আওয়ামীলীগের ফাঁকা মাঠে গোল

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:০১ পিএম, ১৪ মার্চ ২০১৯ বৃহস্পতিবার

আওয়ামীলীগের ফাঁকা মাঠে গোল

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর সারাদেশে উপজেলা নির্বাচনের দামামা বাজতে শুরু করেছে। এদিকে সদ্য অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দলটির ভরাডুবির কারণ হিসেবে প্রহসনের নির্বাচন হয়েছে বলে দলটির দাবি। যেকারণে তারা আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেনা বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় এ জেলার ৫টি উপজেলা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ দলটির প্রার্থী ছাড়া অন্য কোন রাজনীতি বড় দলের প্রতিদ্বন্দ্বীদের মাঠে দেখা যাচ্ছেনা। যেকারণে এই নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থীরা অনেকটা ফাঁকা মাঠে গোল দিতে যাচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান শাহজালাল মিয়া। কিন্তু তিনি শেষে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। এখানে নৌকা পেয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগ নেতা মুজাহিদুর রহমান হেলো সরকার।

রূপগঞ্জে নৌকা প্রতীক পেয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী শাহজাহান ভূইয়া। এখানে হেভিওয়েট কোন প্রতিদ্বন্দ্বি নাই।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিএনপি দলটি প্রহসনের নির্বাচনের অভিযোগ এই নির্বাচনটি বর্জন করেছে। আর জাতীয় পার্টি দলটির নেতারাও মহাজোটের প্রধান দল আওয়ামীলীগের পথের কাটা হচ্ছেনা। তারা সব ক্ষেত্রে কাঁধে কাধ মিলিয়ে সমন্বয় করে চলছে। আর আওয়ামীলীগ যেসব স্থানে তাদের প্রার্থী দিচ্ছে সেখানে জাতীয় পার্টি প্রার্থী দিচ্ছেনা। এতে করে আওয়ামীলীগের পথ অনেকটা সুগম হচ্ছে। আর তাতে করে আওয়ামীলীগ অনেকটা ফাঁকা মাঠে গোল দিয়ে যাচ্ছে।

উপজেলা নির্বাচনের চতুর্থ ধাপে নারায়ণগঞ্জ জেলার তিনটি উপজেলার নির্বাচন অনুুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগাামী ৩১ মার্চ। এ জেলার আড়াইহাজার, সোনারগাঁও ও রূপগঞ্জ উপজেলায় ভোট গ্রহণ করা হবে নির্বাচনের চতুর্থধাপে। তবে সেই নির্বাচনের তালিকায় বাকি দুটো উপজেলার নাম না থাকায় সেসব উপজেলার নির্বাচন পঞ্চম ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। এতে করে জেলার তিনটি উপজেলার মনোনয়ন প্রত্যাশী সহ নেতাকর্মীরা প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন।

জানা যায়, প্রথমবারের মত দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে উপজেলা নির্বাচন। প্রথমে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম জমা দেয়ার নির্দেশনা দেয় কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ। আর ভাইস চেয়ারম্যান পদে উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ভাইস চেয়ারম্যান পদেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম জমা দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়। আর এই তালিকা প্রণয়নের দায়িত্ব পেয়েছিলেন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

এর মধ্যে রূপগঞ্জ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ৩জন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। তারা হলেন ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) থকে এস আলম আম প্রতিক, বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ থেকে মো: শাহজাহান ভূইয়া নৌকা প্রতিক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো: তাবিবুল কাদির তমাল আনারস প্রতিক পেয়েছেন।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। তারা হলেন মোতাহার হোসেন নাদিম টিউবয়েল, মোহাম্মদ স্বপন ভূঁইয়া টিয়া পাখি, মো: আ: আলিম বই, মো: সোহেল আহম্মদ ভূঞা চশমা এবং মো: হাবিবুর রহমান হারেজ তালা প্রতিক পেয়েছেন। এরা সকলেই স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচন করছেন।

মহিলা চেয়ার‌্যম্যান পদে ৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। তারা হলেন নাসরিন আক্তার চম্পা ফুটবল, শায়লা তাহসিন কলস, সৈয়দা ফেরদৌসী আলম নীলা হাঁস ও মোসা: হ্যাপী বেগম সেলাই প্রতিক পেয়েছেন। তারা সকলেই স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচন করছেন।

এদিকে আড়াইহাজার উপজেলা চেয়ারম্যান পদে ২ জন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। তারা হলেন আওয়ামীলীগ থেকে মুজাহিদর রহমান হেলো সরকার নৌকা ও স্বতন্ত্র থেকে ইকবাল হোসেন মোল্লা আনারস প্রতিক পেয়েছে। এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে কোন প্রতিদ্বন্দ্বীতা না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় ভাইস চেয়ারম্যান হওয়ার পথে রয়েছেন যথাক্রমে রফিকুল ইসলাম ও ঝর্না রহমান।

অন্যদিকে সোনারগাঁ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ২ জন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। তারা হলেন স্বতন্ত্র থেকে মাহফুজুর রহমান কালাম ঘোড়া এবং আওয়ামীলীগ থেকে মো: মোশারফ হোসেন নৌাক প্রতিক পেয়েছেন।

চেয়ারম্যান পদে ৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। তারা হলেন এম জাহাঙ্গীর হোসেন ভূইয়া চশমা, বাবুল হোসেন টিউবওয়েল, মো: আবু নাঈম তালা, মো: মনির হোসেন উড়োজাহাজ, মো: শাহ আলম মিয়া মাইক ও মো: শাহ জালাল মিয়া বই প্রতিক পেয়েছেন। তারা সকলেই স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচন করছেন।

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। তারা হলেন মাহমুদা আক্তার হাঁস, মোসা: নাসিমা আক্তার পদ্মফুল, মোসা: ফরিদা পারভীন ফুটবল ও হেলেনা আক্তার কলস প্রতিক পেয়েছেন। তারা সকলেই স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচন করছেন।

এদিকে বন্দর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে তিনজনের নাম কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান, বন্দর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম এ রশিদ, মদনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ সালাম।

সদর উপজেলায় মামলা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ওই  উপজেলার নির্বাচন অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। যদিও সম্প্রতি এই আসনের সাংসদ শামীম ওসমান এই উপজেলায় নির্বাচন হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এতে করে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ফের উজ্জীবিত হয়ে উঠেছে।

এতে করে এ উপজেলার মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নিরব থেকে বেশ সরব হয়ে উঠে। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় রয়েছেন জেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম চেঙ্গিস, মহানগর আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি চন্দনশীল, আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজাম ও সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল। 

সূত্র বলছে, উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামীলীগ দলটি ছাড়া বড় কোন দলের প্রার্থীকে দলীয় প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতে দেখা যাচ্ছেনা। এমনকি জাতীয় পার্টি দলটির নেতাদেরও প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতে দেখা যাচ্ছেনা। এতে করে আওয়ামীলীলীগ অনেকটা ফাঁকা মাঠে গোল দিতে যাচ্ছে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও