মন্ত্রীর চেয়েও ক্ষমতাবান শামীম ওসমান

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:২৭ পিএম, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ বুধবার

মন্ত্রীর চেয়েও ক্ষমতাবান শামীম ওসমান

শামীম ওসমান। সারাদেশেই যার একনামে পরিচিতি হয়েছে। তিনি নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য। তিনি বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন না করেও তাদের চেয়েও দায়িত্ববান। কোন মন্ত্রী পর্যায়ে দায়িত্ব পালন না করেও মন্ত্রী চেয়েও ক্ষমতাবান শামীম ওসমান।

সূত্র বলছে, সারাদেশের মধ্যে যতগুলো ঐতিহবাহী পরিবার রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবার। এই পরিবারটি দেশের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে প্রায় প্রত্যেক আন্দোলন সংগ্রামেই জড়িত রয়েছে। বর্তমান দেশের ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাকালেও এই পরিবারের ইতিহাস রয়েছে। বহু ঝড় যাপটা পেরিয়ে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের ঝান্ডা ধরেই আছেন এই ওসমান পরিবার। আর এই পরিবারের অন্যতম সদস্য হচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান।

তার সংসদীয় এলাকার নেতাকর্মী সমর্থকরা ধরে নিয়েছিলেন এবার হয়তো শামীম ওসমানকে দেশের মন্ত্রীত্ব পর্যায়ে দেখা যাবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শামীম ওসমানকে আর মন্ত্রীত্ব পর্যায়ে দেখা হয়নি।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শামীম ওসমান মন্ত্রীর চেয়েও ক্ষমতাবান। তিনি ইচ্ছে করলেই যে কোন কাজ তার সংসদীয় এলাকার জন্য বাগিয়ে নিয়ে আসতে পারেন। একই সাথে দলীয় সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে তার মতামতকে অগ্রাহ্য করা হয়না কখনও। সবসময় তার মতামতকে প্রাধান্য দেয়া হয়ে থাকে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে তার অংশগ্রহণ থাকে নজরকাড়া।

শামীম ওসমান নিজেও মন্ত্রীত্ব পর্যায়ে যেতে রাজী না। তার মতে, মন্ত্রী হওয়া বড় কথা নয় বড় কথা হচ্ছে মানুষের সেবা করা মানুষকে ভালোবাসা। মানুষের জন্য কাজ করার জন্য মন্ত্রী হওয়ার প্রয়োজন হয় না।

সর্বশেষ গত ২৫ জানুয়ারী মহানগর আওয়ামীলীগের স্মরণসভায় শামীম ওসমান আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফকে স্বাক্ষী রেখে বলেছিলেন, রাজনীতি করতে এসেছি ভন্ডামী করার জন্য না। আপনি (হানিফ) স্বাক্ষী, আপনার সামনে নেত্রী আমাকে মন্ত্রীত্ব দিতে চেয়েছিলেন। আমি সেদিন মন্ত্রী হইনি। আমি বলেছিলাম আমাকে বানিয়েন না আশরাফ ভাইকে বানান। মন্ত্রী হওয়ার জন্য রাজনীতি করতে আসি নাই। রাজনীতি করতে এসেছি মানুষের ভালবাসার জন্য।

জানা যায়, ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগের প্রথম এমপি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতা একেএম শামীম ওসমান। পরবর্তীতে ২০০০ সালের ১৬ এপ্রিল দেশ বরেণ্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তোলারাম কলেজে জাহানারা ইমাম ভবন উদ্বোধনের পর মুক্তমঞ্চের সমাবেশ থেকে নারায়ণগঞ্জে নিজামী, খালেদা জিয়াকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। এ নিষেধাজ্ঞা সংবলিত একটি সাইনবোর্ড নারায়ণগঞ্জে প্রবেশ মুখ লিংক রোডে স্থাপন করা হয়। এসব ঘটনার কারণে শামীম ওসমান আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন। এ আসনে ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত ফতুল্লায় প্রায় ২৬ শ’ কোটি টাকার উন্নয়ন কর্মকা-, ফতুল্লায় তিন নং জাতীয় ষ্টেডিয়াম উদ্বোধন হয়।

এরপর ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় ফের নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন শামীম ওসমান। এই সংসদ মেয়াদে শামীম ওসমান তার সংসদীয় এলাকায় ৭ হাজার ৪’শ কোটি টাকার কাজ করেছেন। ডিএনডিবাসীর দীর্ঘদিনের দুঃখ তিনি ঘুচিয়ে আনেন। ফলে শামীম ওসমান তার সংসদীয় এলাকায় যে কাজ বাগিয়ে আনতে পারে একজন মন্ত্রীও তার সংসদ নিজ এলাকার জন্য এরকম কাজ করতে পারেননি।

একই সাথে ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ টানা দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য হিসেবে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন শামীম ওসমান। এই মেয়াদে তার কর্মী সমর্থকরা ধরে নিয়েছিলেন এবার হয়তো শামীম ওসমানকে সংসদে মন্ত্রী হিসেবে দেখা যাবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শামীম ওসমানকে আর মন্ত্রী হিসেবে আর দেখা হলো না। এতে তার কর্মী সমর্থকরা কিছুটা হতাশ হলেও শামীম ওসমান বিন্দুমাত্রও হতাশ নন। তিনি জনগণের মন জয় করতে এসেছেন। সুতরাং তার সেবার মধ্য দিয়ে জনগণের মন জয় করতে চান শামীম ওসমান।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও