আওয়ামী লীগে বিদ্রোহীদের দাপট

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৫০ পিএম, ১৯ মার্চ ২০১৯ মঙ্গলবার

আওয়ামী লীগে বিদ্রোহীদের দাপট

নারায়ণগঞ্জে চতুর্থধাপে উপজেলা নির্বাচনে তিনটি উপজেলায় ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ ও তাদের বিদ্রোহী প্রার্থীদের মুখোমুখি অবস্থানে দেখা যাচ্ছে। তবে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহীদের দাপটে নৌকার প্রার্থীরা অনেকটা তটস্থ হয়ে পড়েছে। এতে করে আওয়ামীলীগের মধ্যে দ্বন্দ্ব কোন্দলের চরম পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

জানা গেছে, ‘উপজেলা নির্বাচনের চতুর্থধাপে এ জেলার তিনটি উপজেলা (আড়াইহাজার, রুপগঞ্জ ও সোনারগাঁও) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ৩১ মার্চ। তবে সেই নির্বাচনে বিএনপি দলটি আগে থেকেই নির্বাচন বয়কট করেছে। অন্যদিকে জাতীয় পার্টি দলটিও নির্বাচনে অনীহা প্রকাশ করছে। যেকারণে আওয়ামীলীগ অনেকটা ফাঁকা মাঠে গোল দিতে যাচ্ছে। এতে করে আওয়ামীলীগ নেতাদের সামনে মনোনয়নের বাধা পেরোতে পারলেই চেয়ারম্যান হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হবে। যেকারণে দলটির মধ্যে মনোনয়ন ইস্যুতে চরম দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। এর মধ্যে কেন্দ্র থেকে একজনকে মনোনয়ন দিলে বাকি মনোনয়ন বঞ্চিতরা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে মাঠে নামেন। এর ফলে দলের ভেতরে চরম দ্বন্দ্ব কোন্দল দেখা দেয়।

এর মধ্যে রূপগঞ্জ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ৩জন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। তারা হলেন ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) থকে এস আলম আম প্রতিক, বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ থেকে মো: শাহজাহান ভূইয়া নৌকা প্রতিক এবং বিদ্রোহী প্রার্থী মো: তাবিবুল কাদির তমাল আনারস প্রতিক পেয়েছেন।

এদিকে আড়াইহাজার উপজেলা চেয়ারম্যান পদে ২ জন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। তারা হলেন আওয়ামীলীগ থেকে মুজাহিদর রহমান হেলো সরকার নৌকা ও বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ইকবাল হোসেন মোল্লা আনারস প্রতিক পেয়েছে।

অন্যদিকে সোনারগাঁ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ২ জন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। তারা হলেন এবং আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী মো. মোশারফ হোসেন নৌকা প্রতিক পেয়েছেন এবং বিদ্রোহী প্রার্থী  উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী মাহফুজুর রহমান কালাম ঘোড়া মার্ক পেয়েছেন।

এদিকে প্রতীক বরাদ্দের সময় গণমাধ্যম কর্মীদের দেয়া প্রতিক্রিয়ার আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ইকবাল হোসেন মোল্লা বলেছেন, ‘পৃথিবীর এমন কোন শক্তি জন্ম নেয় নাই আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবে। যদি কেউ হস্তক্ষেপ করে তাহলে রক্তের বন্যা বয়ে যাবে। অন্যান্য উপজেলায় যাই হোক না কেন আড়াইহাজার উপজেলায় কিছু করতে পারবে না। এমন কোন মায়ের ছেলের জন্ম নেয় নাই। যদি কেউ কিছু করার চেষ্টা করে তাহলে আমি মেরে ফেলবো সব।’’

ইকবাল হোসেন মোল্লা বলেন, ‘১৪৪ ধারা দিবে, সমস্ত কিছু ছিন্ন বিচ্ছন্ন করে এগিয়ে যাবো। আমি শুরু করবো না। যদি কেউ শুরু করে তাহলে আমি শেষ করবো। আমরা শান্তির পক্ষে। ধমক দিয়ে কথাও বলবো না। কিন্তু শুরু করলে এর শেষ করবো আমি। আড়াইহাজারে জনবিচ্ছিন্ন লোককে নৌকা দেয়া হয়েছে। তারা জনগণের সাথে কথা বলে না এলাকায় যায় না। সিলেকশন যদি করে তাহলে নির্বাচনের দরকার কি।’

অন্যদিক সোনারগাঁয়ের বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী মাহফুজুর রহমান কালামকে সমর্থন দিয়েছে এমপি খোকার নেতৃত্বাধীন জনপ্রতিনিধি ফোরাম। ফোরামের সভাপতি হিসেবে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন বারদী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জহিরুল হক। এছাড়া ইউনিয়র পরিষদের অসংখ্য নেতাকর্মীরা এই ফোরামে রয়েছেন। তারা সকলে মিলে জনপ্রতিনিধি ফোরামের ব্যানারে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মাহফুজুর রহমান কালামকে সমর্থন দিয়েছেন। অথচ তারা সকলেই আওয়ামীলীগের দলীয় সমর্থনে জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

এর আগে গত ৪ মার্চ সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম প্রথমে মনক্ষুন্ন হয়ে তার ফেসবুকে আবেগঘন স্ট্যাটাস দেয়। এবং পরে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ৪ মার্চ মনোনয়ন পত্র দাখিলের মধ্য দিয়ে এই নেতা বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার ষোলয়ানা পূর্ণ করে। তবে মনোনয়ন পত্র জমাদান কালে কালাম সমর্থকদের সাথে নৌকার প্রার্থী মোশারফ হোসেন সমর্থকদের সংঘর্ষ দেখা দেয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘মনোনয়ন বঞ্চিত আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রত্যক্ষভাবে সমর্থন করেছেন স্থানীয় এমপিরা। যেকারণে সেসব বিদ্রোহীরা প্রভাব বিস্তার করতে পারছে। অন্যদিকে নৌকার মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীরা নির্বাচিত এমপিদের বিপরীতে অবস্থান করছে। যেকারণে তাদের সাথে এমপিদের টানাপোড়নের সম্পর্ক রয়েছে। এই সুযোগে বিদ্রোহী প্রার্থীরা নৌকার প্রাথীদের উপর চড়াও হচ্ছে।’


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও