ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো আধিপত্য বিস্তারের কেন্দ্রবিন্দু

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:১৮ পিএম, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ মঙ্গলবার

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো আধিপত্য বিস্তারের কেন্দ্রবিন্দু

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নিয়ে সব সময়েই বিরোধ জিইয়ে রাখে আধিপত্য বিস্তারকারীরা। আধিপত্য বিস্তারে হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে এমন প্রতিষ্ঠানগুলো। সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোরও একই অবস্থা হয়ে থাকে। এসব প্রতিষ্ঠানের কর্তৃত্ব কব্জা করতে পারলেই বাকিটা এমনিতেই চলে আসে। আর এজন্যই যে কোন মূল্যেই এসব প্রতিষ্ঠানে আধিপত্ব বিস্তারে নামে তারা।

১৮ ফেব্রুয়ারী এমন একটি ঘটনা সবার সামনে চলে আসে। শহরের নলুয়া এলাকায় একটি মসজিদের কমিটি নিয়ে বিরোধের জের ধরে সংঘর্ষের পর ১৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কবির হোসাইন ও সাবেক কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্নাসহ ২২জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এমন সংঘর্ষের ঘটনা অনেক ঘটে থাকে। আর এজন্য অনেক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে এবং উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা এসব প্রতিষ্ঠানের সভাপতি বা মোতওয়াল্লীরা হয়ে থাকেন রাজনীতিক, ব্যাবসায়ী শ্রেণীর প্রভাবশালীরা। যারা প্রতিষ্ঠানের উপকার বা উন্নয়নের জন্য তেমন কোন কাজে না আসলেও পদ-পদবী ধরে রাখে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত।

আর এসব কারণেই বিরোধ চলতে থাকে দিনের পর দিন। একটি অংশ চায় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন করতে, অন্য একটি অংশ চায় প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন দুর্নীতি দূর করতে, আবার আরেকটি অংশ চায় পদ দখলে রেখে বাকী অংশগুলোকে কোনঠাসা করে রাখতে। এসব যখন কোন পথ খুঁজে পায় না তখনি বিকল্প পথ হিসেবে পৃথক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে।

এমন একটি ঘটনাই দেখা যায় নলুয়ায়। ১৭ ফেব্রুয়ারী রাত সাড়ে ৮টায় এশার নামাজের পর শহরের নলুয়া এলাকায় জামে মসজিদে উন্নয়ন মূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সময়ে ১৮নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্নার সভাপতিত্বে মসজিদ কমিটির মিটিং চলাকালীন সময় বর্তমান কাউন্সিলর কবির হোসাইনের ভাগ্নে টিপু (৩৫) মসজিদের হিসাব নিকাশ চায়। তখন মুন্না ও তার লোকজনের সহায়তায় টিপুকে ঘাড় ধরে মসজিদ থেকে বের করে দেয়। টিপু মসজিদের বাইরে এসে তার পক্ষের লোকজনদের একত্রিত করে এবং কাউন্সিলর কবির হোসেনকে সংবাদ দেয়। এমতাবস্থায় মুন্নার ভাই রাজিবুল হাসান রানা (৩৮) তার লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থলে একত্রিত হয়।

এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করে। এর জের ধরে দিনগত রাত ১টায় এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে উভয় পক্ষে অর্থাৎ কামরুল হাসান মুন্না ও কাউন্সিলর কবির হোসেনদের সমর্থিত লোকজন দেশীয় অস্ত্র সস্ত্র নিয়ে একে অপরকে হামলা করে। এতে অন্তত ২০ জন আহত হয়। এছাড়াও কয়েকজন পুলিশ আহত হয়।

রাতেই সদর মডেল থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা হয়। সদর থানায় দায়ের করা একটি মামলায় কামরুল হাসান মুন্নার বিরুদ্ধে কবির হোসাইন বাদী হয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়। এতে অভিযোগ করা হয় মুন্না ধারালো ছুরি দিয়ে কয়েকজনকে কুপিয়ে জখম করে। এ মামলায় কামরুল হাসান মুন্না, রকিবুল হাসান লিয়ন, হুমায়ন কবির ও শ্যামল শীলকে আসামী করা হয়। পুলিশ মামলায় নাম উল্লেখ করা চারজনকেই গ্রেপ্তার করে।

অপরদিকে কাউন্সিলর মুন্না বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। এ মামলায় কাউন্সিলর কবির হোসেন, বিপু, কালা ফারুক, আমিন, ওবায়দুল্লাহ, সাহবুদ্দিন, সুজন মিয়া সহ ১৮ জনকে আসামি করা হয়। কবিরের বিরুদ্ধেও ধারালো অস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষের উপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। সেও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা করেছে অভিযোগ করা হয় মামলায়। এ মামলাতেও পুলিশ ১৮জনকে গ্রেফতার করে।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম জানান, মসজিদের টাকা নিয়ে বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। পরে পুলিশ দুই পক্ষের অভিযোগ গ্রহণ করে উভয় পক্ষের ২২জনকে গ্রেপ্তার করে। আরো তথ্যের জন্য ৭ দিন করে রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়।


বিভাগ : ধর্ম


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও