শাহআলম প্রসঙ্গে ক্ষোভ তারেক রহমানের

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৫২ পিএম, ২২ মার্চ ২০১৯ শুক্রবার

শাহআলম প্রসঙ্গে ক্ষোভ তারেক রহমানের

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির পদ্যতাগী সহ সভাপতি ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শাহ আলমের কর্মকান্ডের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গত ১৯ মার্চ জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের সাথে ভিডিও কনফারেন্সে বৈঠক কালে ঐ প্রসঙ্গে তিনি তার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করেন।

ভিডিও কনফারেন্সে উপস্থিত থাকা জেলা বিএনপির এক নেতা নিজের নাম গোপন রাখার শর্তে বলেন, কনফারেন্সে কথা বলার এক পর্যায়ে পদত্যাগী নেতা শাহ আলমের প্রসঙ্গে ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করেন তারেক রহমান। তিনি জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরের কাছে জানতে চান এমন লোক কিভাবে জেলা বিএনপির সহ সভাপতির পদ পায়? তার অবস্থান নিয়ে কেন কেন্দ্রে অভিযোগ দেয়া হয়নি? গুরুত্বপূর্ন এসব পদ যাতে পরবর্তীতে অযোগ্য ব্যাক্তিদের হাতে না যায় সেদিকে লক্ষ রাখার পরামর্শ দেন তিনি।

এসব কথা বলাকালীন অবস্থায় কোন উত্তর দিতে পারেনি সভাপতি কাজী মনির। তারেক রহমানের কথা নীরবে মেনে নিয়ে সেই অনুযায়ী কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসেন। তবে তার অতীতের অবস্থান বিবেচনা করে কতটুকু সেই প্রতিশ্রুতি রাখতে পারবেন সেটি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অনেকেই।

সূত্র মতে, পদত্যাগী শাহ আলমের অত্যান্ত ঘনিষ্ট জন হিসেবে পরিচিত জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনির ও সাধারণ সম্পাদক মামুন মাহমুদ। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩ জনেই লাভ করেছিলেন প্রাথমিক দলীয় মনোনয়ন। মামুন মাহমুদ ও শাহ আলম একত্রে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। এসময় দেখা গিয়েছিলো এদের মধ্যকার আন্তরিক সম্পর্ক। কথিত রয়েছে মামুন মাহমুদকে গাড়ি উপহার দিয়েছিলেনও শাহ আলম। ফলে স্পষ্ট হয় যে শাহ আলমের উত্থান ও অবস্থান তৈরীর পেছনের দায় সভাপতি সেক্রেটারি কোনভাবেই এড়াতে পারেনা।

এছাড়া শাহ আলম পদত্যাগ করার পরেই তার বলয়ের নেতাকর্মীদের নিয়ে গঠন করা হয় ফতুল্ল¬া থানা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি। দলের নেতাকর্মীদের সাথে কোন প্রকার আলোচনা না করেই এই কমিটিকে অনুমোদন দেয়ায়ও সমালোচনার মুখে পড়েন সভাপতি সেক্রেটারি। এতে করে শাহ আলমের সাথে তাদের সম্পর্ক যে গভীর সেটি অনুধাবন করেই তারেক রহমান ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করেছেন।

২৫ ফেব্রুয়ারী পদত্যাগের পর শাহ আলম জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যগত কারণে এই পদে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয় বলে পদত্যাগ করেছি। দেশ, জাতি ও জনগণের সেবা করার জন্য রাজনীতিতে এসেছিলাম। তবে আমার মা-বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত আফিয়া-জালাল ফাউন্ডেশন ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত জান্নাহ ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে আজীবন জনগণের সেবা করে যাব। জনকল্যাণমূলক কাজে দলমত-নির্বিশেষে সকল এলাকাবাসীর সহযোগিতা কামনা করি।

জানা যায়, বিগত দিনের আন্দোলন সংগ্রামে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ সভাপতি শাহ আলমের কোন অংশগ্রহণ ছিল না। রাজপথে নেয়া দলীয় কোন কর্মসূচিতেই তার অংশগ্রহণ থাকতো না। মাঝে মধ্যে ঘরোয়া কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে থাকলেও সেটা খুব বেশি সময়ের জন্য না। এমনকি বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবীতেও শাহ আলমের সক্রিয় কোন ভূমিকা নেই। তার অবস্থা অনেকটা ‘কিতাবে আছে গোয়ালে নেই’ প্রবাদের মতো।

এরই মধ্যে শাহ আলমের নিস্ক্রিয় থাকাবস্থায়ও ঘনিয়ে আসে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে তিনি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকলেও তাকে নির্বাচনী মাঠে তাকে দেখা যেত না। তারপরেও এই সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে তাকে মনোনয়ন দেয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তিনি মাঠ ছেড়ে দেন। একই সাথে দলীয় মনোনীত প্রার্থীর পক্ষেও তিনি নির্বাচনী মাঠে নামেননি। ফলে গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া নির্বাচনে এই আসনটিতে বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী সহজেই জয় পেয়ে যান।

তার ঘনিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যেহেতু বিএনপি অনেকদিন ধরেই ক্ষমতার বাইরে রয়েছে। আবার কবে বিএনপি ক্ষমতায় আসে সে বিষয়ে স্পষ্ট কোন বার্তা নেই। ফলে বিএনপিতে থেকে শাহ আলম আর নিজের ক্ষতি করতে চাচ্ছেন না। ব্যবসা বাণিজ্যের দিকেই বেশি নজর দিতে চাচ্ছেন তিনি।

প্রসঙ্গত ২০০৭ সালের ওয়ান এলেভেনের পর থেকে হঠাৎ করেই আলোচনায় আসার চেষ্টা করেন ফতুল্লার জনপ্রিয় জালালউদ্দিন আহম্মেদ এর ছেলে শাহআলম। ওই বছরের তৃতীয় ধারার কিছু রাজনৈতিক দল গঠন হলে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন শাহআলম। তিনি তখন নারায়ণগঞ্জ ক্লাব লিমিটেডে একটি ইফতার মাহফিলে মেজর জেনারেল (অব.) ইবরাহিমকে অতিথি করেন। এ অনুষ্ঠানে অতিথিরা দেশের দুই দলের দুই নেত্রীর তীব্র ভর্ৎসনা করেন।

ওই বছরের ৪ ডিসেম্বর রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে একটি মিলনায়তনে কিংস পার্টি খ্যাত কল্যাণ পার্টির প্রকাশ ঘটে। এ অনুষ্ঠানে লোকজন নিয়ে শাহআলম উপস্থিত হন। অনুষ্ঠানে তিনি বক্তব্য দিয়ে কল্যাণ পার্টির জন্য কাজ করার অঙ্গীকার করেন। কল্যাণ পার্টির প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) ইবরাহিম সেদিন তার বক্তব্যে শাহআলমের উপর দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব প্রদান করেন। শুরু হয় শাহ আলমের রাজনীতি। তখন শাহআলম মোটা অঙ্কের টাকা কল্যাণ পার্টিকে অনুদান দেন।

কিন্তু ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেষ মুহূর্তে বিএনপির মনোনয়ন পান শাহআলম। এ নির্বাচন নিয়েও অনেক নাটকীয়তা হয়। নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী সারাহ বেগম কবরীর সঙ্গে পরাজিত হয়।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও