গোপন ফাঁস করলেন আকরাম

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৭:১৪ পিএম, ১০ মার্চ ২০১৯ রবিবার

গোপন ফাঁস করলেন আকরাম

গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যের প্রার্থী হয়ে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা এ আসনের সাবেক এমপি এস এম আকরাম। তবে নির্বাচনে তাঁর ভরাডুবি ঘটে। এর আগে ২০১৪ সালের ২৬ জুন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে উপ নির্বাচনে আনারস প্রতীক নিয়ে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সেলিম ওসমানের সঙ্গেও হেরে যান তিনি। যদিও ১৯৯৬ সালে তিনি আওয়ামী লীগের এমপি ছিলেন। এবং এর পরে ২০১১ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত তিনি জেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক পদে ছিলেন।

একাদশ সংসদ ও উপ নির্বাচনের পরে পরাজয়ের কারণ ব্যাখা করতে গিয়ে কারচুপির অভিযোগ তুলের তিনি। তবে ভোটের ২মাস পর তিনি আবারো কথা বলেছেন। সেই সঙ্গে আগামীতে নারায়ণগঞ্জ থাকারও প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। সে কারণেই গঠন করা হয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা নাগরিক ঐক্যের কমিটি।

৯ মার্চ শনিবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ শহরের থানা পুকুর পাড়ের লয়েল ট্যাংক রোডে নিজ বাড়িতে নাগরিক ঐক্যের ওই কমিটি গঠনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আকরাম।

৩০ ডিসেম্বরের ভোটে নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর ও বন্দর) আসনে ১৭১ ভোটকেন্দ্রে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান পেয়েছেন ২ লাখ ৭৯ হাজার ৫৪৫ ভোট। ধানের শীষ প্রতীকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা সাবেক এমপি এস এম আকরাম পান ৫২ হাজার ৩৫২ ভোট।

ওই নির্বাচন প্রসঙ্গে আকরাম বলেন, ৩০ তারিখে কোন নির্বাচন হয়নি। যা হওয়ার হয়েছে ২৯ ডিসেম্বর রাতেই। তখনই লোকজন ব্যালট বাক্সে ঢুকিয়ের রেখেছিল। আওয়ামীলীগের লোকজন এমপি হওয়ার জন্য নিজেদের বিবেককে বিক্রি করে দিয়েছে। আওয়ামীলীগ একটি বড় দল। নির্বাচন যদি সুষ্ঠুও করা হতো তবে আওয়ামী লীগ অন্তত ৬২টি আসন পেত। ভাগ্য ভালো যে আওয়ামী লীগ ৩০২ টা সিট পায় নাই। যেভাবে ভোট হয়েছে সে হিসেবে তারা এই পরিমাণের সিটই পেতো।

প্রায় দেড় যুগ পর ২০০৩ সালের ১৬ জানুয়ারী অনুষ্ঠিত হয় বিলুপ্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচন। সেখানে আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে মোমবাতি প্রতীকে চেয়ারম্যান পদে লড়ে জিতে যান আইভী যাঁর প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলেন বিএনপির ওই সময়ের নেতা নুরুল ইসলাম সরদার।

ওই নির্বাচনে আইভীর পক্ষে মুখ্য ভূমিকাতে ছিলেন আকরাম যিনি আবার ২০১১ সালের ৩০ অক্টোবরের নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের জেলার আহবায়ক পদে থেকেও দল সমর্থিত শামীম ওসমানকে বাদ দিয়ে আইভীর পক্ষে মেয়র নির্বাচনে নির্বাচন পরিচালনা বোর্ডের প্রধান হিসেবে কাজ করেন। ভোটের পরদিন আকরাম আওয়ামী লীগ ও পদ দুটি হতেই পদত্যাগ করে নাগরিক ঐক্যে যোগ দেন।

আকরাম বলেন, ২০১১ এর নির্বাচনে আমাকে বলা হয়েছিল শামীম ওসমান যাতে মেয়র হতে পারে সেভাবে কাজ করেন। কিন্তু আমি সরাসরি সেটি প্রত্যাখান করে দিয়েছি।

২০০৩ সালের সেই পৌরসভা নির্বাচন প্রসঙ্গে আকরাম বলেন, তখন অনেক বড় বড় নেতারাও পালিয়ে যায়। তখনকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মতিন চৌধুরীকে সুষ্ঠু নির্বাচনের অনুরোধ করেছিলাম। মতিন চৌধুরীকে বললাম একটা ফেয়ার নির্বাচনের জন্য। তিনি আমার কথা বুঝলেন। তিনি কথা দিলেন নির্বাচন সুষ্ঠু হবে, কোনো কারচুপি হবে না। তিনি তার কথা রেখেছিলেন, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আইভী তখন চেয়ারম্যান নির্বাচন হলেন।

সভায় ইকবাল কবিরকে আহবায়ক ও কবির হোসেনকে সদস্য সচিব করে নাগরিক ঐক্য নারায়ণগঞ্জ জেলার ২৯ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছে দর্পণ কবির, শিউলী সুলতানা রুবি, ফারুক খসরু, এম.এ জাকির, মেবারক হোসেন খোকন, মাহবুব হোসেন, জামাল হোসেন, অনিক ইসলাম হৃদয়, আব্দুর রহমান, খোকন মোল্লা, সাত্তার হোসেন, নাজমা আক্তার, সোহেল রেজা, নূর জামান, মোঃ হক মিয়া, নয়ন মিয়া, ছোব্বির হোসেন, মোঃ হোসেন, মানিক, আনোয়ার হোসেন, শফিকুল ইসলাম, রিংকু মিয়া, কবির হোসেন, শামীম মিয়া ।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও