দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের খড়গে হাই বাদল

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:০৮ পিএম, ১১ মার্চ ২০১৯ সোমবার

দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের খড়গে হাই বাদল

নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সেক্রেটারী ও স্থানীয় উপজেলার সভাপতি ও সেক্রেটারী কর্তৃক সম্মতিক্রমে আড়াইহাজার উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান শাহজালালের নাম স্থানীয়ভাবে চূড়ান্ত করা হলেও কেন্দ্রে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সেক্রেটারীর পাঠানো চিঠিতে সে নাম ছিল না। বরং সভাপতি ও সেক্রেটারী সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মুজাহিদুর রহমান হেলো সরকারের নাম কেন্দ্রে পাঠান তাঁর প্রশংসা করে। অথচ দলটির হাইকমান্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা ও স্থানীয় শীর্ষ পদীয় সভাপতি ও সেক্রেটারীর সিদ্ধান্তে যার নাম গৃহীত হবে তার নাম কেন্দ্রে পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু এখানে পুরোই উল্টো চিত্র দেখা গেছে যা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের শামিল।

সম্প্রতি জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সেক্রেটারী কর্তৃক স্বাক্ষরকৃত কেন্দ্রে পেরিত এক চিঠি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত হলে চারদিকে সমালোচনার ঝড় উঠে। কারণ ওই চিঠি চালাচালিতে গোপন আতাঁতের মাধ্যমে স্বেচ্ছাচারিতার চিত্র দেখা গেছে।

জেলার সভাপতি ও সেক্রেটারীর এ চিঠি নিয়ে এখন জেলার রাজনীতি চলছে তোলপাড়। স্থানীয় তথা থানা আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, তারা তৃণমূল বসে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সেখানে আবার জেলার নেতারা হস্তক্ষেপ করেছে। আর এতে করে দলের অভিভাবকদের উপর বাড়ছে ক্ষোভ। তাছাড়া জেলার সভাপতি আবদুল হাইকে নির্বাচনের আগে সেখানকার মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হওয়া জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ইকবাল পারভেজের অনুষ্ঠানে দেখা গেছে। উপজেলায় মনোনয়ন পাওয়া হেলো সরকার মূলত ইকবাল পারভেজের ঘনিষ্ঠজন।

আড়াইহাজার উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে শুধুমাত্র উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মো. শাহজালালের নাম কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি। আওয়ামীলীগের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে মুজাহিদুর রহমান হেলু সরকারকে। তিনি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিত জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল পারভেজের পছন্দের লোক ছিলেন। তবে গত ৫ ফেব্রুয়ারী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই ও সেক্রেটারী আবু হাসনাত শহীদ বাদল সাক্ষরিত চিঠিতে মুজাহিদুর রহমান হেলোকে মনোনয়ন দেওয়ার অনুরোধ করেন মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতির কাছে।

দলীয় সূত্র বলছে, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর উপজেলা নির্বাচনের শুরুতেই বিএনপি দলটি নির্বাচন বর্জন করে। আর আওয়ামীলীগ দলটি প্রথম দিকে মনোনয়ন উন্মুক্ত করে দেয়। তবে বিএনপি দলটির নির্বাচন বয়কটের ফলে জেলা আওয়ামীলীগের এবং স্থানীয় উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সেক্রেটারী সম্মিলিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনজনের নাম কেন্দ্রে পাঠানো হবে। সেই তিনজনের মধ্যে একজনকে মনোনয়ন দেয়া হবে। তবে এক্ষেত্রে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই ও সেক্রেটারী শহীদ বাদল তৃণমূলের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে ভেতরে ভেতরে আরেকজনের নাম কেন্দ্রে পাঠিয়ে দিয়েছে। অথচ যার নাম এককভাবে সিদ্ধান্তে ছিল তার নাম বাদ দিয়ে অপর একজনকে মনোনয়নের তালিকায় রেখে কেন্দ্রে চিঠি পাঠানো হয়। এতে করে কেন্দ্রীয় নির্দেশনাকে অমান্য করা হয়েছে যা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সামিল।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও