দলীয় কর্মসূচিতে জেলা বিএনপির বয়কট

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৪২ পিএম, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ শনিবার

দলীয় কর্মসূচিতে জেলা বিএনপির বয়কট

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি দলটি কেন্দ্রীয় কর্মসূচি বয়কট করেছে। দীর্ঘদিন পর কেন্দ্র থেকে দলীয় কর্মসূচি ঘোষণা করা হলেও তা বয়কট করেছে জেলা বিএনপি। এতে করে দলটির নেতাকর্মীরা বেশ ক্ষুদ্ধ হয়েছে কমিটি পদধারীদের উপর। যেকারণে দলটির সুবিধাবাদী নেতাদের কর্মকান্ড ও দলের ব্যর্থতার বিষয়টি ফের আলোচনায় উঠে আসছে। আর এসব সক্রিয়তা ও নিষ্ক্রিয়তার হিসেব কষেই দলটি ফের ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা করছে।

জানা গেছে, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ ও সারাদেশে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে ৯ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করার ঘোষণা দিয়েছিল। তারই ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি দলটি কর্মসূচি পালনের উদ্যোগ নিলেও জেলা বিএনপি প্রথম থেকেই বলে আসছে, তারা কর্মসূচি পালন করবেনা।

কর্মসূচির আগে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, আমরা এখনও সিদ্ধান্ত নেয়নি। দলের নেতাকর্মীদের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়ার পর বলা যাবে কর্মসূচি পালন হবে কি হবে না। আমাদের অনেক নেতাকর্মী এখন পর্যন্ত জামিন পায় নাই। ফলে কর্মসূচির ব্যাপারে নেতাকর্মীদের তেমন একটা প্রস্তুতি নেই।

এদিকে ৯ ফেব্রুয়ারী শনিবার সকালে কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিবাদ সমাবেশ করতে গেলে মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা পুলিশী বাধার মুখে সমাবেশ পন্ড হয়ে যায়। আর এই বাধার মুখে নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। তবে সেদিন জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের পূর্ণ নির্ধারিত ঘোষণা অনুযায়ী কর্মসূচি পালন করেনি। জেলা বিএনপি ঘোষণা দিয়ে দলীয় কর্মসূচি বয়কট করেছে। এতে করে দলের নেতাকর্মীরা বেশ ক্ষুদ্ধ হয়েছে।

দলের নেতাকর্মীরা বলছেন, ‘দলকে এগিয়ে নিতে আমরা সব সময় এগিয়ে এসেছিল। কিন্তু কমিটির নেতৃত্বদানকারী নেতারা পিছপা হয়েছে। যেকারণে আমরা দলীয় কর্মসূচি পালন করতে পারিনি। এবারো সেই একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। নানা অজুহাতে জেলা বিএনপির নেতৃত্বদানকারী নেতারা কর্মসূচি বয়কট করেছে। এতে করে পুরো দলের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে।’

সূত্র বলছে, দলের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করে দলকে আরো সুসংগঠিত করতে এই কর্মসূচির ডাক দেয়া হয়েছে। তাছাড়া বিএনপি দলটির অনেক নেতা ক্ষমতাসীনদের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ আতাঁত করে চলার অনেকট অভিযোগ রয়েছে। যেকারণে সেসব নেতারা দলীয় কর্মসূচি বিমুখ ছিল।

আবার নির্বাচনে মনোনয়ন ইস্যুতে অনেক নেতা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। আবার কেউ কেউ ক্ষমতাসীনদের সাথে প্রকাশ্য ও পরোক্ষ আতাঁত করে চলেছেন। তাছাড়া আগামীতে দলকে ঢেলে সাজাতে দলের অবস্থান এবং নেতাকর্মীদের অবস্থান জানতে মূলত কেন্দ্র থেকে এই কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়েছে। আর সেই কর্মসূচিতে সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয়তার হিসেব কষেই দলকে ঢেলে সাজানো হবে।

জানা গেছে, নির্বাচনী বছরের শুরু থেকেই বিএনপি দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলাকে কেন্দ্র করে সারা দেশে বিএনপি দলটির নেতাকর্মীদের উপর হামলা, মামলার চিত্র দেখা যায়। এতে করে বিএনপি দলটি বেশ বেকায়দায় পড়ে যায়। এরুপ অবস্থায় বিএনপি দলটির নেতকর্মীরা বেশ কোনঠাসা হয়ে পড়ে। অন্যদিকে পুলিশ প্রশাসন এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিএনপি দলটির কর্মসূচিগুলোতে ধারাবাহিকভাবে বাধা দিয়ে আসছিল। আর তাতে বিএনপি দলটির নেতাকর্মীরা বাধার মুখে কর্মসূচিগুলো পালন করতে পারছিলনা। আবার অনেক সময় পুলিশের বেধে দেয়া সময় ও স্থানে নামকেওয়াস্তে কর্মসূচি পালন করতে বাধ্য হয়েছেন। এভাবেই বিএনপি দলটির কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে ফ্লপ হয়েছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়েনি।

এরকম পরিস্থিতি চলাকালীন অবস্থায়ই অনুষ্ঠিত হয় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করলেও এবারের নির্বাচনকে বিএনপি আন্দোলনের অংশ হিসেবেই অংশগ্রহণ করে। তবে এই প্রচার প্রচারণায় তারা সবসময় বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থীদের চেয়ে পিছিয়ে ছিলেন। এই নির্বাচনকে ঘিরেও নারায়ণগঞ্জ বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা জেগে উঠতে পারেননি। শুধুমাত্র প্রার্থীদেরকেই সংসদীয় এলাকায় মাঝে মধ্যে দেখা গেছে। তাদের সাথে জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তেমন একটা দেখা যায়নি।

ফলশ্রুতিতে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনেই বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের শোচনীয় পরাজয় ঘটে। যদিও বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিযোগ নির্বাচনে বর্তমান ক্ষমতাসীনরা অনেক কাপচুপি করেছেন। তবে নির্বাচন চলাকালিন সময়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীদের নির্বাচনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়নি।

এদিকে আলোচিত সমালোচিত সংসদ নির্বাচনের ফলাফলে কেন্দ্রীয় বিএনপি নড়েচড়ে বসছে। আর তাই তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করার জন্য শীর্ষ পর্যায়ে দাবী উঠছে। এজন্য কেন্দ্রীয় নেতারা দলকে পুনর্গঠনের দিকেও নজর দিচ্ছেন। সে হিসেবে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপিতেও রদবদলের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ফলে এখানকার কর্মসূচিতে যে সকল নেতাকর্মীদের সরব ভূমিকা থাকবে তারাই হয়তো আগামী দিনে মূল্যায়িত হবেন। যার সূত্র ধরে সাম্প্রতিক সময়ের কর্মসূচীগুলো নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও