আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসায় বাধা দেয় গিয়াস আজমত বাহিনী

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৫:৫৩ পিএম, ২৪ মার্চ ২০১৯ রবিবার

আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসায় বাধা দেয় গিয়াস আজমত বাহিনী

ফতুল্লার রামারবাগে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষের ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন একটি পক্ষের নেতৃত্বে থাকা ফতুল্লা থানা কমিউনিটি পুলিশের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল সহ অন্যান্যরা।

২৪ মার্চ রোববার সাড়ে ১১ টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে মোস্তফা কামালের পক্ষে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, শুক্রবার রাতে গিয়াসউদ্দিন ওরফে কাইল্যা গেসু, তার ছোট ভাই আজমত, ভাতিজা মুরাদ, রাজিব, সজিব, নজরুল, জসিম ও ফতুল্লার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী শিয়ারচরের হেলালদের নেতৃত্বে দুই-তিনশ সন্ত্রাসী আমাদের উপর হামলা করে। এসময় তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নিরীহ রামারবাগ এলাকাবাসীর উপর হামলা করে। তাদের বাড়িঘর ভাংচুর করে এবং বিভিন্ন দোকান থেকে ক্যাশ লুট করে নিয়ে যায়।

সে সময় তারা রামারবাগের আব্দুল গফুরের ছেলে আজিমকে এলোপাথারি কুপিয়ে জখম করে ও পায়ে গুলি করে। একইসময় আরও কয়েকজনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে হতাহতরা হাসপাতালে যাওয়ার পথে কাঠেরপুল এলকায় আবার রিক্সা থেকে নামিয়ে নাজমুল, আকাইদ এবং আলামিনের হাত ও পায়ের রগ এবং জিহ্বা কেটে ফেলে এবং তাদেরকে মৃত ভেবে রাস্তায় ফেলে রেখে যায়।

এমতাবস্থায় এলাকাবাসী তাদেরকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনালের হাসপাতাল নিয়ে যেতে চাইলে সেখানেও বাধা প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল ও পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।

গিয়াসউদ্দিন ও আজমতের সহযোগিরা সকলেই মাদক ব্যবসায়ী, জুট সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যু। তাদের কাছ থেকে এলাকাবাসীরা নিরাপদ নয়। আমরা এই ঘটনায় র‌্যাব, পুলিশ, ডিবি সহ সকল আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে ন্যায় ও সুষ্ঠু বিচার দাবী করছি। আমরা রামারবাগবাসী তাদের নির্যাতন নিপীড়ন থেকে মুক্তি পেতে চাই। আমরা কোন অশান্তি চাই না, শান্তিতে থাকতে চাই।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন আহত আজিমের ফুফু সেলিনা আক্তার, রওশন আরা, নুর বান, চাচী শাহীদা আক্তার, রহিমা আক্তার ও শিল্পী দাস সহ এলাকাবাসীরা।

প্রসঙ্গত ফতুল্লা থানা কমিনিউটি পুলিশের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল ও বিএনপি সমর্থক তৈয়্যব মিয়া একটি পক্ষ ও আওয়ামীলীগ নেতা গিয়াসউদ্দিন এবং আজমত আরেকটি পক্ষ। দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতা চলে আসছে। শুক্রবার রাতে তাদের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে দুই নারী সহ ১৫ জন আহত হয়। এছাড়া এলাকার সাধারন লোকজনের শতাধীক বাড়ি ও দোকান ঘর ভাংচুর করা হয়। সংঘর্ষের ঘটনায় এক পক্ষের মামলা হয়েছে। শুক্রবার রাতে সংঘর্ষের পর শনিবার ২৩ মার্চ দুপুরে আহত আজিমের বাবা গফুর মিয়া নামের এক ব্যক্তি ওই মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় গিয়াসউদ্দিন ও আজমত সহ ২৫ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরো ৩০ জনকে আসামী করা হয়।

মামলায় আসামী করা হয় আজমত আলী, গিয়াসউদ্দিন গেসু, মনির হোসেন মুরাদ, রাজিব, সজিব, জুয়েল, খন্দকার শাওন, জসিম, আশ্রাফ, ফয়সাল, রিপন, নাঈম, দেলোয়ার, শাকিল, হ্নদয়, শহিদ, ইমন, সোহেল, সানি, রাজু, তাহের আলী, সোলেয়মান, রহিম বাদশা, শামীম, ডালিমসহ অজ্ঞাতনামা আরো ২৫/৩০জন।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও