আইনজীবী ফোরামের কমিটি কব্জায় নিতে সক্রিয় তিনজন

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:২৪ পিএম, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ সোমবার

আইনজীবী ফোরামের কমিটি কব্জায় নিতে সক্রিয় তিনজন

নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কমিটি কব্জায় নিতে নানা ধরনের চেষ্টা করছেন তিনজন নেতা। তারা চাচ্ছেন নিজের বলয়ের আইনজীবীদের নিয়েই এ কমিটি করতে। এর আগের কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে ছিল দুইজন নেতার মধ্যে ছিল রেশারেষি। একটি অংশের নেতৃত্বে ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। অপর অংশের নেতৃত্বে ছিলেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খান।

এ দুইজনের কারণে প্রথমে সাখাওয়াত পন্থীদের আধিক্যে কমিটি অনুমোদন দিলেও তৈমূর পন্থীদের অনেকেই সেখান থেকে পদত্যাগ করেন ও আলাদা একটি কমিটি গঠন করেন।

তবে গত ১ফেব্রুয়ারি সারাদেশে সকল কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ভাবে এক সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। আর এতে প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। কেন্দ্রীয় কমিটি গঠিত হওয়ার পরেই সারাদেশের সকল জেলা কমিটি গঠন করা হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জমিরউদ্দিন সরকারের ঘনিষ্ঠজনদের একজন হলেন তৈমূর আলম খন্দকার। সে কারণে আসন্ন কমিটিতে তৈমূর পন্থীদের কামব্যাক করার সুযোগ থাকতে পারে।

বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি তৈমূর আলম খন্দকার নিউজ নারায়ণগঞ্জ কে বলেন, আপাতত সুপ্রিম কোর্টের নির্বাচন নিয়ে আমরা ব্যাস্ত আছি। নির্বাচন শেষ হলেই প্রথমে কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনে মনযোগ দেয়া হবে। কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের পরপরেই সারাদেশে পর্যায় ক্রমে ফোরামের কমিটি দেয়া হবে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, যারা অতীতে সক্রিয় ছিলেন এবং বিভিন্ন মামলা মোকাদ্দমার সম্মুখীন হয়েছে পাশাপাশি দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছে তাদেরকেই পদ মূল্যায়ন করা হবে। শুধুমাত্র নামকাওয়াস্তে পদ নিয়ে বসে থাকাদের বড় পদ দেয়া হবে না। দল এখন আর কোন তদবিরে চলে না। সারাবছর যারা দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছে তাদেরকেই বেছে নেয়া হবে কমিটিতে।

জানা যায়, সামনে ঘোষিত কমিটিতে ইতোমধ্যে যারা সভাপতি সাধারণ সম্পাদক পদে আসীন হতে চান তাদের বিপক্ষে যাতে কেউ বিদ্রোহী কমিটি ঘোষণা না করে তার জন্য আইনজীবীদের নিজেদের পক্ষে টানার তদবির চলছে।

বর্তমানে গত কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন সরকার হুমায়ূন কবীর এবং খোরশেদ আলম মোল্লা ওই কমিটিকে বর্জন করে বিদ্রোহী কমিটি গঠন করেছিলেন এক সময়ে আদালতপাড়ায় একচ্ছত্র রাজনীতির নিয়ন্ত্রক চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তৈমূর আলম খন্দকার পন্থী আইনজীবীরা। সেই কমিটিতে আবদুল বারী ভূইয়াকে সভাপতি ও আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ভূইয়াকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়। পাল্টাপাল্টি এই দুই কমিটি ঘোষিত হওয়ার পর আদালতপাড়ায় দীর্ঘদিন ধরে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের আভ্যন্তরীণ দন্দ জিইয়ে থাকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিনিয়র আইনজীবী জানান, গত কমিটিতে পুরো প্রভাব ছিল মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের। কেন্দ্রীয় কমিটিতে সে সময় ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ছিলেন। তার সাথে সাখাওয়াত হোসেন খানের সুসম্পর্ক থাকায় সুযোগ লুফে নেন সাখাওয়াত পন্থী আইনজীবীরা। তবে এবার সেই সুযোগ পাবেনা সাখাওয়াত এমনটাই জানিয়েছেন প্রতিবেদককে। গতবারের তৈমূর বলয়ের পদবঞ্চিতরা এবার সুযোগ পেতে পারেন এমনটাই সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এবার সভাপতি পদে প্রার্থী হতে মুখিয়ে আছেন ৩ জন। তারা হলেন গত কমিটির সভাপতি সরকার হুমায়ূন কবীর, সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম মোল্লা ও বিদ্রোহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হামিদ খান ভাষানী। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে যাদের নাম এগিয়ে আছে তারা হলেন আজিজ আল মামুন, আজিজ মোল্লা, রাসেল প্রধান, শরিফুল ইসলাম শিপলু, নজরুল ইসলাম মাসুম, আবুল কালাম আজাদ জাকির এবং আনোয়ার প্রধান।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও