নারায়ণগঞ্জ বিএনপির পূর্ণ কমিটি না নতুন

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:১৮ পিএম, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ রবিবার

নারায়ণগঞ্জ বিএনপির পূর্ণ কমিটি না নতুন

দীর্ঘদিন ধরেই দলীয় আন্দোলন সংগ্রামে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপি ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে আসছে। দলীয় কোন আন্দোলন সংগ্রামেই তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেনি।

এমনকি দলীয় চেয়ারপার্সনের কারাদন্ডেও নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপি তৃণমূলকে জাগাতে পারেনি। সর্বশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নিস্ক্রিয় ভূমিকা লক্ষ্য করা গেছে। ফলে নির্বাচন পরর্বর্তী সময়ে দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে তৃণমূলে দাবী উঠে দলকে পুনর্গঠনের জন্য। তবে এই ক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপি পূর্ণ কমিটি হবে নাকি ফের নতুন কমিটি হবে সেটা নিয়ে দলের তৃণমূল পর্যায়ে নানা সন্দেহ সংশয় সৃষ্টি হয়েছে।

বিএনপি দলীয় সূত্র বলছে, গত ৩০ ডিসেম্বর নানা আলোচনা আর সমালোচনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের সংগঠনের প্রতি ভালোবাসা ও আনুগত্যকে পরখ করেছেন কেন্দ্রীয় বিএনপি। ফলে নির্বাচনের পর পরই দলের ভবিষ্যত কর্মপন্থা নির্ধারনের জন্য রাজধানীর পাশ্ববর্তী জেলা হিসেবে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে উত্থান পতনের সম্ভাবনা রয়েছে। যার ধারাবাহিকতায় প্রথমেই নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানর বিএনপিতে রদবদলের আভাস পাওয়া গেছে। তবে দলের গতি ফিরিয়ে আনার জন্য আগের কমিটি ভেঙ্গে দেয়া হবে নাকি আগের কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হবে সেটা নিয়ে তৃণমূলে নানা আলাপ আলোচনা চলমান রয়েছে।

জানা যায়, ২০১৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারী নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির ২৩ সদস্য ও জেলা বিএনপিতে ২৬ জনের আংশিক কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়। এর একদিন আগে ১৩ ফেব্রুয়ারী নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক তিনবারের এমপি অ্যাডভোকেট আবুল কালামকে সভাপতি ও বিলুপ্ত নগর বিএনপির সেক্রেটারী এটিএম কামালকে সাধারন সম্পাদক করে মহানগর বিএনপির কমিটি গঠন করা হয়। একইসাথে জেলা বিএনপির সাবেক কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী মনিরুজ্জামানকে সভাপতি ও জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে সাধারণ করে জেলা  বিএনপির কমিটি গঠন করা হয়।

নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি ঘোষণা হওয়ার পর থেকে পুলিশের ভয়ে রাজপথ থেকে হারিয়ে যান নেতাকর্মীরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একের পর এক হামলা মামলায় নেতাকর্মীরা হয়ে পড়েন ঘরছাড়া। এরই মধ্যে গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদ- দেন আদালত এবং পরবর্তীতে গত ৩০ অক্টোবর সেই সাজা বেড়ে ১০ বছর হওয়াতেও নারায়ণগঞ্জ বিএনপির আন্দোলন জমেনি। শুধুমাত্র নামকাওয়াস্তেই কর্মসূচি পালন করে গেছেন। তাদের দলীয় প্রধান মাসের পর মাস কারাভোগ করলেও আন্দোলন সংগ্রামে নিস্ক্রিয়ই থেকে যান নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা।

একই সাথে গত ১০ অক্টোবর বুধবার ২১ আগস্ট চালানো গ্রেনেড হামলা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদন্ড দেন আদালত। এই রায়কে ঘিরে নেয়া কর্মসূচিগুলোতেও ফ্লপ মারেন নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা। এরকম পরিস্থিতি চলাকালিন অবস্থায়ই ঘনিয়ে আসে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করলেও এবারের নির্বাচনকে বিএনপি আন্দোলনের অংশ হিসেবেই অংশগ্রহণ করে। কিন্তু এই নির্বাচনেও নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা জোড়ালো ভূমিকা রাখতে পারেনি।

অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির কমিটি গঠনের প্রায় ২ বছর পেরিয়ে গেলেও তারা এখন পর্যন্ত কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে পারেননি। আংশিক কমিটি দিয়েই চলছে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম। এভাবে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির একের পর এক ব্যর্থতায় কমিটিকে নতুন করে সাজানোর সম্ভাবনা প্রবল হচ্ছে। তবে সেক্ষেত্রে আগের কমিটি পূর্ণাঙ্গ হবে নাকি আবার নতুন নেতৃত্ব দিয়ে নতুন কমিটি হবে সেটা নিয়ে দলের তৃণমূলে নানা আলোচনা জন্ম দিয়েছে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও