২ বছরেও পূর্ণাঙ্গ হয়নি নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির কমিটি

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:১১ পিএম, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ মঙ্গলবার

২ বছরেও পূর্ণাঙ্গ হয়নি নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির কমিটি

নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির কমিটি হয়েছে দুই বছর পূর্ণ হলো। ২০১৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারী আলাদা করে জেলা ও মহানগর বিএনপির কমিটি হয়। কিন্তু দুই বছরেও সে কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয়নি। বরং এ দুই বছরে দলের ভেতরে বাড়ছে কোন্দল ও অস্থিরতা।

এদিকে বিএনপির নেতারা জানান, ২০১৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারী জেলা ও মহানগর বিএনপির কমিটি গঠনের পর শুরুতে কিছুটা চাঙ্গা থাকলেও ক্রমশ সেটা মিইয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে কয়েকটি ঘটনা পুরো কমিটির নেতাদের নানা কারণে বিতর্কে বিধছে। তম্মধ্যে জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সরকার দলের নেতাদের গোপন আঁতাত ও সেই সঙ্গে কর্মসূচীতে নিস্ক্রিয়তার খবর চলে গেছে কেন্দ্রে।

অপরদিকে মহানগর বিএনপিও যে কর্মকান্ডে নিস্ক্রিয় সেটাও প্রতীয়মান হচ্ছে। কেন্দ্রে এ ব্যাপারে নালিশও গেছে। নেতাদের চেয়ে পুলিশের সংখ্যা বেশী থাকে। এবং এসব কর্মকান্ডে মাত্র ১০ থেকে ১৫জন থাকে সে প্রমাণাদিও গেছে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের মতে, এ দুটি কমিটি দিয়ে ভবিষ্যতে আন্দোলন করতে বেশ বেগ পেতে হবে। তখন বিএনপি ব্যর্থতার পরিচয় দিবে। সে কারণেই এখন থেকেই কমিটি পুনর্গঠন করে অনেক নেতাদের আবারও সামনে আনা হবে। মহানগরের যেসব নেতারা বিগত দিনে আন্দোলনে ছিল কিন্তু এখন পদ পায়নি তাদেরকে আনা হবে আবারও। এ ক্ষেত্রে শীর্ষ পদ না পেলেও তাদের হাতেই দেওয়া হবে নেতৃত্বের কর্তৃত্ব। একই পরিণতি করা হবে জেলাতেও।

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক তিনবারের এমপি আবুল কালামকে সভাপতি ও বিলুপ্ত নগর বিএনপির সেক্রেটারী এটিএম কামালকে সেক্রেটারী করে মহানগর বিএনপির কমিটি গঠন করা হয়।

২৩ সদস্যের কমিটিতে সহ সভাপতি হলেন অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, বিদ্রোহী কমিটির সভাপতি নুরুল ইসলাম সরদার, বন্দর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল, বন্দর থানা বিএনপির সভাপতি হাজী নূরউদ্দিন, বিলুপ্ত নগর কমিটির সহ সভাপতি জাকির হোসেন, আইনজীবী নেতা সরকার হুমায়ূন কবির, ফখরুল ইসলাম মজনু, বেগম আয়েশা আক্তার। যুগ্ম সম্পাদক ২জন হলেন আজহারুল ইসলাম বুলবুল ও মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। সাংগঠনিক সম্পাদক তিনজন হলেন আবদুস সবুর খান সেন্টু, ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু ও আবু আল ইউসুফ খান টিপু। সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আওলাদ হোসেন, মনিরুল ইসলাম সজল, মাহাবুবউল্লাহ তপন। কোষাধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান মনির। দপ্তর সম্পাদক হান্নান সরকার ও প্রচার সম্পাদক সুরুজ্জামান।

এর আগে ২০০৯ সালের অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ নগর বিএনপির কমিটি গঠন করা হয় সম্মেলন করে। সেখানে জাহাঙ্গীর আলম সভাপতি ও এটিএম কামাল হন সেক্রেটারী।  গত কয়েক বছর ধরেই কমিটি গঠন নিয়ে চলছে নানা জল্পনা কল্পনা। গত ২২ ডিসেম্বর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর থেকেই কমিটি গঠন নিয়ে শুরু হয় তোড়জোড়। আর এ নিয়ে নেতারাও বেশ উদগ্রীব ছিল কমিটি গঠনে। এ অবস্থায় সোমবার বিকেলে ঘোষণা করা হয় কমিটি। কমিটিতে সহ সভাপতি হিসেবে রাখা হয়েছে গত ২২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়া সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পরাজিত মেয়র প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন খানকে।

অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ২৬ সদস্যের আংশিক কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয় জেলা বিএনপির সাবেক কমিটির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামানকে সভাপতি ও জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে সেক্রেটারী করে জেলা  বিএনপির কমিটি গঠন করা হয়।

২৬ সদস্যের কমিটিতে সহ সভাপতি হলেন শাহ আলম, খন্দকার আবু জাফর, জান্নাতুল ফেরদৌস, শাসমসুজ্জামান, আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস, আজহারুল ইসলাম মান্নান, আবদুল হাই রাজু, মনিরুল ইসলাম রবি, ব্যারিস্টার পারভেজ আহমেদ, লুৎফর রহমান। যুগ্ম  সম্পাদক লৎফর রহমান খোকা, এম এ আকবর। সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হাসান রোজেল, নজরুল ইসলাম পান্না, মাসুকুল ইসলাম রাজীব। সহ সাংঠনিক সম্পাদক উজ্জল হোসেন, অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হাসান ও রুহুল আমিন। সদস্য পদে সাবেক এমপি রেজাউল করীম, গিয়াসউদ্দিন, বদরুজ্জামান খান খসরু, নজরুল ইসলাম আজাদ, আতাউর রহমান আঙ্গুর ও মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভূইয়া।

এর আগে ২০০৯ সালের ২৫ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটি গঠন করা হয় সম্মেলন করে। সেখানে অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার সভাপতি, কাজী মনিরুজ্জামান সেক্রেটারী ও মুহাম্মদ শাহআলম হন সহ সভাপতি। এর পর ৭ বছর ধরেও কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয়নি। তবে গত বছরগুলোতে আন্দোলন সংগ্রামে কোন ভূমিকাই ছিল না কাজী মনির ও শাহআলমের। বরং আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করেই চলতে হয়েছে তাঁদেরকে।

বিএনপি দলীয় সূত্র বলছে, গত ৩০ ডিসেম্বর নানা আলোচনা আর সমালোচনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের সংগঠনের প্রতি ভালোবাসা ও আনুগত্যকে পরখ করেছেন কেন্দ্রীয় বিএনপি। ফলে নির্বাচনের পর পরই দলের ভবিষ্যত কর্মপন্থা নির্ধারনের জন্য রাজধানীর পাশ্ববর্তী জেলা হিসেবে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে উত্থান পতনের সম্ভাবনা রয়েছে। যার ধারাবাহিকতায় প্রথমেই নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপিতে রদবদলের আভাস পাওয়া গেছে। তবে দলের গতি ফিরিয়ে আনার জন্য আগের কমিটি ভেঙ্গে দেয়া হবে নাকি আগের কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হবে সেটা নিয়ে তৃণমূলে নানা আলাপ আলোচনা চলমান রয়েছে।

অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির কমিটি গঠনের প্রায় ২ বছর পেরিয়ে গেলেও তারা এখন পর্যন্ত কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে পারেননি। আংশিক কমিটি দিয়েই চলছে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম। এভাবে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির একের পর এক ব্যর্থতায় কমিটিকে নতুন করে সাজানোর সম্ভাবনা প্রবল হচ্ছে। তবে সেক্ষেত্রে আগের কমিটি পূর্ণাঙ্গ হবে নাকি আবার নতুন নেতৃত্ব দিয়ে নতুন কমিটি হবে সেটা নিয়ে দলের তৃণমূলে নানা আলোচনা জন্ম দিয়েছে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও