শামীম ওসমানের আসনে দখলবাজী চাঁদাবাজী

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:২৫ পিএম, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ মঙ্গলবার

শামীম ওসমানের আসনে দখলবাজী চাঁদাবাজী

বাংলাদেশের প্রভাবশালী এমপিদের একজন শামীম ওসমান। তিনি নিজেও দাবী করেন দেশের অন্য এমপিরা যা না পারেন তিনি অনেক কিছুই করে দেখাতে পারেন। একাধিক জাতীয় গণমাধ্যমেও খবর প্রকাশ পেয়ে মন্ত্রীর চেয়েও কম শক্তিশালী না শামীম ওসমান। তিনিও মন্ত্রীদের সমান প্রভাব রাখেন। তবে শামীম ওসমানের আসনে এখন চলছে ব্যাপক চাঁদাবাজী, দখলবাজি। সাধারণ মানুষকে জিম্মী করে পকেট টাকা হচ্ছে।

ফতুল্লার বিভিন্ন স্থানে ব্যাটারি চালিত অটো রিকশা হতে নেওয়া হচ্ছে মোটা অংকের চাঁদাবাজী।  ব্যাটারী চালিত ইজিবাইক ও প্যাডেল চালিত রিকসার মালিক ও চালকেরা জানান, কাউছার আহমেদ পলাশ প্রভাব খাটিয়ে ব্যাটারী চালিত ইজিবাইক ও প্যাডেল চালিত রিকসার মালিক এবং চালকদের জিম্মি করে প্রকাশ্যে শ্রমিক উন্নয়নের নামে চাঁদাবাজী করেন। রিকশার লাইসেন্স দেন ইউনিয়ন পরিষদ। সেই লাইসেন্স টেনে ফেলে দিয়ে পলাশের সন্ত্রাসী বাহিনী তাদের নিজস্ব টিন দিয়ে তৈরী করা প্লেট লাগাতে বাধ্য করে। তাদের প্লেট কিনতে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা দিতে হয়। একই সঙ্গে ইজিবাইক ও রিকশা প্রতি দৈনিক ৩০ টাকা প্রশাসন ও যানজট নিরসনের নামে এবং মাসে দিতে হয় ৩০০ টাকা। আর নয়তো সড়কে রিকশা চলতে দেয়না। যারা তাদের প্লেট ছাড়া রিকশা চালাবে তাদের ধরে নিয়ে আলীগঞ্জ খেলার মাঠ সংলগ্ন ক্লাবসহ কয়েকটি স্থানে নিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং রিকশা আটকিয়ে রাখেন। পরে তাদের ধার্য্য করা জরিমানা দিয়ে ইজিবাইক ও রিকশা ছাড়িয়ে আনতে হয়। এভাবেই প্রায় ৬ থেকে ৭ বছর ধরে চলছে দরিদ্র মানুষের উপর নির্যাতন।

এরই মধ্যে গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়া জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থী শামীম ওসমানকে পাগলা এনে নির্বাচনী সভা করায় ট্রাক মালিক সমিতির নেতাকে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রমিক উন্নয়ন ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কাউসার আহমেদ পলাশের বিরুদ্ধে। ১৭ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে ট্রাক চালক ইউনিয়নের পাগলা শাখার কার্যালয়ে। তবে পলাশের দাবী, তিনি কাউকে মারধর করে নাই।

পাগলা বাজার সমবায় সমিতির সভাপতি হাজী মোঃ শাহ আলম গাজী (টেনু) জানান, ট্রাক চালক ইউনিয়নের পাগলা শাখার সদস্য আবু তাহের ইউনিয়নের মাসিক সভায় যোগ দেন। এ সময় কার্যকরী সভাপতি কাউসার আহমেদ পলাশ তাহেরকে দেখেই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। ‘কোন সাহসে পাগলায় শামীম ওসমানকে এনে সভা করেছিস’ বলে তাহেরের দিকে তেড়ে আসে। এই প্রশ্নের জবাব দেয়ার আগেই পলাশের অনুসারী বশির, আবুল, বাবুল তাহেরকে পেটাতে থাকে। তাহেরকে মারার সময় অন্যদের সঙ্গে পালাশ যুক্ত হয়ে নিজেও তাহেরকে পেটাতে থাকে।

এসময় তাহেরের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। ১০ লাখ টাকা না দিলে মেরে ফেলারও হুমকি দেয়া হয়েছে বলে দাবি করেন টেনু। টেনু বলেন, এই মারধরের খবর ছড়িয়ে পড়লে তাহেরের অনুসারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে। যে কোন সময় যে কোন ঘটনা ঘটতে পারে। তাই থানায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করতে অভিযোগ করা হয়েছে।

এখানে উল্লেখ্য এর আগে সংবাদ সম্মেলনে মালিক ও শ্রমিকরা জানান, আমরা এই ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা (ইজিবাইক) চালিয়ে কোন রকমে আমাদের পরিবার পরিজন নিয়ে জীবন যাপন করি। অথচ ব্যটারীচালিত অটোরিকশার কমিটির আহবায়ক ও জাতীয় শ্রমিকলীগের শ্রমিক উন্নয়ন ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কাউসার আহাম্মেদ পলাশের নেতৃত্বে একটি চাঁদাবাজ মহল আমাদের পেটে লাথি মেরে আমাদের পরিবারের হক নষ্ট করে জোড় জুলুম অন্যায় অত্যাচার করে আমাদের ঘাম ঝরানো অর্থ টোকেনের মাধ্যমে চাঁদাবাজী করে নিয়ে যায়। আমরা বিপদে আপদে পড়লে সড়কে কোন দুর্ঘটনা ঘটলে তারা আমাদের কোন সাহায্য সহযোগিতা করেনা অথচ সাহায্য সহযোগিতার কথা বলে প্রতিদিন আমাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে আমাদের কষ্টের উপার্জিত অর্থ। ৬ বছর আগে টোকেন বাবদ প্রতি অটোরিকশা থেকে নেয়া হয়েছে ৬ হাজার ৫০০ টাকা। ৪০০ অটোরিকশা থেকে নেয়া হয়েছে সর্বমোট ২৬ লাখ টাকা। এছাড়া প্রতি ৩০ টাকা চাঁদা হিসেবে ৪০০ টি অটোরিকশা থেকে দৈনিক ১২ হাজার টাকা যা মাসে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা যা বছরে দাড়ায় ৪৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। এছাড়া ৩০০ টাকা মাসিক চাঁদা হিসেবে প্রতি মাসে ৪০০ টি অটোরিকশা থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা যা বছরে দাড়ায় ১৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা। শ্রমিকদের কল্যাণ ফান্ডের কথা বলা হলেও গত ৬ বছরে কেউই কল্যাণ ফান্ডের কোন হিসাব পায়নি। বরং হিসাব চাওয়ায় কমিটির সদস্যদেরকেও লাঞ্ছিত করে কমিটি থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। কুতুবপুর এলাকায় ব্যটারীচালিত অটোরিকশার কমিটির আহবায়ক ও জাতীয় শ্রমিকলীগের শ্রমিক উন্নয়ন ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কাউসার আহাম্মেদ পলাশের অনুগামী আজিজুল হক, মজিবর, সালু, সোহাগসহ একটি সিন্ডিকেট চাঁদাবাজি করে আসছে। এভাবে পঞ্চবটি থেকে পাগলা রুটেও বেপরোয়াভাবে চাঁদাবাজি চলে আসছে। আমাদের গরীবের ঘাম ঝরানো এই অর্থ দিয়ে কেউ কেউ রাতারাতি বিশাল অর্থের মালিক হয়ে গেছেন।আমরা আর কোন চাঁদাবাজকে চাঁদা দিতে চাইনা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার মহোদয়ের সুদৃষ্টি কামনা করছি অচিরেই যেন আমাদের এই চাঁদা দেয়া বন্ধ হয়।

জানা গেছে, গত ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জে আরেক ‘নূর হোসেন ফতুল্লার গডফাদার পলাশ ও তার চার খলিফা’ শিরোনামে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়। এছাড়া পলাশের কোন নাম না থাকলেও একটি সংবাদের রেশ ধরে সময়ের নারায়ণগঞ্জ, ডান্ডিবার্তা ও অনলাইন নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকমের ৫ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ২০ কোটি টাকার মানহানি মামলা করেন ও দুইটি তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা করেন। এর মধ্যে দৈনিক যুগান্তরের ফতুল্লা প্রতিনিধি আলামিন প্রধানের বিরুদ্ধে ১০ কোটি, ইত্তেফাকের নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা ও স্থানীয় দৈনিক ডান্ডিবার্তা পত্রিকার সম্পাদক হাবিবুর রহমান বাদলের বিরুদ্ধে ৫ কোটি এবং দৈনিক সময়ের নারায়ণগঞ্জ পত্রিকার সম্পাদক জাবেদ আহমেদ জুয়েলের বিরুদ্ধে ৫ কোটি টাকার মানহানি মামলা করেন। একই সঙ্গে আলামিন প্রধান ও নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকমের নির্বাহী সম্পাদক তানভীর হোসেনের বিরুদ্ধে দুইটি ৫৭ ধারায় মামলা করেন।

ওই সংবাদ প্রকাশের পর শুধু মামলা নয় তার বাহিনীর সদস্যরা ফতুল্লায় মিছিল করে সাংবাদিকদের চামড়া তুলে নেওয়ার হুমকি দেয়।

গত ৫  মে ‘এক পলাশেই সর্বনাশ’ শিরোনামে ও  নারায়ণগঞ্জে শ্রমিকলীগের নাম তান্ডব, চাঁদার জন্য ৩৬ শিল্প-কারখানা বন্ধ, এলাকা ছাড়ছেন ব্যবসায়ীরা’ বিশেষণে বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয় যা নিয়ে রীতিমত তোলপাড় হয়। ওই সংবাদটিতে বলা হয়েছে, অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছেন ফতুল্লার শ্রমিক লীগ নেতা কাউসার আহমেদ পলাশ। সরকার, প্রশাসন, দল- কোনো কিছুরই তোয়াক্কা করেন না তিনি। দেশের বৃহত্তম রপ্তানি খাত নিটশিল্পের প্রধান কেন্দ্র ফতুল্লার বিসিক পল্লীর শত শত গার্মেন্ট মালিক শ্রমিক অসন্তোষের আড়ালে পলাশের চাঁদাবাজির কাছে জিম্মি। শুধু ফতুল্লাতেই পলাশের ৭৪টি শ্রমিক সংগঠন রয়েছে; যার সব কটির শীর্ষপদই তার দখলে। আর ফতুল্লা আঞ্চলিক শ্রমিক লীগের সভাপতির পদটি দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে নিজের কব্জায় ধরে রেখেছেন।

জানা গেছে, ২০০৯ সালের জুন মাসে হাইকোর্ট রাজধানী ঢাকার পার্শ্ববর্তী বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ ও বালু এই ৪টি নদী রক্ষায় জেলা প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএ’কে নির্দেশ দেয়। জেলা প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএ’র যৌথ উদ্যোগে সিএস ও আরএস অনুযায়ী জরিপ করে নদীর সীমানা নির্ধারণ করে। ২০১১ সালে শুরু হয় সীমানা নির্ধারণী পিলার স্থাপনের কাজ। ২০১২ সালে শুরু হয় শীতলক্ষ্যা ও বুড়িগঙ্গায় ওয়াকওয়ে নির্মাণের কাজ।

বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা গেছে, বুড়িগঙ্গা নদীর পোস্তগোলা থেকে পঞ্চবটি পর্যন্ত ১২ কোটি টাকা ব্যায়ে দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু প্রভাশালী ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীরা বালু, পাথর, ইট, সুরকী, কয়লা, গাছের গুড়ি ফেলে ওয়াকওয়ে দখল করে রেখেছে। আবার কোথাও কোথাও রেলিং ভেঙ্গে গাছের গুড়ি গেড়ে বালু ইট সুরকী ফেলে নদী ভরাট করে এবং বাশের খুঁটিগেড়ে জেটি বানিয়ে মালামাল লোড আনলোড করে আসছে। যার কারণে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ওয়াকওয়ে ব্যবহারের সম্পূর্ণ অনুপযোগী ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। ২০১৮ সালের ৩ মে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ঢাকা বন্দর নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার পোস্ট অফিস থেকে আলীগঞ্জ পর্যন্ত বুড়িগঙ্গার তীর ও ওয়াকওয়ে দখল করে অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা ও ভাঙচুরের অভিযোগে জিডি করেছিল । ওই জিডিতে শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রমিক উন্নয়ন ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক এবং ফতুল্লা আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি কাউসার আহমেদ পলাশ ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছিল। এতে বলা হয়েছিল, সরকার কর্তৃক নির্মিত ওয়াকওয়ে তারা অন্যায়ভাবে ব্যবহার সঙ্গে ব্যবসার কারণে সেটা ভেঙে ফেলেছে।

সরেজিমনে ফতুল্লা বালুরঘাটের সামনে নদীর তীর দখল করে চলছে বালু ও ইটের ব্যবসা। দাপা বালু ও পাথরঘাট এলাকায় নদীর কয়েকশ’ ফুট এলাকা ভরাট ও দখল করে বালু, পাথর ও চীনামাটির ব্যবসা করছেন একাধিক ব্যবসায়ী। এই এলাকার বেশ কিছু স্থানে ওয়াকওয়ে ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। স্থাপন করা হয়েছে একাধিক বাশের জেটি। ওয়াকওয়ের উপরেই চলছে বালু ও পাথরের ব্যবসা। ওয়াকওয়ের পাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছে বিশালাকারের ভারী ভারী পাথর। ওই পাথরের চাপে ওয়াকওয়ের অবস্থা করুন। যেন ছেড়ে দে মা কেঁদে বাচি। অনেক স্থানেই ভেঙ্গে গেছে। আবার কোন কোন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। বিশালাকারের একাধিক ক্রেন স্থাপন করে নদীর তীরে নোঙর করে রাখা বিশালাকারের জাহাজ থেকে পণ্য লোড আনলোড করা হচ্ছে। ওয়াকওয়ের উপরে ও নদীর তীরে বসানো হয়েছে একাধিক বিশালাকারের মেশিন। এই এলাকায় পলাশের সেকেন্ড হ্যান্ড হচ্ছেন মোহাম্মদ আলী ট্রেডিং করপোরেশনের মালিক মোহাম্মদ আলী। চিটাগাং থেকে জাহাজযোগে আনা পাথর স্তূপ করে রাখা হয়েছে নদীর তীরে।

আলীগঞ্জে টিসিবির ভবন সংলগ্ন এলাকা থেকে পিডব্লিউডি খেলার মাঠ পর্যন্ত এলাকাতেই মূলত ওয়াকওয়ের ত্রাহিদশা। আলীগঞ্জ মাদরাসা সংলগ্ন ঘাট থেকে কয়েকশ’ ফুট ওয়াকওয়ে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। সেখানে এখন ওয়াকওয়ের চিহ্ন বলতেই নেই। অনেক স্থানেই ওয়াকওয়ে ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। আলীগঞ্জ মাদরাসা ঘাটে নদীর তীর দখল করে বসানো হয়েছে একাধিক বিশালাকারের ক্রেন। ২/৩টি এক্সাভেটরও (ভেকু) রয়েছে। অবাধে চলছে বালু, কয়লার লোড আনলোডিং কার্যক্রম। স্তুপীকৃত করে রাখা হয়েছে বালু ও কয়লা। স্থাপন করা হয়েছে একাধিক বাশের জেটি। তবে এর পাশাপাশি চোরাই তেল বিক্রির একটি পল্টি দোকানও দেখা গেছে। ওয়াকওয়ের উপরেই ট্রাক থামিয়ে লোড আনলোড চলছে।

এ বিষয়ে এর আগে মোহাম্মদ আলী বলেছিলেন, আমি নদীর জায়গা দখল করি নাই। আমাদের শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি কাউসার আহমেদ পলাশ।

জানা গেছে, ফতুল্লা, আলীগঞ্জ, পাগলাবাজার এলাকার ওয়াকওয়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ করে এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি তারা ব্যবসা করছে। আমাদের কোটি কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত ওয়াকওয়ে ভেঙে তারা সেখে কয়লা, বালু, সাদা সিমেন্ট সহ নানা রকম ব্যবসা করছে। অনেকেই কাউসার আহমেদ পলাশের নাম বলেছে। তার নেতৃত্বে ওখানে রশিদ হাজী, শাহাদাৎ হোসেন সেন্টু এরা বেশ কিছু প্রভাবশালী লোক এ কাজ করছে। মূলত এগুলোর মধ্যে কাউসার আহমেদ পলাশের নামই বেশি শোনা যাচ্ছে। তার ছত্রছায়া এগুলো হচ্ছে। যারা এখানে নতুন নতুন গদি বানাচ্ছে শোনা যাচ্ছে কাউসার আহমেদ পলাশ এগুলো উদ্বোধন করেছে। ফতুল্লার ২৩টি শ্রমিক সংগঠন পলাশের নিয়ন্ত্রনে।

বিআইডব্লিউটিএ ঢাকা নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক আরিফউদ্দিন বলেন, আমরা গত বছর মে মাসে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছিলাম। শীঘ্রই ওইসকল এলাকায় অভিযান চালানো হবে।

১৬ ডিসেম্বর দুপুরে জেলা সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গনে জেলার শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবার, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সদর উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ বলেন, দাড়ি রেখে টুপি মাথায় দিয়ে চাঁদা তুলবেন, হয় আপনি থাকবেন নয় আমি থাকব। গার্মেন্টস থেকে চাঁদা নিবেন, আবার শ্রমিকদের নিয়ে স্লোগান দিবেন তা হবে না।

এখানে উল্লেখ্য যে, কাউসার আহমেদ পলাশ নিজেকে ফতুল্লার একমাত্র ও অদ্বিতীয় শ্রমিক নেতা মনে করেন। খোদ আদালতে দায়ের করা জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে পলাশ ওই দাবী করেন। তাঁর দাবী, তিনি ফতুল্লার সর্বশ্রেষ্ঠ শ্রমিক নেতা। শ্রমিক নেতা শব্দটি উচ্চারিত হলেই তাঁকেই প্রথম বোঝানো হয়।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও