বিএনপি মাইনাসে আওয়ামীলীগ জাপা লড়াই

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৩১ পিএম, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ সোমবার

বিএনপি মাইনাসে আওয়ামীলীগ জাপা লড়াই

দফায় দফায় বিএনপি দলটির ভরাডুবির কারণে আওয়ামী লীগের নেতৃতাধীন ক্ষমতাসীন মহাজোট এখন বিএনপির বিরোধীতা থেকে সরে আসছে। তবে বিএনপি দলটি যদি ফের বড় ধরনের আন্দোলনের চেষ্টা করে তবে হামলা, মামলার চিত্র আরো প্রবল হবে।

এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভরাডুবির ফলে বিএনপি ভোট কারচুপির নানা অভিযোগ তুলেছে। তারই ধারাবাহিকতায় আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি দলটি অংশগ্রহণ করবে না বলে জানিয়েছে। এতে করে এই নির্বাচনে মহাজোটের আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টির মধ্যে এই লড়াই দেখা যাবে।

এই নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীতাকারী প্রার্থীদের হঠাৎ করেই আলোচনায় রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় জেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম চেঙ্গিস, বন্দর উপজেলায় জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান ও আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ রশিদ।

এই দুই উপজেলায় আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য এই দুই প্রতিদ্বন্দ্বীকারীকে চাচ্ছে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। ইতোমধ্যে তাদেরকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা গুঞ্জনও ভেসে বেড়াচ্ছে। তবে সদরে মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল ও মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহনিজাম বেশ শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বি। অন্যদিকে মহানগর আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি চন্দন শীল বেশ কয়েকবার জনপ্রতিনিধি হওয়া থেকে নানা কারণে বিরত থেকেছেন। যেকারণে এবার উপজেলা নির্বাচনে এই নেতার মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই বেশি।

এখানেই শেষ নয়, আওয়ামীলীগ দলটির পাশাপাশি ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ দলটির শরীক দল জাতীয় পার্টি দলের কয়েকজন প্রার্থীও মনোনয়ন তালিকায় রয়েছেন। এতে করে আওয়ামীলীগ দলটির পাাশাপাশি জাতীয় পার্টি দলটির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দ্বন্দ্ব দেখা দিবে।

সূত্র বলছে, ‘গত উপজেলা নির্বাচনে আওামীলীগ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও মহানগর বিএনপি সহ  সভাপতি আতউর রহমান মুকুলকে চেয়ারম্যান নির্বাচনে জয়লাভ করতে জাতীয় পার্টি দলটির পূর্ণ সমর্থন ছিল। যেকারণে মুকুল সেই কৃতজ্ঞতা স্বরূপ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নিজ দলীয় প্রার্থীকে বাদ দিয়ে ক্ষমতাসীন জাতীয় পার্টি দলটির প্রার্থী সেলিম ওসমানের নির্বাচন করেছেন। আর বিএনপি দলীয় প্রার্থীর বিরোধীতা করে তার নির্বাচন বয়কট করেছেন। এদিকে সদর উপজেলায়ও একই অবস্থা দেখা গেছে।

এদিকে বিএনপি দলটি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভরাডুবির কারণ হিসেবে ভোট কারচুপি সহ কেন্দ্র দখলের অভিযোগ তুলেস। তাদের ধারণা উপজেলা নির্বাচনেও একদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতই অবস্থা হবে। যেকারণে তারা আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেনা বলে জানিয়ে দিয়েছে।

নির্বাচনী বছরের শুরু থেকেই বিএনপি দলটি হামলা, মামলায় জর্জরিত হয়ে কোনঠাসা হয়ে পড়ে। এতে করে বিএনপি দলটি একেবারে বেশামাল হয়ে পড়ে। দফায় দফায় এর মাত্রা ক্রমশ বড়তে থাকে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলটি বড় ধরণের জয় পেলে এই হামলা, মামলার চিত্র অনেকটা থমকে যায়।

সূত্র বলছে, ক্ষমতাসীন দলটির টার্গেট ছিল হামলা, মামলার দিয়ে দমন পীড়নের মধ্য দিয়ে বিএনপি দলটিকে যে কোনভাবেই মাইনাস করা হবে। তবে নির্বাচনে বিএনপি দলটি অংশগ্রহণ করলেও ভরাডুবির কারণে দলটি ফের ক্ষমতা থেকে মাইনাস হয়ে যায়। এমনকি বিরোধী দল হিসেবেও সংসদে থাকতে পারেনি। এতে করে কার্যত অর্থে বিএনপি দলটির মাইনাস হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘বিএনপি দলটি সবকিছুতে মাইনাস হওয়ার ফলে আওয়ামীলীগ জাপার দ্বন্দ্ব ও লড়াই দৃশ্যমান হবে। এমনকি আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন এই দুটি দলের লড়াই দেখা যাবে। আর সেই মাঠে বিএনপি দলটিকে দেখা যাবেনা।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও