জাপা ঘেঁষা বিদ্রোহীদের সমালোচনায় তৈমূর সাখাওয়াত

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:০০ পিএম, ২৩ মার্চ ২০১৯ শনিবার

জাপা ঘেঁষা বিদ্রোহীদের সমালোচনায় তৈমূর সাখাওয়াত

নারায়ণগঞ্জে বিএনপি দলটির ক্ষমতাসীন জাতীয় পার্টি ঘেঁষা বিদ্রোহী নেতাদের সমালোচনায় মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খানের পর বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তৈমূর আলম খন্দকারের মুখেও সমালোচনার ঝড় বইছে। দলটির ত্যাগী ও জনপ্রিয় এই দুজন নেতা দলটিকে সাংগঠনিক দিক দিয়ে শক্তিশালী করতে দলের সুবিধাবাদী বিদ্রোহী নেতাদের কড়া সমালোচনা করে দলকে সতর্ক বার্তা দিয়ে যাচ্ছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিএনপি দলটি দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকার ফলে দলের সুবিধাবাদী একটি অংশ ক্ষমতাসীনদের সাথে আতাঁত করে চলছে যা জাতীয় নির্বাচনে বিদ্রোহীতায় রুপ নিয়েছে। এতে করে দলের ত্যাগী নেতারা দলের এই ভাইরাসের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক করে দিচ্ছেন যাতে করে দলটির নতুন কমিটিতে দলের এসব বিদ্রোহীরা ঠাঁই না পায়।

গত ২২ মার্চ এক সভায় তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, মহানগর কমিটির মধ্যে বেশিরভাগ লোক যারা বড় বড় পদে আছে তারা জাতীয় পার্টি করে। জাতীয় পার্টির মিছিল মিটিংয়ে দেখা যায়। রাজনীতিতে তো দুইটা দল করা যায় না। দুইটা ক্লাবের সদস্য হওয়া যায়। কিন্তু দুই দল একসাথে করা যায় না। তাদের সাথে আমি রাজনীতি করব না। যাদেরকে জাতীয় পার্টির মিছিল মিটিংয়ে দেখা যায়, আওয়ামীলীগের মিছিল মিটিংয়ে দেখা যায়। তাদের সাথে আমি নাম দিব না। নাম দিতে হলে সিনিয়রদের নাম আগে যাবে। তো আমি কার নামের পাশে আমার নেতাকর্মীদের নাম দিব।

মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি দেয়ার দাবী করে তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, অবশ্যই নতুন করে আবার কমিটি করতে হবে। যারা নির্বাচনে ভূমিকা রাখছে, বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে থাকার সময় যারা জীবনের ঝুকি নিয়ে ভূমিকা রাখছে। তাদের হাতে কমিটি দিতে হবে। নতুবা এই কমিটি মানি না মানব না। প্রতিরোধ গড়ে তুলব। কোন সময় প্রতিরোধ করি নাই এবার প্রতিরোধ গড়ে তুলব। সবাই আমার দিকে তাকিয়ে থাকে। নেতাকর্মীদের জীবন শেষ হয়ে গেছে দল করতে করতে। আমরা ঘরে বসে দল করি নাই। আমরা জীবনের ঝুকি নিয়ে দল করছি, মার খেয়ে জেল খেটে দল করছি। দিনের পর দিন জেল খাটছি। অতএব এভাবে আর ছাড় দিতে রাজী না। যারা নির্বাচনে কাজ করছে তাদেরকে না দেয়া হলে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

গত ১৮ মার্চ রাজধানীর পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে এক বৈঠক মহানগর বিএনপির নেতারা বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েছেন। সেখানে জাপা ঘেঁষা বিদ্রোহী নেতাদের সমর্থনের কারণে বেশ বিতর্কিত হয়েছেন মহানগর বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম। সভায় উপস্থিত থাকা এক নেতার সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান সভাপতি আবুল কালামের বিরুদ্ধে জাতীয় পার্টির সাথে সম্পৃক্ততা, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিস্ক্রীয়তা ও দলীয় কর্মসূচিতে নিস্ক্রিয় থাকার অভিযোগ তুলেন।

এসকল অভিযোগের প্রেক্ষিতে আবুল কালাম বলেন, আমার সাথে যারা থাকে তারা কেউ জাতীয় পার্টি করে না। তবে জাতীয় পার্টির এমপির সাথে তাদের উঠাবসা হয়ে থাকে। কারণ তারা জনপ্রতিনিধি। সেই সূত্র ধরেই বিভিন্ন স্বার্থে তারা জাতীয় পার্টির এমপির সাথে চলাফেরা করে থাকেন। এছাড়া তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ায় দায়িত্ব হচ্ছে কেন্দ্রের। সেক্ষেত্রে আমার কিছু করার নেই। আমি তো আর তাদের ব্যাপারে সুপারিশ করছি না।

তিনি আরও বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় আমি ও আমার স্ত্রী অসুস্থ ছিলাম, তাই বন্দরে অনুষ্ঠিত হওয়া মহাসচিবের সভাতে উপস্থিত থাকতে পারি নাই। তবে আমার পক্ষ থেকে সেক্রেটারী এটিএম কামাল ঠিকই উপস্থিত ছিলেন। আমি প্রায় সময়ই অসুস্থ থাকি। এজন্য আমাকে বিভিন্ন সময় দেশের বাইরে থাকতে হয়। এটা বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া জানতেন। সেই জন্য মাঝে মাঝে কোন কোন কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকতে পারি না।

জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচরেন আগে গত ১৬ ডিসেম্বর রাতে বন্দরে সুরুজ টাওয়ারে মহনগর বিএনপির সহ সভাপতি আতাউর রহমান মুকুলের নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন কাউন্সিলর সহ অন্তত এক হাজার লোকজন ধানের শীষকে বয়কট করে লাঙ্গলের পক্ষে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও বিএনপি দলটির একাংশ দলের সাথে বেঈমানী করে ক্ষমতাসীন দল জাতীয় পার্টির এমপিকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচনী মাঠে নামে। ওই সময়ে মুকুল আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে লাঙ্গলের পক্ষে কাজ করার ঘোষণা দেন। তখন মুকুলের পাশেই ছিলেন জাতীয় পার্টির এমপি প্রার্থী সেলিম ওসমান। তখন মুকুল বক্তব্যে সেলিম ওসমানের কাছে ভবিষ্যতে পুলিশের হয়রানি কমানো ও মামলাগুলো দেখভালের আহবান জানান।

ওই অনুষ্ঠানে ২১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মহানগর বিএনপির দপ্তর সম্পাদক হান্নান সরকার, ২২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা সুলতান আহম্মেদ সহ আরো কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। তারা মূলত আবুল কালাম সমর্থিত।

সদ্য অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে ভোটার ও নেতাকর্মীদের বাধা দিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ জাতীয় পার্টির পক্ষে বিএনপি দলটির একটি বিদ্রোহী অংশ কাজ করেছে। এর আগেও এই অংশটি সুবিধা আদায়ের জন্য নিয়তিম ক্ষমতাসীনদের সভা, সমাবেশে উপস্থিত থেকে তাদের পক্ষে কাজ করে গেছেন।

সূত্র বলছে, ‘মহানগর বিএনপি সহ সভাপতি আতাউর রহমান মুকুল সহ মুকুলপন্থীরা বিএনপির কিছু নেতাকর্মীরা অনেক আগে থেকেই সুবিধা পেতে ও হামলা, মামলার ঝামেলা এড়াতে স্থানীয় ক্ষমতাসীনদের সাথে আতাঁত করে চলছেন। এখন সেই আতাঁতের বিষয়টি প্রকাশ্য দলের সাথে বিদ্রোহীতায় পরিণত হয়েছে। এই প্রকাশ্য বেঈমানীর বিষয়টি থাকা সত্ত্বেও দলের একটি অদৃশ্য শক্তি তাদেরকে সমর্থন করে যাচ্ছে। সেই সমর্থনকারীদের তালিকায় মহানগর বিএনপির সভাপতি আবুল কালামও রয়েছেন।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও