মনোনয়নে সক্রিয় থাকলেও আন্দোলনে নেই নেতারা

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:২০ পিএম, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ রবিবার

মনোনয়নে সক্রিয় থাকলেও আন্দোলনে নেই নেতারা

সদ্য অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাপের কমতি ছিলনা জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের পাশাপাশি বিএনপির নেতারাও মনোনয়ন সংগ্রহে রেকর্ড সৃষ্টি করেছিলেন।

তবে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে নেতারা যেভাবে শোডাউন দেখিয়েছিলেন পরবর্তীতে নির্বাচনে তাদের কারিশমা তেমনটি দেখাতে পারেননি। আর নির্বাচনে ভরাডুবির পরে ৯ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত আন্দোলন কর্মসূচীতে দেখা মেলেনি বেশীরভাগ মনোনয়ন প্রত্যাশীকে। অথচ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন ৪৪ জন যার মধ্যে একটি আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন বাবা ও ছেলেসহ ২০ জন।

জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছিলেন ৭ জন। তারা হলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান, কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু, রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহফুজ্রু রহমান হুমায়ন, বিএনপি নেতা নাসিরউদ্দিন, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ সভাপতি দুলাল আহমেদ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আনোয়ার সাদাত সায়েম। তবে শেষ পর্যন্ত টিকেট পান জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান।

নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন ৪ জন। তারা হলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা নজরুল ইসলাম আজাদ, মাহমুদুর রহমান সুমন, সাবেক এমপি আতাউর রহমান আঙ্গুর, জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদউল্লাহ। দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা নজরুল ইসলাম আজাদ।

নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছিলেন ২০ জন। তারা হলেন, সাবেক এমপি অধ্যাপক রেজাউল করিম, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল, সোনারগাঁও থানা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু জাফর, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সোনারগাঁও থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম মান্নান, কেন্দ্রীয় নেতা অলিউর রহমান আপেল, সোনারগাঁও বিএনপির সহ সভাপতি রিয়াজ উদ্দীন আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী নজরুল ইসলাম টিটু, কাঁচপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাজী সেলিম হক, ছাত্রদলের সাবেক নেতা আজিজুল হক আজিজ, নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহিদুর রহমান স্বপনসহ ২০ জন। এদের মধ্যে আজাহারুল ইসলাম মান্নান ও খাইরুল ইসলাম সজিব সম্পর্কে পিতা পুত্র। দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সোনারগাঁও থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম মান্নান।

নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন ৬ জন। তারা হলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিন, জেলা বিএনপির সহ সভাপতি শিল্পপতি শাহ আলম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ (বর্তমানে নাশকতা মামলায় কারাগারে), জেলা বিএনপির সহ সভাপতি পারভেজ আহমেদ, জেলা বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন শিকদার, ফতুল্লা থানা বিএনপির সহসভাপতি ও কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম সেন্টু। তবে শেষ পর্যন্ত ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছিলেন বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরীক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মনির হোসেন কাসেমী।

নারায়ণগঞ্জ ৫ (সদর ও বন্দর) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন ৭ জন। তারা হলেন, মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি আবুল কালাম, মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, মহানগর যুবদলের সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, মহানগর বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুল ইসলাম সজল, সাবেক ছাত্রদল নেতা এম এইচ মামুন, আইনজীবী নেতা সুলতান মাহমুদ, মহাগর ছাত্রদলের সহ সভাপতি রাফিউদ্দিন রিয়াদ। তবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ইস্যুতে শরীক দল নাগরিক ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে সাবেক এমপি এসএম আকরাম মনোনয়ন পেয়েছিলেন।

গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনেই বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীর বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। যদিও বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি, ভোটকেন্দ্র দখল, আগের রাতে ব্যালটে সিল মারা, পোলিং এজেন্ট বের করে দেয়া, প্রার্থীদের অবরুদ্ধ করে রাখাসহ নানাবিধ অভিযোগ করেছিলেন।

এদিকে নির্বাচনের পরে প্রায় দেড় মাস হতে চললো। গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদ- দেন আদালত। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ ও সারাদেশে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে ৯ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের ডাক দেয় বিএনপি। তবে শনিবার ৯ ফেব্রুয়ারী কর্মসূচীতে দেখা মেলেনি মনোনয়ন প্রত্যাশী বেশীরভাগ নেতাদের। শুধুমাত্র মহানগর বিএনপির সেক্রেটারী এটিএম কামাল ছাড়া বাকী কারোরই দেখা মেলেনি।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও