সেলিম ওসমান ও জাতীয় পার্টিকে পাত্তা দিবে না আওয়ামী লীগ

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৪৭ পিএম, ২৩ মার্চ ২০১৯ শনিবার

সেলিম ওসমান ও জাতীয় পার্টিকে পাত্তা দিবে না আওয়ামী লীগ

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে সমঝোতার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে সেটাকে তেমন আমলে নিচ্ছেন না আওয়ামী লীগের নেতারা। তাদের কয়েকজন জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনজনের নাম পাঠানো হয়েছে। এখন সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। তবে উপজেলা নির্বাচন গত সংসদ নির্বাচনের মত জোটগতভাবে করার কোন নির্দেশনা নাই। ফলে জাতীয় পার্টি নির্বাচন করলেও তাতে খুব একটা প্রতিবন্ধকতা মনে করছেন না আওয়ামী লীগের নেতারা।

জানা গেছে, উপজেলা নির্বাচনের চতুর্থধাপে নারায়ণগঞ্জ জেলার তিনটি উপজেলায় (আড়াইহাজার, রুপগঞ্জ, সোনারগাঁ) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ৩১ মার্চ। সে হিসেবে পরবর্তী পঞ্চম ধাপে বন্দর উপজেলার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে করে বন্দর উপজেলার মনোনয়ন প্রত্যাশীরা প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। তবে জাতীয় পার্টি দলটিও তাদের ছাড় দিবেনা বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে। তবে যদি কোনভাবে সমঝোতা হয় তবে ভিন্ন কথা।

এদিকে আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতাদের সমন্বিত পরামর্শ নিয়ে দলের জেলা এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এই চারজনের স্বাক্ষরে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী তালিকা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যার সূত্র ধরে বন্দর উপজেলা থেকে কেন্দ্রে পাঠানোর জন্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে তিনজনের তালিকা প্রণয়ন হয়েছে।

এরা হলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম আবু সুফিয়ান, বন্দর থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা এমএ রশিদ ও মদনপুর ইউপি চেয়ারম্যান বন্দর থানা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি আব্দুস সালাম।

এদিকে ১৪  মার্চ সন্ধ্যায় এক অনুষ্ঠানে আসন্ন উপজেলা নির্বাচন সম্পর্কে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের প্রতি অনুরোধ রেখে এমপি সেলিম ওসমান বলেন, আপনারা আসেন আলোচনায় বসেন উপজেলা নির্বাচনে কাকে আপনারা মনোনীত করবেন। আপনারা চেয়ারম্যান প্রার্থী দিলে আমাদের ভাইস চেয়ারম্যান দিতে হবে। অন্যথায় কোন সমঝোতা হবে না। চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান দুই পদেই জাতীয় পার্টি প্রার্থী দিবে। বাংলাদেশের কোথাও এমন রেকর্ড নাই যেখানে একটি উপজেলায় তিনটি ইউনিয়নে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। আর হিসেব করলে দেখা যাবে বেশিও ভাগ ওয়ার্ড সদস্যই আমাদের জাতীয় পার্টির। সুতরাং আমাদের সাথে তালবাহানা করবেন না। যদি গুলি খেতে হয় তবে আমরা গুলিই খাবো। তবুও আল্লাহ রহমতে বন্দরে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে ইনশাল্লাহ। যত বড় নেতাই আসেন না কেন, যদি সেটা শামীম ওসমানও হয় তবুও বলবো আসনে বসেন আমাদের সাথে আলোচনা করেন কাকে চেয়ারম্যান বানাবেন। প্রয়োজন পড়লে নিরপেক্ষ লোককে আমরা বিজয়ী করবো তবুও কারো কাছে মাথানত করবো না।

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, জাতীয় পার্টির এসব বক্তব্যকে আমলে নেওয়ার কোন সুযোগ নাই। আমরা আর লাঙ্গল চাই না।

এর আগে সংসদ নির্বাচনের আগে বার বার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই বলেন, নারায়ণগঞ্জে আর লাঙ্গল দেখতে চাইনা এবার জেলার ৫টি আসনেই নৌকার প্রার্থী চাই। এই নারায়ণগঞ্জেই নৌকার প্রতিষ্ঠা অর্থাৎ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। আর এখানে আমরা লাঙ্গলকে মেনে নেবনা। আশা রাখছি এবার জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাদের অনুরোধ রাখবেন। আমরা ঘরে ঘরে নৌকার জন্য কাজ করে যাচ্ছি এবং উন্নয়নমূলক কাজের প্রচারণা চালাচ্ছি। উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে আমরা নৌকা চাই। আমরা জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে নৌকাকে বিজয়ী করতে চাই কোন ম্যাকানিজম করে নয়।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও