বিএনপির কর্মসূচিতে অধরা সমালোচিত কালাম

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৩৫ পিএম, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ শনিবার

বিএনপির কর্মসূচিতে অধরা সমালোচিত কালাম

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি দলটির কেন্দ্রীয় কর্মসূচি দিয়ে দলটিকে চাঙ্গা করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি দলটি কেন্ত্রীয় কর্মসূচি পালন করলেও সভাপতি পদে থাকা আলোচিত সমালোচিত আবুল কালাম আগের মতাই অধরা রয়ে গেছেন। তিনি বরাবারের মত নানা অজুহাতে দলীয় কর্মসূচিতে অনীহা প্রকাশ করে অনুপস্থিত ছিলেন। এতে করে সেই নেতা ফের সমালোচিত হয়েছে।

জানা গেছে, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সহ ও সারাদেশে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে ৯ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করার ঘোষণা দিয়েছিল। তারই ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি দলটি কর্মসূচি পালনের উদ্যোগ নিলেও জেলা বিএনপি প্রথম থেকেই বলে আসছে, তারা কর্মসূচি পালন করবেনা। তবে মহানগর বিএনপির শীর্ষ পদীয় সভাপতি পদে থাকা আবুল কালাম বরাবরের মত কর্মসূচি বয়কট করেছে।

এদিকে ৯ ফেব্রুয়ারী শনিবার সকালে কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিবাদ সমাবেশ করতে গেলে মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা পুলিশি বাধার মুখে সমাবেশ পণ্ড হয়ে যায়। আর এই বাধার মুখে নেতাকর্মীরা সমাবেশ স্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন নারারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল, সহ সভাপতি ফখরুল ইসলাম মজনু, অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সবুর খান সেন্টু, আবু আল ইউসুফ খান টিপুসহ মহানগর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। তবে সভাপতি পদে থাকা আবুল কালাম সেখানে অনুপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, নির্বাচনী বছরের শুরু থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত বিএনপি দলটির ভরাডুবি ও নড়াদশা দেখা গেছে। তার পেছনে দলটির সুবিদাবাদী ও বিদ্রোহী নেতাদের কর্মকা- দায়ী। অন্যদিকে দলটির এই করুণ দশার মাঝে আশার আলোর মত দলের কিছু ত্যাগী নেতাদের কর্মকাণ্ড ছিল চোখে পড়ার মত। তারা শত বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করেও দলের জন্য কাজ করে গেছেন।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সাংসদ আবুল কালাম সংস্কারপন্থীদের তাকমায় আলোচিত ও সমালোচিত হয়েছে। তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সেই কালামপন্থীরা বিএনপি দলটির নেতাকর্মীরা সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিদ্রোহ করে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী পক্ষে কাজ করেছেন। আর সেই বিদ্রোহের কারণ হিসেবে আবুল কালামের মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার কারণটিও বেরিয়ে আসে। আর আবুল কালাম বিভিন্ন অজুহাতে ব্যাকফুটে থেকে পরোক্ষভাবে ক্ষমতাসীনদের পক্ষ অবলম্বন করেছেন। এমনকি নির্বাচনে কালামপন্থীরা ক্ষমতাসীনদের পক্ষ নিয়ে ধানের শীষের প্রার্থীদের মারধর করে বাধা প্রদান করেছে।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে অর্থাৎ যেখানে সংস্কারপন্থী আবুল কালাম মনোনয়ন বঞ্চিত হলেও থলের বিড়াল বেরিয়ে আসে। যদিও নির্বাচনী বছরের শুরু থেকেই কালামপন্থী বিএনপি নেতারা এই আসনের ক্ষমতাসীন দলের সাংসদ ও প্রার্থী সেলিম ওসমানের পক্ষে বিভিন্ন সময় সভা, সমাবেশে যোগদান করে ফের তাকে এমপি হিসেবে দেখার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তবে ওই সময়ে আবুল কালামের প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে তেমন কোন বাধা ছিলনা। যেকারণে কালামপন্থীরাও অনেকটা ধোঁয়াশাতে ছিল।

হামলা, মামলার ঝামেলা এড়াতে তারা ক্ষমতাসীন দলের সাংসদ সেলিম ওসমানের সাথে আতাঁত করে চলছিল। তবে শেষ সময়ে এসে মনোনয়ন দৌড়ে নাগরিক ঐক্যের নেতা এস এম আকরামকে মনোনয়ন পেলে কালামপন্থীরা অনেক নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে অবশেষে সংষ্কারপন্থী আবুল কালামের পথে হাঁটছে। তারা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিদ্রোহ করে ক্ষমতাসীদের পক্ষ নিচ্ছে।

গত ১৬ ডিসেম্বর রাতে বন্দরে সুরুজ টাওয়ারে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি ও বন্দর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল সহ বেশ কয়েকজন বিএনপি দলীয় কাউন্সিলর এবার অনেকটা আনুষ্ঠানিকভাবেই জাতীয় পার্টির লাঙ্গলে কাজ করার ঘোষণা দেন। মুকুল বলেন, জালাল হাজীর আমলের বিএনপির নেতৃত্বে ছিলেন আবুল কালাম। কিন্তু এখন আবুল কালামকে বাদ দিয়ে এমন একজনের হাতে ধানের শীষ তুলে দেওয়া হয়েছে যাতে করে প্রতীয়মান যে বিএনপিকে ধ্বংস করা হচ্ছে।

জানা গেছে, নির্বাচনী বছরের শুরু থেকেই বিএনপি দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলাকে কেন্দ্র করে সারা দেশে বিএনপি দলটির নেতাকর্মীদের উপর হামলা,মামলার চিত্র দেখা যায়। এতে করে বিএনপি দলটি বেশ বেকায়দায় পড়ে যায়। এরুপ অবস্থায় বিএনপি দলটির নেতকর্মীরা বেশ কোনঠাসা হয়ে পড়ে। অন্যদিকে পুলিশ প্রশাসন এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিএনপি দলটির কর্মসূচিগুলোতে ধারাবাহিকভাবে বাধা দিয়ে আসছিল। আর তাতে বিএনপি দলটির নেতাকর্মীরা বাধার মুখে কর্মসূচিগুলো পালন করতে পারছিলনা। আবার অনেক সময় পুলিশের বেধে দেয়া সময় ও স্থানে নামকাওয়াস্তে কর্মসূচি পালন করতে বাধ্য হয়েছেন। এভাবেই বিএনপি দলটির কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে ফ্লপ হয়েছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়েনি। তখনও মহানগর বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম কর্মসূচি বিমুখ ছিল। আবার কখনো কখনো নামকাওয়াস্তে কর্মসূচি পালন করলেও তা আরো সমালোচিত হয়েছে। এছাড়া ক্ষমতাসীনদের সাথে আতাঁতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এসে সেই অভিযোগ অনেকটা বাস্তবে রুপ নিতে থাকে। এবারও নির্বাচনের পর সেই সুবিধাবাদী নেতা হিসেবে পরিচিত আবুল কালাম কর্মসূচিতে অনুপস্থিত থেকে ফের সমালোচিত হচ্ছেন।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও