ধার করে চাঁদা তুলে জামিন নিচ্ছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৩৭ পিএম, ১৪ মার্চ ২০১৯ বৃহস্পতিবার

ধার করে চাঁদা তুলে জামিন নিচ্ছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা

নারায়ণগঞ্জের সকল পর্যায়ের বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীরা গায়েবী ও রাজনীতিক মামলায় জর্জরিত হয়ে দলীয় আইনজীবীদের সহায়তা না পেয়ে জামিনের জন্য বিভিন্ন মহলের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। শুধু তাই নয়, ধার করে ও নিজস্ব অর্থায়নে বিভিন্ন মামলা থেকে নিম্ন ও উচ্চ আদালতে জামিনের ব্যবস্থা করছেন বলে জানিয়েছেন বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

জানা যায়, নির্বাচনী বছরের ৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে নির্বাচনের আগ পর্যন্ত বিভিন্ন মামলায় দলের প্রায় প্রতিটি পর্যায়ের নেতাকর্মীরা জড়িয়ে পড়েছেন। প্রতিটি থানায় একাধিক নাশকতার মামলায় নাম রয়েছে দলের এসব নেতাকর্মীর। এছাড়া ২০১৩ সাল থেকে শুরু হওয়া বিভিন্ন রাজনীতিক মামলায় তো অনেকে আগে থেকেই আসামি হিসেবে রয়েছেন। অনেক মামলার চার্জশিট জমা দেয়া হয়েছে আদালতে। আবার নতুন অনেক মামলার চার্জশিট এখনো প্রক্রিয়াধীন।

এসব মামলাগুলোর মধ্যে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারির আগে পরে `গায়েবি মামলা খ্যাত` মামলাগুলোতে এখনো দলের অনেক নেতাকর্মীই জামিন নেননি। আবার অনেকেই দিনের পর দিন উচ্চ আদালতে ঘুরেও জামিন পাচ্ছেন না। দলের অনেক নেতাকর্মী রয়েছেন যারা অর্থ ও দলীয় আইনজীবীদের সহায়তার অভাবে মামলাগুলো থেকে জামিন নিতে পারছেন না। এসব নেতাকর্মীদের অনেকেই এখন নিজেরা নিজেরা অর্থ ধার করে ও নিজেরা মিলে চাঁদা তুলে মামলাগুলো থেকে জামিন নেয়ার চেষ্টা করছেন। তবে এ ক্ষেত্রেও দলের জেলা কিংবা মহানগরের কোন নেতাই তাদেরকে সহায়তা করছেন না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। আবার অনেক সময় দলের নেতাদের সাথে যোগাযোগ করা ও তাদের সাথে দেখা করতে গিয়েও ব্যর্থ হচ্ছেন নেতাকর্মীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক থানা ও ওয়ার্ড বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, আমরা অনেকেই মামলায় আসামি হলেও দল থেকে কোন আইনি সহায়তা পাইনি। দলীয় নেতাকর্মীরাও আমাদের এখন আর খোঁজ নিচ্ছেনা। আমরা নিজ খরচে নিজেরাই চাঁদা তুলে একে অপরকে সহায়তা করে নিম্ন আদালত ও উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিচ্ছি। নিজের টাকা খরচ করেই দল করছি ও আইনি লড়াইও চালিয়ে যাচ্ছি।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল জানান, আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে আইনি সহায়তা দেয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করবো। আমাদের স্থানীয় ও উচ্চ আদালতের আইনজীবীরাও বিনা খরচে দলীয় নেতাকর্মীদের মামলা পরিচালনা করছেন। যদি এমন কেউ থাকে যে মামলা মোকাদ্দমা পরিচালনা করতে পারছেন না বা দলীয় সহায়তা পাচ্ছেন না তারা আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে আমরা অবশ্যই সকল আইনি সহায়তার জন্য ব্যবস্থা করে দেব।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুন মাহমুদ জানান, আমাদের সাথে যাদের যোগাযোগ হচ্ছে আমরা তাদের জামিনের ব্যবস্থা করাচ্ছি। সকলের জামিন তো আর আমার করানো সম্ভব নয়। তবে আমাদের সভাপতি ও আমি চেষ্টা করছি যেন সকলের জামিনের ব্যবস্থা করা হয়। হাজারো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এটা সত্যি এবং এর মধ্যে অনেকেই আছে যারা জামিনের জন্য সহায়তা পাচ্ছেন না। তবে আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে আমরা জামিনের ব্যবস্থা করানোর চেষ্টা করছি।

সোনারগাঁও থানার বারদী ইউনিয়নের সভাপতি আলী আজগর জানান, আমার ইউনিয়নে ৫০ জনের উপরে নেতাকর্মী রয়েছে যারা এখন নিজ খরচে জামিনের ব্যবস্থা চলছে। দল থেকে বা দলীয় আইনজীবীদের কোন সহায়তা আমরা পাচ্ছিনা। তবে আগে মামলায় সহায়তা পেয়েছি একটি মামলায়। কিন্তু নির্বাচনের আগে ও পরের কোন মামলা আমরা আইনি সহায়তা পাইনি। আমাদের সকলের নামেই প্রায় ৫ থেকে ৭টি করে মামলা রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আনোয়ার সাদাত সায়েম জানান, কথা সত্য যে নির্বাচনের পরে একেবারেই দলের নেতাকর্মীদের কেউ খোঁজও নিচ্ছেনা তাদের পাশেও দাড়াচ্ছেনা। তবে আমাদেরকে অবশ্যই এই দুঃসময়ে দলের নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং এটাই আমাদের কাম্য।

নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান রনি জানান, দলীয় আইনজীবীরা টাকা ছাড়া কোন কথাই বলেনা। এমনকি জামিনের পর হাজিরার সময়ও আমাদের কাছ থেকে টাকা রাখে। যদিও আমার ক্ষেত্রে এমনটি হয়নি। তবে অনেকের সাথে এমনটি হয়েছে শুনেছি। আমাদেরকে এই সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে। এই দুঃসময়ে দলের নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়াতে হবে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও