শামীম ওসমান পন্থীরা টার্গেট

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৪৯ পিএম, ২৩ মার্চ ২০১৯ শনিবার

শামীম ওসমান পন্থীরা টার্গেট

সংঘর্ষ, খুন, গুম, হত্যা ও অপহরণ সহ একের পর এক ইস্যু নিয়ে আলোচনা সমালোচনায় সবসময় সরগরম থাকছে নারায়ণগঞ্জ শহর। একটি ইস্যু আড়াল হলে আবার নতুন করে আরেকটি ইস্যু উদয় হয়। আর এসকল ইস্যুকে কেন্দ্র করে মাসের পর মাস বছরের পর বছর চলে ধারাবাহিক কর্মসূচি। এসকল কর্মসূচিতে সবসময় নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী সংসদ সদস্য শামীম ওসমান সহ তার সমর্থিত লোকদের জড়ানো হয়ে থাকে। একটি পক্ষের লোকজনের টার্গেটই থাকে যেন শামীম ওসমানের সমর্থিত নেতাকর্মী সমর্থকেরা। তারই ধারাবাহিকতায় এবার দেড় বছরেরর শিশু সাদমান সাকি নিখোঁজের ঘটনাতেও শামীম ওসমানের সমর্থিত লোকজনদেরকে জড়িয়ে বক্তব্য দেয়া হচ্ছে।

জানা যায়, ২০১৭ সালের ১ ডিসেম্বর দুপুর দেড়টায় ঘরের বাইরে খেলার সময় দেওভোগ কাঠের দোতলা বড় জামে মসজিদ এলাকা থেকে শিশু সাদমান সাকি নিখোঁজ হয়। সাদমান সাকি নিখোঁজের ১৩ দিন পর নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় সাদমান সাকির বাবা সৈয়দ ওমর খালেদ এপন একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেছিলেন। সে মামলাতে শামীম ওসমানের সমর্থিত সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর নাজমুল আলম সজলকে জড়ানো হয়নি।

একই সাথে সাদমান সাকির সন্ধানের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনশন সহ নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে কয়েকবার মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এসকল কর্মসূচির কোনটিতেই নাজমুল আলম সজলকে সরাসরি জড়িয়ে বক্তব্য দেয়া হয়নি। কিন্তু নিখোঁজের প্রায় ১৫ মাস পর গত ১৬ মার্চ নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে হঠাৎ করেই শামীম ওসমানের সমর্থিত হিসেবে পরিচিত নাজমুল আলম সজলকে সাদমান সাকিকে অপহরণের দায়ে অভিযুক্ত করা হয়। পাশাপাশি শামীম ওসমানকেও বিভিন্নভাবে ইঙ্গিত করে বক্তব্য দেয়া হয়।

ফলে ওই পক্ষটির প্রধান টার্গেট হচ্ছেন শামীম ওসমানের সমর্থিত নাজমুল আলম সজল। সজলকে কোনভাবে ঘায়েল করতে পারলে তার ছোট ভাই নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সভাপতি সাফায়েত আলম সানিও দুর্বল হয়ে পড়বে। এর মাধ্যমে দেওভোগ এলাকায় শামীম ওসমানের একটি শক্তিশালী পক্ষকে দুর্বল করা যাবে। কারণ সাদমান সাকি নিখোঁজের প্রায় ১৫ মাস পেরিয়ে গেলেও হঠাৎ করেই কেন নাজমুল আলম সজলকে জড়ানো হচ্ছে সেটা কারও বোধগম্য হচ্ছে না।

এর আগে ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারী নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাড়ায় হকার ইস্যুকে কেন্দ্র করে লঙ্কাকা- ঘটে যায়। ওই বছরের ২৩ জানুয়ারি সেলিনা হায়াৎ আইভীর পক্ষে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে এ নাসিকের আইন কর্মকর্তা জিএমএ সাত্তার অভিযোগ করেন, সেলিনা হায়াৎ আইভীকে হত্যা করার জন্যই ওই হামলা চালানো হয়। ঘটনার দিন অস্ত্র প্রদর্শনকারী নিয়াজুল ইসলাম খান ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক শাহ নিজামসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত প্রায় এক হাজার জনকে আসামি করে লিখিত অভিযোগ করেন জিএমএ সাত্তার। যদিও সেটা পরে মামলা হিসেবে গৃহিত হয়নি।

ওই এজাহারে নিয়াজুল ইসলাম ও শাহ নিজাম ছাড়া আরও যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল তারা ছিলেন মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন সাজনু, জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি জুয়েল হোসেন, মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা জানে আলম বিপ্লব, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সুজন, যুবলীগকর্মী নাসির উদ্দিন, যুবলীগ নেতা চঞ্চল মাহমুদ।

একই ভাবে ২০১৩ সালের মার্চ মাসে মেধাবী ছাত্র তানভীর মোহাম্মদ ত্বকী হত্যাকা-ের ঘটনায় তার বাবা রফিউর রাব্বি শামীম ওসমান, তার ছেলে অয়ন ওসমান, যুবলীগ নেতা জহিরুল ইসলাম ভূইয়া পারভেজ, জেলা ছাত্রলীগ সহ সভাপতি রাজীব দাস, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, সালেহ রহমান সীমান্ত ও রিফাত বিন ওসমান এর নাম উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সুপারের কাছে অবগতি পত্র দেয়। যদিও পরে শামীম ওসমান সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, ত্বকী নিখোঁজ ও লাশ উদ্ধারের সময়ে তিনি ও তার ছেলে অয়ন দেশের বাইরে ছিলেন।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও