একমত শামীম আইভী

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:১৩ পিএম, ১২ মার্চ ২০১৯ মঙ্গলবার

একমত শামীম আইভী

নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ওসমান ও চুনকা পরিবারের মধ্যে সর্বদা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীতার আগুন দেখা গেছে। যে কারণে একজন অপরের বিপরীতমুখী অবস্থানে রয়েছেন। আর কোন ইস্যুতে একমত হতে পারেনি। এই দুই পরিবারের কর্ণধার মেয়র আইভী ও এমপি শামীম ওসমান সর্বদা বৈরিতার আগুনে পুড়ে এ জেলার রাজনীতিতে দাবানল তৈরি করেছেন। আর সেই দাবানলে পড়ে এ জেলার রাজনীতিবিদরা দুইভাগে বিভক্ত হলে তাদের তারা শত্রুতে পরিণত হয়েছেন। এতে করে দুপক্ষের দ্বন্দ্ব বিভক্তিতে দুই মেরুর সৃষ্টি হয়েছে। আর সবকছিুতে দুই মেরু বরাবরের মত দ্বিমত পোষণ করেছেন। তবে এবার মেরুর কর্ণধার দুজনে এসপি হারুন অর রশিদের প্রশংসার ব্যাপারে একমত হতে পেরেছেন।

জানা গেছে, ‘এ জেলার আওয়ামীলীগের রাজনীতি দুই মেরুতে বিভক্ত রয়েছে। আওয়ামীলীগ দলটির সূচনা থেকেই ওসমান পরিবার ও চুনকার পরিবারের দ্বন্দ্বের ফলে এখানকার রাজনীতি দুটি মেরুতে বিভক্ত হয়ে পড়ে। ধীরে ধীরে দুই পরিবারের দ্বন্দ্ব তাদের বংশ পরাক্রমে তাদের উত্তরাধিকারদের হাতে চলে যায়। বর্তমানে ওসমান পরিবারের কর্ণধার সাংসদ শামীম ওসমান ও আরেক সদস্য সেলিম ওসমান ওসমান মেরুর নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। অন্যদিকে চুনকা পরিবারের কর্ণধার মেয়র আইভী নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। এক মেরু অন্য মেরুকে ছাড় দিতে নারাজ। তাই যে কোন ইস্যুতে এক মেরু অন্য মেরুকে ঘায়েল করে এগিয়ে যাওয়ার পাঁয়তারা করে থাকে।

আরো জানা যায়, এর আগে আলোচিত হকার ইস্যুতে মেয়র আইভী ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদের পক্ষে ছিল। অন্যদিকে এমপি শামীম ওসমান হকারদের পক্ষ নেয়। ২০১১ সালের নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র আইভী ও এমপি শামীম ওসমান নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে। সেই নির্বাচনে মেয়র আইভী শামীম ওসমানকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়। এরপর ধারাবাহিকভাবে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব কোন্দল দেখা গেছে। কখনো প্রকাশ্য আবার কখনো পরোক্ষভাবে দ্বন্দ্ব দেখা গেছে।

গত ২০১৬ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও তৃণমূল থেকে মেয়র আইভীকে বাদ দিয়ে মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসন সহ মোট ৩ জনকে মনোনয়ন দেয়ার জন্য কেন্দ্রে চিঠি পাঠানো হয়। আর সেই ম্যাকানিজমের পেছনে ওসমান বলয়ের হাত ছিল তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। তবে শেষতক মেয়র আইভীকে ওই নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন দেয়া হয়। এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন ইস্যুতে দুই মেরুই তাদের নিজ নিজ বলয়ের নেতাদের মনোনীত প্রার্থী বানাতে চেয়েছিল। কিন্তু জেলার ৫টি আসনের মধ্যে ৪টিতে ওসমান বলয়ের অনুগামীরা মনোনয়ন পেয়ে যায়। তবে নির্বাচনে শেষে আইভী বলয়ের একজন এমপি গোলাম দস্তগীর গাজী মন্ত্রীত্ব পদ পেয়ে যান। এবার নির্বাচনের পর মেয়র আইভী ও শামীম ওসমানের মধ্যকার বাকযুদ্ধ ফের দৃশ্যমান হচ্ছে। তবে এতো ভিন্নতার মাঝেও এবার তার এসপি ইস্যুতে একমত হতে পেরেছেন।

৬ মার্চ বিকেলে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকায় এক শিশু সমাবেশে মেয়র আইভী নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদের প্রশংসা করে বলেন, বর্তমান এসপি সাহেবের কথা শুনেছি। হারুন অর রশীদ একজন নামকরা এসপি। একজন দায়িত্বশীল এসপি। আপনাকে অনুরোধ করতে চাই এ ছোট বাচ্চাটিকে যেভাবেই হোক আপনি উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জের মানুষের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনুন। যে প্রশাসনের উপরে মানুষ বিশ্বাস রাখতে চায়, আস্থা রাখতে চায় এবং আপনাদের স্বাধীন ভাবে কাজ করতে দিলে যেকোন কাজ যে আপনারা করতে পারেন তার একটি প্রমাণ অন্তত এ নারায়ণগঞ্জবাসীকে দেখান। আশার আলো আমাদের জাগান।

এদিকে গত ২ মার্চ নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদের প্রশংসা এসেছে সমাবেশে শামীম ওসমানের বক্তব্যে। তিনি বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার পরপর তিনটা পদক পেয়েছেন। আমি এ নিয়ে গর্ববোধ করি। তিনি মাদকের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছেন। অনেকে বলেছিল আজকে নাকি আওয়ামী লীগের লোকজন পুলিশের বিরুদ্ধে স্লোগান দিবে। কিন্তু কেন। পুলিশের বিরুদ্ধে আমাদের সমাবেশ করতে হবে কেন। পত্রিকায় আসলো দুটি গোয়েন্দা সংস্থা নাকি এসব তথ্য দিয়েছে। আমি আইনশৃঙ্খলা কমিটির একজন উপদেষ্টা হয়ে আগামী সভায় বিষয়টি জানতে চাইবো। অনেকে চাচ্ছে না দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা হউক। তারাই চাচ্ছে না যারা এক সময়ে সাংবাদিকদের নামে প্রতিদিন মাদকের টাকা আনতো।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘মেয়র আইভী ও এমপি শামীম ওসমান সাধারণত কোন ইস্যুতে কখনো একমত হতে পারেনি। এমনকি দলীয় চাপেও তাদেরকে একমত হতে দেখা যায়নি। তবে এবার এসপির প্রশংসার ইস্যুতে তাদের দুজনকে একমত হতে দেখা যাচ্ছে। এটাকি কাকতালীয় নাকি রাজনীতির নতুন কোন কৌশল তা এখন দেখার বিষয়। এতে করে পুরো জেলার রাজনীতিক মহল বেশ সরগরম হয়ে উঠেছে।’


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও