নির্বাচন পরবর্তী কর্মসূচিতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির প্রথম পরীক্ষা

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৪৮ পিএম, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ বৃহস্পতিবার

নির্বাচন পরবর্তী কর্মসূচিতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির প্রথম পরীক্ষা

গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রথম কর্মসূচি পালন করতে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা। নির্বাচনী ব্যর্থতা ঢাকতে এই কর্মসূচি কেন্দ্রীয় বিএনপিতে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করবে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। আর তাই নির্বাচন পরবর্তী প্রথম কর্মসূচিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীদের জন্য প্রথম পরীক্ষা হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। প্রথম কর্মসূচিতে সফল হতে পারলে পরবর্তীতে দলে তার মূল্যায়ণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

দলীয় সূত্র বলছে, টানা তিন মেয়াদ ধরে ক্ষমতার বাইরে রয়েছে বিএনপি। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পরাজয়ের মধ্য দিয়ে প্রথম দফা এরপর ২০১৪ সালের দশম জতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জনের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় দফা এবং সর্বশেষ ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তৃতীয়বার ক্ষমতার বাইরে থেকে যায় বিএনপি। আর এই দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকায় নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা দলীয় আন্দোলন সংগ্রামে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েন। দলীয় কর্মসূচিতে জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীদের তেমন একটা অংশগ্রহণ চোখে পড়ে না।

জানা যায়, গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদ- দেন আদালত। এই রায়কে ঘিরেও নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা তেমন কোন জোরালো আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেননি। পরবর্তীতে গত ৩০ অক্টোবর সেই সাঁজা বেড়ে ১০ বছর হওয়াতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির আন্দোলন জমেনি। শুধুমাত্র নামকাওয়াস্তেই কর্মসূচি পালন করে গেছেন। তাদের দলীয় প্রধান মাসের পর মাস কারাভোগ করলেও আন্দোলন সংগ্রামে নিস্ক্রীয়ই থেকে যান নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা।

একই সাথে গত ১০ অক্টোবর বুধবার ২১ আগস্ট চালানো গ্রেনেড হামলা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদন্ড দেন আদালত। এই মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, হারিছ চৌধুরী, সাবেক সাংসদ কায়কোবাদসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন দেওয়া হয়। এই রায়কে ঘিরে নেয়া কর্মসূচিগুলোতেও ফ্লপ মেরেছেন নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা। তারা শুধুমাত্র মুখে আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই আন্দোলন করে যান। বাস্তবে এর কোন প্রতিফলন দেখা যায়নি।

এরকম পরিস্থিতি চলাকালিন অবস্থায়ই অনুষ্ঠিত হয় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করলেও এবারের নির্বাচনকে বিএনপি আন্দোলনের অংশ হিসেবেই অংশগ্রহণ করে। তবে এই প্রচার প্রচারণায় তারা সবসময় বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থীদের চেয়ে পিছিয়ে ছিলেন। এই নির্বাচনকে ঘিরেও নারায়ণগঞ্জ বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা জেগে উঠতে পারেননি। শুধুমাত্র প্রার্থীদেরকেই সংসদীয় এলাকায় মাঝে মধ্যে দেখা গেছে। তাদের সাথে জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তেমন একটা দেখা যায়নি।

ফলশ্রুতিতে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনেই বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের শোচনীয় পরাজয় ঘটে। যদিও বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিযোগ নির্বাচনে বর্তমান ক্ষমতাসীনরা অনেক কাপচুপি করেছেন। তবে নির্বাচন চলাকালিন সময়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীদের নির্বাচনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়নি।

এদিকে আলোচিত সমালোচিত সংসদ নির্বাচনের ফলাফলে কেন্দ্রীয় বিএনপি নড়েচড়ে বসছে। আর তাই তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করার জন্য শীর্ষ পর্যায়ে দাবী উঠছে। এজন্য কেন্দ্রীয় নেতারা দলকে পুনর্গঠনের দিকেও নজর দিচ্ছেন। সে হিসেবে নারায়নগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপিতেও রদবদলের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ফলে এখনকার কর্মসূচিতে যে সকল নেতাকর্মীদের সরব ভূমিকা থাকবে তারাই হয়তো আগামী দিনে মূল্যায়িত হবেন। যার সূত্র ধরে সাম্প্রতিক সময়ের কর্মসূচিগুলো নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এরই মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ ও সারাদেশে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে ৯ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হবে। যার ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জ বিএনপিও কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল নিউজ নারায়ণগঞ্জকে জানান, আমরা কর্মসূচি পালনের জন্য প্রস্তুত রয়েছি। বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদেরকে কর্মসূচির ব্যাপারে জানিয়ে দেয়া হবে। আর এই কর্মসূচির মাধ্যমেই পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের চেনা যাবে। দলের বিপদের সময় বুঝা যায় দলের প্রতি কোন নেতার কি রকম ভালবাসা আছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, আমরা এখনও সিদ্ধান্ত নেয়নি। দলের নেতাকর্মীদের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়ার পর বলা যাবে কর্মসূচি পালন হবে কি হবে না। আমাদের অনেক নেতাকর্মী এখন পর্যন্ত জামিন পায় নাই। ফলে কর্মসূচির ব্যাপারে নেতাকর্মীদের তেমন একটা প্রস্তুতি নেই।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও