কালো তালিকায় বিএনপির সুবিধাবাদী বিদ্রোহীরা

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৩৬ পিএম, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ সোমবার

কালো তালিকায় বিএনপির সুবিধাবাদী বিদ্রোহীরা

নারায়ণগঞ্জ বিএনপি দলটি একাদল সুবিধাবাদী ও বিদ্রোহী নেতারা দলের সাথে বেঈমানী করে ক্ষমতাসীনদের সাথে হাত মিলিয়ে ক্ষমতাসী দলটির সকল ধরনের সুবিধা ভোগ করছেন। তবে বিএনপি দলটি এসব নেতাদের কর্মকান্ডে বারবার মুখ থুবড়ে পড়ছেন। সদ্য অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ভরাডুবির চিত্র দেখা যায়। এতে দলটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দলের সুবিধাবাদী বিদ্রোহী বেঈমানদের চিহ্নিত করেছে। আর সেসব নেতাদের একটি কালো তালিকা করা হচ্ছে। দলটি সময়মত দলের বেঈমান নেতাদের বিভিন্নভাবে শাস্তি দিবে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিএনপি দলটি বেকায়দায় পড়া সহ দলটির ভরাডুবির পেছনে দলের একটি পক্ষও অনেকাংশে দায়ী। আর দলের ভেতরের সেসব দায়ীদের একটি তালিকা করা হচ্ছে। কালো তালিকাভুক্ত সেসব নেতাদের রাখা হচ্ছে। খুব শিঘ্রই দলের এসব নেতাদের বিরুদ্ধে শাস্তি বিধান আসছে বিভিন্ন মেয়াদে।

সদ্য অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারা দেশের মত নারায়ণগঞ্জ জেলার ৫টি আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে ভোটার ও নেতাকর্মীদের বাধা দিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ জাতীয় পার্টি সহ বিএনপি দলীয় একাংশ নেতাকর্মীরা। তবে সবাইকে তাক লাগিয়ে জাপা ও আওয়ামীলীগের বিরোধীতার পাশাপাশি বিএনপি দলীয় একাংশ নেতাকর্মীরা ধানের শীষের প্রার্থীর সমর্থক ও ভোটারদের বিরোধীতা করেছেন। আর এসব ভোটার ও নেতাকর্মীদের কেন্দ্র থেকে বিতারিত করেছে। আবার কোন কোন কেন্দ্রে ধানের শীষের এজেন্ট ও সমর্থকদের উত্তম মধ্যম দিয়ে বের করে দিয়েছে জাপা ঘেঁষা বিএনপিরা। এছাড়া এই আসনের বিভিন্ন কেন্দ্রে জাপা ঘেঁষা বিএনপি অনেক নেতাকর্মীরা ক্ষমতাসীনদের সহায়তা করে বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীদের বিরোধীতা করেছে। এমনকি তাদের মারধর পর্যন্ত করেছে। বন্দর উপজেলার চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল এবং আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রশিদ সকল কেন্দ্রে গিয়ে এজেন্টদের এবং ভোটারদের বের করে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এর আগে এই আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকে অনেকটা নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে বিএনপি দলটির একাংশ যারা আগে থেকেই জাপা ঘেঁষা নেতা হিসেবে পরিচিত তারা ধানের শীষের প্রার্থী এস এম আকরামকে বয়কট করে ক্ষমতাসীনদের পক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ করা শুরু করে।

এমনকি বন্দর সিরাজউদ্দৌলা ক্লাব মাঠে আকরামের আয়োজনে ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে যেখানে কেন্দ্রীয় নেতারা এসেছিলেন। সেই সমাবেশে ওইখানে করতে বাধা দেয়া মুকুল পন্থী ২২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সুলতান আহম্মেদ। যেকারণে আকরাম এর আগেও অভিযোগ করে বলেছে, ‘মুকুল পন্থী বিএনপি নেতাদের উপর বিএনপির নিয়ন্ত্রণ নেই।’ এমনকি ঐক্যফ্রন্টের সেই সমাবেশে কালাম ও মুকুল পন্থীরা অনুপস্থিত থাকায় তাদেরকে দল থেকে শাস্তি দেয়া হয়েছে।

এতে সদ্য অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের ভরাডুবির চিত্র দেখা যায। এ পরাজয়ের কারণ অনুসন্ধান করার জন্য কেন্দ্রীয় বিএনপির একটি তদন্তকারী টিম কাজ করছে।

সেই তদন্তকারী টিম সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন চলাকালিন সময়ে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থীদের সাথে সমাঝোতা করেছিলেন। একই সাথে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তারা আওয়ামীলীগের কাছে বিক্রি হয়ে গিয়েছিলেন। ফলে নির্বাচনের সময় তাদের ভূমিকা ছিল নিস্ক্রিয়। নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের মধ্যে কোন আসনেও বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের মনোনীত প্রার্থীদের পক্ষে জোরালোভাবে নির্বাচনে মাঠে নামেননি।

জানা গেছে, নির্বাচনের পর গঠিত সেই তদন্তকারী টিমের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের জমিয়ত উলামা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে ভুল ম্যাসেজ দিয়েছে। তাদের সেই বানানো ভুল বার্তায় বলা হয়েছিল, ‘‘এই আসনে জমিয়ত উলামার মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মনির হোসাইন কাশেমী সংসদীয় এলাকায় অনেক জনপ্রিয়। শামীম ওসমানকে পরাস্ত করার সক্ষমতা ও প্রচুর অর্থ খরচের মানসিকতা একমাত্র কাশেমীর আছে। ৫০ কোটি টাকা বিদেশ হতেও আসবে তহবিল হিসেবে। সে টাকা দেওয়া হবে প্রশাসনকে ও বিএনপির সকল নেতাকর্মীকে।’

সূত্র বলছে, বিএনপি দলটি ভরাডুবির কারণ বের করতে তদন্ত করে এর তথ্য বের করা হয়েছে। আর সেই তথ্যে দলের বিদ্রোহী বেঈমান নেতাদের চিত্র ফুটে উঠেছে। আর তাতে দলের পদ পদবীধারী বেঈমানদের মুখোশ প্রকাশ্যে উন্মোচিত হয়েছে। দলের নেতাদের জন্য কয়েকটি ক্যাটাগরিতে তালিকা করা হচ্ছে। তার মধ্যে এসব নেতাদের ব্লাকলিস্টে রাখা হচ্ছে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও