উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা চান সেলিম ওসমান

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:২০ পিএম, ১৪ মার্চ ২০১৯ বৃহস্পতিবার

উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা চান সেলিম ওসমান

আসন্ন উপজেলা নির্বাচন সম্পর্কে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের প্রতি অনুরোধ রেখে এমপি সেলিম ওসমান বলেন, আপনারা আসেন আলোচনায় বসেন উপজেলা নির্বাচনে কাকে আপনারা মনোনীত করবেন। আপনারা চেয়ারম্যান প্রার্থী দিলে আমাদের ভাইস চেয়ারম্যান দিতে হবে। অন্যথায় কোন সমঝোতা হবে না। চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান দুই পদেই জাতীয় পার্টি প্রার্থী দিবে। বাংলাদেশের কোথাও এমন রেকর্ড নাই যেখানে একটি উপজেলায় তিনটি ইউনিয়নে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। আর হিসেব করলে দেখা যাবে বেশিও ভাগ ওয়ার্ড সদস্যই আমাদের জাতীয় পার্টির। সুতরাং আমাদের সাথে তালবাহানা করবেন না। যদি গুলি খেতে হয় তবে আমরা গুলিই খাবো। তবুও আল্লাহ রহমতে বন্দরে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে ইনশাল্লাহ। যত বড় নেতাই আসেন না কেন, যদি সেটা শামীম ওসমানও হয় তবুও বলবো আসনে বসেন আমাদের সাথে আলোচনা করেন কাকে চেয়ারম্যান বানাবেন। প্রয়োজন পড়লে নিরপেক্ষ লোককে আমরা বিজয়ী করবো তবুও কারো কাছে মাথানত করবো না।

তিনি বলেন, আমরা সহযোগীতা করতে চাই। কিন্তু এমন লোককে সহযোগীতা করবো না যারা নাকি নারায়ণগঞ্জকে লুটেপুটে খাবে। যারা আমাদের সাথে মিলে কাজ করবে না। আমি ঘোষণা দিচ্ছি আমরা অপেক্ষা করবো। প্রস্তাবনা দেন জাতীয় পার্টি সহযোগীতা করবে। যদি আমাদের সাথে আলোচনা ছাড়া আপনারা প্রার্থী দিয়ে দেন জাতীয় পার্টি আপনাদের সাথে থাকবে না। যারা জাতীয় পার্টির সহযোগীতা নিবেন তাদেরকে আমরা সহযোগীতা করবো। যারা আমাদের উপর আঙ্গুল উঠাবেন, উপজেলা নির্বাচনে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী দিবো এবং ইনশাল্লাহ আমাদের প্রার্থী জনগনের ভোটে বিজয়ী হবে। আমাদের কাছে কোন দলীয় ভেদাভেদ নাই। দেশকে যারা ভালবাসে তাদের পক্ষেই আমরা কাজ করবো।

সেলিম ওসমান বলেছেন, আমার চিন্তা ধারনা একটাই কিভাবে মানুষের সেবা করা যায়। তাই বলে আমার সাথে যারা জাতীয় পার্টি করেন তারা যদি মনে করেন আমি তাদেরকে ছেড়ে দিয়েছি সেটা ভুল ধারণা। তবে আমার পরিবারকে ধ্বংস করার জন্য আমার জাতীয় পার্টির কিছু নেতাকর্মী আমার নমিনেশন নিয়েও খেলা করেছে। নোংরা লোক সেলিম ওসমানের সাথে কাজ করতে পারবে না। সেলিম ওসমানের সংসদ সদস্য হওয়া বড় কথা না। দলের চেয়ারম্যান এই বন্দরের মাটিতেই বলে গিয়ে ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মানেই ওসমানলীগ, নারায়ণগঞ্জ মানেই ওসমানপার্টি। আপনারা আমাদের পরিবারকে সব সময় সম্মান করেছেন। প্রত্যেকটা জায়গাতেই শয়তান কাজ করে। কোন শয়তান কাজ করছে আমার পরিবারকে ধ্বংস করার জন্য। আপনাদের সকলের প্রিয় নাসিম ওসমানের ছেলেকে দিয়েও অনেকে ব্যবসা বাণিজ্য করার সুযোগ খুঁজছেন। তাকে বিপথে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। আমার রক্ত, আমার ভাতিজা। আমি তাকে কিছু বলবো না। কিন্তু যে সমস্ত শয়তানরা আমার পরিবারকে ধ্বংস করার চেষ্টা করতেছে আল্লাহ যদি আমার হায়াত আর শরীরে শক্তি রাখেন আজকে পর থেকে আমি আর কাউকে ছাড় দিবো না।

তিনি আরো বলেন, অনেকে আমাদের পরিবারকে খুনি পরিবার বলেন। যারা বলেছেন, আরো বলেন। যারা পোস্টকোয়াটারের ব্যবসা করতো, যারা মাদক বিক্রি করেন আজকে যাদের পেটে লাথি পড়েছে তারা আমাদের পরিবার সম্পর্কে বলবেই। আর অপকর্ম যারা করবে তাদেরকে আমরা ধ্বংস করবো নারায়ণগঞ্জের মানুষদের সাথে নিয়ে। সুতরাং ভবিষ্যতে যারা খেলবেন তারা মনে রাখবেন আমি মরে যাই নাই। আমি মরে গেলেও নারায়ণগঞ্জ জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা যে ত্যাগ শিকার করেছে তারা ভবিষ্যতেও থাকবে এবং তারা বন্দরের ভবিষ্যত প্রজন্মকে শিক্ষিত হিসেবে গড়ে তুলবেন। অশিক্ষিত মানুষের হাতে আর নেতৃত্ব থাকবে না। নারায়ণগঞ্জের মানুষই নারায়ণগঞ্জকে পরিচালনা করবে। টেনে খাবো লুটে খাবো সেটা আর হবেনা। সেজন্য আমি বলবো জাতীয় পার্টিকে জেগে উঠতে হবে। আগেও বলেছি এখনো বলছি নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পার্টির অফিস হতেই হবে। কমিটি হবে, অফিস হবে আর কোন সময় নষ্ট করা চলবে না।

তিনি আরো বলেন, একটা করে নির্বাচন আসে আর আমাদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করা হয়। আমি একটা কথা স্পষ্ট করে বলতে চাই। আওয়ামীলীগ এবং জাতীয় পার্টি আমরা দুটি দলই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে চাই। গত ১০ বছর ধরে আওয়ামীলীগকে সহযোগীতা করে আওয়ামীলীগকে ক্ষমতায় রেখেছি। আমরা লোভ করি নাই। এবার আমরা মন্ত্রীত্বও নেই নাই। আমরা ঢাল হয়ে আছি। আওয়ামীলীগ যদি কোন ভুল করে তবে সেটা ধরিয়ে দেওয়ার জন্য আমরা সংসদের বিরোধী দল হয়েছি। আমরা চাই দেশের উন্নয়ন হোক। আমরা আওয়ামীলীগ ও প্রধানমন্ত্রীকে সহযোগীতা করবো। কিন্তু ব্যক্তি স্বার্থে যারা কাজ করবেন, যারা স্বাধীনতা বিরোধীর কথা বলবেন বলেন কিন্তু যারা জনগনের সমস্যা সৃষ্টি করবেন তাদেরকে কোন ছাড় নাই।

বৃহস্পতিবার ১৪ মার্চ সন্ধ্যা ৭টায় বন্দর খেয়াঘাট সংলগ্ন সুরুজ্জামান টাওয়ারের রাত্রি কমিউনিট সেন্টারে জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টির উদ্যোগে সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আগামী ১৭মার্চ জাতীয় শিশু দিবস ও বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষ্যে বন্দর সমরক্ষেত্র মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী এবং উপস্থিত সকলের শিশু সন্তানদের বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে জানতে সমরক্ষেত্র উপস্থিত হওয়ার আহবান রাখেন।

প্রস্তুতি সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, মহানগর জাতীয় পার্টির আহবায়ক সানাউল্লাহ সানু, সদস্য সচিব আকরাম আলী শাহীন, জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম আহবায়ক রোটারিয়ান গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, জেলা শ্রমিক পার্টির সভাপতি আবুল খায়ের ভূইয়া, সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন, কলাগাছিয়া ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সভাপতি বাচ্চু মিয়া, গোগনগর ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সভাপতি মোক্তার হোসেন, ১৮নং ওয়ার্ড জাতীয় পার্টির সভাপতি পলি বেগম কলাগাছিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধান, বন্দর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন সহ জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও