সরে গেলেন শাহজালাল, নৌকা ফুটো করার মিশনে কালাম

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:১৫ পিএম, ১৩ মার্চ ২০১৯ বুধবার

সরে গেলেন শাহজালাল, নৌকা ফুটো করার মিশনে কালাম

জমে উঠতে শুরু করেছে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ, আড়াইহাজার ও সোনারগাঁ উপজেলার নির্বাচন। তবে এই তিনটি উপজেলার মধ্যে রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজার উপজেলা নিয়ে আলাপ আলোচনা বেশি সরগরম ছিল। কারণ এই দুইটি উপজেলায় বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থীদের বিপরীতে শক্তিশালী বিদ্রোহী প্রার্থী ছিল। কিন্তু মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে আড়াইহাজার উপজেলায় বিদ্রোহী প্রার্থী মো: শাহজালাল মিয়া নির্বাচন থেকে সড়ে গেছেন। তবে সোনারগাঁ উপজেলায় বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম নির্বাচনী মাঠে রয়ে গেছেন।

সূত্র বলছে, প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতিকে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে উপজেলা নির্বাচন। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত ১মার্চ দলের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় দলীয় প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। সেই সাথে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার ও সোনারগাঁ উপজেলায় যথাক্রমে মুজাহিদুর রহমান হেলু সরকার ও মোশারফ হোসেন আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন পান। তবে তাদেরকে মেনে নিতে পারছিলেন না আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মো: শাহজালাল ও সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম। ফলে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে তারা রয়েছিলেন।

এদিকে নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ৩১ মার্চ চতুর্থ ধাপের উপজেলার নির্বাচন অনুুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই ধাপে দেশের অন্যান্য উপজেলার সাথে সাথে নারায়ণগঞ্জেরও তিনটি উপজেলা রয়েছে। যার ধারাবাহিকতায় গত ৬ মার্চ নির্বাচন কমিশনের বাছাই প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়। আর এই বাছাই প্রক্রিয়া আওয়ামীলীগের মনোনীত সকল প্রার্থীরাই বৈধ ঘোষিত হয়েছিলেন। একই সাথে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ছিল ১৩ মার্চ। আর প্রত্যাহারের শেষ দিনে এসে আড়াইহাজার উপজেলায় আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী মুজাহেদুর রহমান হেলো সরকারকে সমর্থন দিয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি মো: শাহজালাল মিয়া মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এদিন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ সেলিম রেজার কার্যালয়ে তিনি মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করে নেন। ফলে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আড়াইহাজার উপজেলায় আর কেউ নেই।

জানা যায়, এবারের উপজেলা নির্বাচনের শুরু থেকেই বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ ছাড়া অন্য কোন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে তেমন একটা আগ্রহ ছিল না। শেষ পর্যন্ত তারা কেউ অংশগ্রহণও করেনি। ফলে শুরু থেকেই আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের প্রথম টার্গেট ছিল দলীয় মনোনয়ন। কোন মতে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত হয়ে গেলে তাদের জয়ও নিশ্চিত। কারণ অতীতের নির্বাচনগুলোতে যারাই দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন তাদের জয় নিশ্চিত হয়েছে।

এক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছিলেন আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আড়াইহাজারে মো. শাহজালাল ও সোনারগাঁয়ের উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম। ফলে তারা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে থেকে বিভিন্ন সমীকরণে আড়াইহাজারে ব্যাকফুটে রয়ে যাচ্ছিলেন মো: শাহজালাল। যার সূত্র ধরে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠ থেকে সড়ে গিয়েছেন মো. শাহজালাল।

অন্যদিকে নির্বাচনী মাঠের হিসেব নিকেশ অনুযায়ী সোনারগাঁও উপজেলায় এগিয়ে ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল রহমান কালাম। যার ধারাবাহিতায় মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনেও তিনি মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করেনি।

স্থানীয় সূত্র বলছে, সোনারগাঁ উপজেলায় সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকার বিপরীত পক্ষের প্রার্থী হিসেবে শাহজাহানকে আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। কিন্তু লিয়াকত হোসেন খোকা হচ্ছেন জাতীয় পার্টির টিকেটে নির্বাচিত এমপি। ফলে তার সমর্থিত প্রার্থী মাহফুজুর রহমানের পক্ষে কাজ করতে গেলে দলীয় কোন সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তিনি আওয়ামীলীগের কেউ না। সে হিসেবে স্থানীয় এমপির সমর্থনকারী হিসেবে মাহফুজুর রহমান কালাম এখনও নির্বাচনী মাঠে টিকে রয়েছেন।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও