বিরোধী থেকেও ক্ষমতাসীনের সুবিধায়

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:১১ পিএম, ১২ মার্চ ২০১৯ মঙ্গলবার

বিরোধী থেকেও ক্ষমতাসীনের সুবিধায়

দীর্ঘ ১০ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকায় বিএনপির কেন্দ্রীয় দফতর থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত ত্রাহি দশা বিরাজমান। একের পর এক নাশকতার মামলা, গায়েবি মামলা ও গ্রেফতারে অতিষ্ঠ দলটির নেতাকর্মীরা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরে দলের অধিকাংশ নেতাকর্মীরই প্রায় একই অবস্থার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবে নির্বাচনে ভরাডুবির পরে নিজেদের গুটিয়ে নেয়ায় সেটির পরিমাণ কমে এসেছে।

তবে বিরোধী দলের অন্যান্য নেতাকর্মীরা যখন জেল জুলুমের শিকার তখন আরাম আয়েশেই কাটাচ্ছেন বেশ কিছু বিএনপির নেতাকর্মী। নেই গ্রেফতার বা জেল জুলুমের ভয়। মাঝে মাঝে পদের কারণে মামলা জুটলেও জামিনে থাকেন তারা সারাবছরেই। পুলিশের ভয়েও তটস্থ থাকতে হয় না তাদের। জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনির, সহ সভাপতি শাহআলম, সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিন, বেশ কয়েকজন নাসিক কাউন্সিলর ও বিভিন্ন চেয়ারম্যান মেম্বাররা। ফলে বলা চলে বিরোধী দলে থেকেও ক্ষমতাসীন দলের স্বাদ পাচ্ছেন এসকল নেতা ও জনপ্রতিনিধিরা।

জানা যায়, বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেন ও ক্ষমতাসীন দলের লোকজনের সাথে সখ্যতা করে নিজেদের বহাল তবিয়তে রেখেছেন। শুধু নিজেদেরই নয়। তার অনুসারীদেরকেও রাখছেন নিরাপদ। কখনও কখনও নিজেদের কৌশলী দাবী করলেও বাস্তব অর্থে তারা যে দলের সুবিধাভোগী তা বুঝতে বাকি থাকেনা। দলের কর্মীদের আবেগ অনুভূতি কাজে লাগিয়ে নিজেদের জনপ্রতিনিধি করলেও সেসকল কর্মীদের ত্যাগের প্রতি বেঈমানি করেই নিজেদের সুবিধা হাসিল করে যাচ্ছেন।

একই সাথে দেখা যায় একদিকে নেতাকর্মীরা জেল জুলুম ভোগ করছেন, অপরদিকে লিয়াজোকারীরা দেশ বিদেশ ঘুরে বেড়াচ্ছেন অহরহ। দলের এই ক্রান্তিলগ্নে খালেদা জিয়া যখন কারাবরণ করছেন তখন এসকল নেতারা পরিবার পরিজন নিয়ে কিভাবে প্রকাশ্যে আমোদ ফূর্তি করেন তা কর্মীদের কাছে বিস্ময়ের।

নাসিকের ১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ বলেন, দলের সুসময়ে খালেদা জিয়ার কল্যানে মান ইজ্জত ও অর্থ বিত্তের মালিক হলেও তার বিপদের দিনে অনেকেই ভূমিকা রাখেননি। গুরুত্বপূর্ণ পদ আঁকড়ে ধরে থাকার ব্যক্তিরা ১০০ ভাগেই ব্যর্থ। তারা শুধু কমিটি আর মনোনয়ন বিক্রি করে ধান্ধা করে যাচ্ছে। দলের ভেতর নেতা নামধারী দোকানদার ভরে গেছে।

মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খান নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীদের বিদেশ ভ্রমণের অভ্যাসের চাইতে যখন তখন কারাবরণের অভ্যাস করা প্রয়োজন। দলের নেত্রী যখন কারাবন্দি তখন নিজেদেরও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। বিরোধী দল আরাম আয়েশের স্থান না। গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই জাতির অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। তাই বিরোধী দলে থেকেও যারা আরাম আয়েশে থাকে তারা কতটা দলের জন্য ত্যাগী তা সকলেই অবগত।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও