তাদের কোন জায়গায় ডাকা হচ্ছে না। তবে সমস্যায় যখন পড়েন তখন সেই তরুণদের কাছে ফিরে আসেন জ্যেষ্ঠ নেতারা। এই তরুণদের ছাড়া তখন কোন উপায় থাকে না।

কারণ নারায়ণগঞ্জ জেলার প্রতিটি সেক্টরে তরুণদের প্রাধান্য। আইনজীবী, পুলিশ, সিভিল প্রশাসন, সাংবাদিক, পেশাজীবী সকল স্থানে তরুণরা এগিয়ে। অথচ মান্ধাতার আমলের সেই চিন্তাধারা নিয়েই রয়েছে এই জেলার জনপ্রতিনিধি আর সাংসদরা।

গত আগস্টে নারায়ণগঞ্জে যখন সড়ক নিয়ে আন্দোলন হয় তখন এসব তরুণেরাই চিত্র বদলে দেয় শহরের। শিক্ষার্থীরা রিকশাগুলোকে সারিবদ্ধভাবে নিয়ম শৃঙ্খলার মধ্যে চলাচল করতে বাধ্য করে। মোটরসাইকেল চালকেরা হেলমেট মাথা দিয়ে এবং গাড়ির ড্রাইভাররা সিট বেল্ট লাগিয়ে গাড়ি চালিয়েছেন। উল্টো পথের গাড়ি আটকে দেওয়া হয়।

তবে ট্রাফিক পুলিশের পক্ষে যেসব সম্ভব হয়নি সেটাই করে দেখিয়ে দেয় নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। মাত্র কয়েকদিনের আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা শৃঙ্খলায় নিয়ে আসে সড়ক।

 

 


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও