দীর্ঘ দেড় যুগ পর নবায়ন হচ্ছে জেলা আওয়ামী লীগের থানা কমিটি!

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৪৫ পিএম, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ শুক্রবার

দীর্ঘ দেড় যুগ পর নবায়ন হচ্ছে জেলা আওয়ামী লীগের থানা কমিটি!

দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ ধরে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের থানা কমিটিগুলো আটকে গেছে। অথচ টানা তিন মেয়াদ ধরে ক্ষমতায় রয়েছে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামীলীগ। আর এই দীর্ঘ বছর ধরে ক্ষমতায় থেকেও নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ তাদের থানা কমিটিগুলো নবায়ন করতে পারেনি। তবে এবার দীর্ঘ দেড় যুগ পর নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের কমিটিগুলো নবায়ন করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। আগামী মার্চে অনুষ্ঠিতব্য উপজেলা নির্বাচনের পর পরই থানা কমিটিগুলো নবায়নের কাজ হাতে নেয়া হবে জানা গেছে।

সূত্র বলছে, টানা তিন মেয়াদ ধরেই সরকারি দলে রয়েছে আওয়ামীলীগ। ২০০৮ সালের নির্বাচনে দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপিকে পরাজিত করার মধ্য দিয়ে প্রথমবার, এরপর ২০১৪ সালের দশম জতীয় সংসদ নির্বাচন বিএনপির বর্জনের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয়বার এবং সর্বশেষ ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করার মধ্য দিয়ে টানা তৃতীয়বার রয়ে গেছে আওয়ামীলীগ।

জানা যায়, আওয়ামীলীগ দীর্ঘ মেয়াদ ধরে ক্ষমতায় থাকার পরেও নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের থানা কমিটিগুলোতে গতি ফিরেনি। একের পর এক দলীয় কার্যক্রমের মধ্য দিয়েই তাদের দিনকাল অতিবাহিত হচ্ছে। ফলে দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ আগের করা কমিটি দিয়ে চলছে থানা কমিটিগুলোর কার্যক্রম। আর এসকল কমিটিগুলো সভাপতি আর সাধারণ সম্পাদকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। আবার কোনটির ভারপ্রাপ্ত দিয়েই চলছে বছরের পর বছর। ফলে ক্ষমতায় থেকেও তৃণমূল পর্যায়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ গতি ফিরে পাচ্ছিল না।

তবে এবার আর গতিহীন অবস্থায় থাকছে না নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ। আগামী মাস খানেক সময়ের মধ্যেই জেলা আওয়ামীলীগের সেই দুঃখ ঘুচন হচ্ছে। উপজেলা নির্বাচনের পর পরই থানা আওয়ামীলীগের কমিটিগুলো নবায়নের কাজ হাতে নেয়া হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই নিউজ নারায়ণগঞ্জকে জানান, অনেকদিন ধরেই থানা কমিটিগুলো নবায়ন করা হচ্ছে না। তারপরেও একের পর এক সাংগঠনিক কাজকর্মের ব্যস্ততার কারণে নবায়ন কাজে বিলম্বিত হচ্ছিল। তবে এবার আর বিলম্ব নয়। সামনে যেহেতু উপজেলা নির্বাচন। এই উপজেলা নির্বাচনের পরেই প্রত্যেক থানা কমিটিগুলোতেই নতুন কমিটি আসবে। সময়মতো কমিটির নবায়ন করা হলে দলে গতি ফিরে আসাটাই স্বাভাবিক।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯২ সালে আব্দুল মোতালিবকে সভাপতি ও শাজাহান ভূইয়াকে সাধারন সম্পাদক এবং এনামুল হক ভূইয়াকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে রূপগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের কমিটি হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালে পুরানো কমিটির কয়েকজনকে সংযোজন ও বিয়োজন করে আবারো নতুন কমিটির ঘোষণা করা হয়। এরপর ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে দলের বিরুদ্ধে ভূমিকা রাখার অভিযোগ আব্দুল মোতালিবকে সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। ২০০৪ সালে সিনিয়র সহ-সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন মোল্লাকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয়। এর পরে দীর্ঘ প্রায় ১ যুগেরও বেশি সময় অতিবাহিত হলেও তিনি ভারমুক্ত হতে পারেননি। পরবর্তীতে ২০০৩ সালে নতুন করে কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিলেও কোন্দলের কারণে কমিটি করা আর সম্ভব হয়ে উঠেনি।

এদিকে আড়াইহাজার থানা আওয়ামী লীগ কমিটির জন্য ২০০৪ সালের ১১ মার্চে মো. শাহজালাল মিয়াকে সভাপতি ও অ্যাডভোকেট আব্দুর রশিদকে সাধারণ সম্পাদক করে ৬৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি প্রস্তাবিত কমিটি জমা দেয়া হয়েছিল জেলা কমিটির কাছে। কিন্তু বিগত প্রায় ১৫ বছরেও এই কমিটির অনুমোদন মিলেনি। যার সূত্র ধরে ১৫ বছর ধরেই এখানকার আওয়ামী লীগ প্রস্তাবিত কমিটির মাধ্যমেই পরিচালিত হচ্ছে। ফলে এখানকার বর্তমান কমিটির নেতাকর্মীরা হচ্ছেন স্বঘোষিত।

একইভাবে ১৯৯৭ সালে সাবেক এমপি কায়সার হাসনাতের বাবা আবুল হাসনাতকে সভাপতি ও আব্দুল হাই ভূইয়াকে সাধারণ সম্পাদক করে ৫১ সদস্যে বিশিষ্ট সোনারগাঁ থানা কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এরপর ২০০১ সালে বিতর্কিত কর্মকান্ডের জন্য সভাপতি আবুল হাসনাত ও সিনিয়র সভাপতি মোশাররফ হোসেনকে নিজ নিজ পদ থেকে অব্যহতি দেয়া হয়। তাদেরকে সরিয়ে অ্যাডভোকেট সামসুল ইসলাম ভূইয়াকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়। এরপর দীর্ঘ ১৫ বছর অতিবাহিত হয়ে যাওয়ার পরেও এখন পর্যন্ত তিনি আর ভারমুক্ত হতে পারেননি। একই সাথে ২০১৪ সালে সোনারগাঁ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই ভূইয়া মারা গেলে ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক হিসেবে মাহফুজুর রহমান কালামকে দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনিও এখন পর্যন্ত ভারপ্রাপ্তই রয়েছেন।

অন্যদিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মজিবুর রহমান ও হাজি ইয়াছিন মিয়ার একছত্র আধিপত্যের কারণে থানা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি। এই দুই নেতা দীর্ঘ এক যুগ ধরেই থানা কমিটির পদ আকড়ে ধরে থাকায় নতুন নেতৃত্ব ও নতুন কমিটি গঠন সম্ভব হয় নি বলে জানায় তৃণমূল। নতুন কমিটি গঠন হলে ক্ষমতায় থেকেও দলীয় সুযোগ সুবিধা ভোগ করা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন এমন ভাবনা থেকেই তারাও চান না নতুন কমিটি হোক।

একইভাবে ফতুল্লা থানার সভাপতি সাাইফউল্লাহ বাদল ও সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী নেতৃত্ব আকড়ে থাকার কারণে নতুন কোনো নেতৃত্ব তৈরি হচ্ছে না। মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়েই চলছে তাদের দলীয় কার্যক্রম।

অপরদিকে ২০০৩ সালের ডিসেম্বর মাসে সাহাবউদ্দিন আহমেদ মন্ডলকে সভাপতি ও মো. হায়দার আলীকে সাধারন সম্পাদক করে ৬৭ সদস্য বিশিষ্ট সদর থানা আওয়ামীলীগের কমিটি গঠন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে মো. হায়দার আলী দলীয় কর্মকান্ডে নিস্ক্রীয় হয়ে যাওয়ার অভিযোগে আল মামুনকে ২০০৬ সালে ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে তাকে ভারমুক্ত করে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। ইতোমধ্যে সেই সভাপতি সাহাবউদ্দিন আহমেদ মন্ডল মারা গেছেন।

এছাড়া ২০০৪ সালে এম এ রশিদকে সভাপতি ও খুরশীদ আলম সাগরকে সাধারণ সম্পাদক করে বন্দর থানা আওয়ামী লীগ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০০৬ সালে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে খুরশীদ আলম সাগরকে বাদ দিয়ে আবেদ হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ ১০ বছরের বেশি সময়েও সাধারণ সম্পাদককে ভারমুক্ত করা সম্ভব হয়নি।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও