প্রশ্নবিদ্ধ রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:২৯ পিএম, ২৪ মার্চ ২০১৯ রবিবার

প্রশ্নবিদ্ধ রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন

আগামী ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিত হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার নির্বাচন। সে হিসেবে নির্বাচনের সময় আর বেশীদিন নেই। ফলে প্রতিদ্বন্দ্বীতাকারী প্রার্থীদের এখন নির্বাচনী প্রচার প্রচারণার মোক্ষম সময় চলছে। তবে এই নির্বাচনী প্রচারণায় শুধুমাত্র একটি পক্ষকেই সুযোগ দেয়া হচ্ছে। বাকী প্রার্থীদেরকে কোনঠাসা করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। আর এতে সমর্থন যোগাচ্ছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী। এমন অভিযোগও উঠেছে। ফলে এবারের রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন ভোটের আগেই প্রশ্নবিদ্ধ হিসেবে পরিলক্ষিত হচ্ছে।

সূত্র বলছে, প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতিকে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে উপজেলা নির্বাচন। যার সূত্র ধরে এবারের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। তবে এবারের উপজেলা নির্বাচনে দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপি সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো অংশগ্রহণ করছে না। ফলে রূপগঞ্জ উপজেলায় চেয়াম্যান পদে শুধুমাত্র ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) থকে এস আলম আম প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করছেন। বাকীরা সবাই ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী হিসেবে পরিচিত।

এবারের রূপগঞ্জ উপজেলায় চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোট ১১ জন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে আওয়মীলাগের মনোনীত শাহজাহান ভূইয়া নৌকা প্রতিক নিয়ে, এনপিপি থকে এস আলম আম প্রতিক নিয়ে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো: তাবিবুল কাদির তমাল আনারস প্রতিক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। তারা হলেন মোতাহার হোসেন নাদিম টিউবয়েল, মোহাম্মদ স্বপন ভূঁইয়া টিয়া পাখি, মো: আ: আলিম বই, মো: সোহেল আহম্মদ ভূঞা চশমা এবং মো: হাবিবুর রহমান হারেজ তালা প্রতিক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।

মহিলা চেয়ার‌্যম্যান পদে ৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। তারা হলেন নাসরিন আক্তার চম্পা ফুটবল, শায়লা তাহসিন কলস, সৈয়দা ফেরদৌসী আলম নীলা হাঁস ও মোসা: হ্যাপী বেগম সেলাই প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করছেন।

তবে নির্বাচনী মাঠে থাকা এসকল প্রার্থীদের মধ্যে শুধুমাত্র ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরাই নির্বাচনী প্রচারণার সুযোগ পাচ্ছেন। ইতোমধ্যে ক্ষমতাসীন দলের চেয়ারম্যান প্রার্থী সহ একজন ভাইস চেয়ারম্যান ও একজন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী নিয়ে প্যানেল গঠন করা হয়েছে। এই প্যানেলের বাইরে থাকা অন্য কাউকে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সুযোগ পাচ্ছে না। আর এই প্যানেলের সমর্থনদাতা হচ্ছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী।

ওই প্যানেলের বাইরে থাকা প্রার্থীরা সংবাদ সম্মেলন করে স্থানীয় এমপি ও মন্ত্রীর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে তারা অভিযোগ করে বলেন, মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী উন্নয়ন কাজের বরাদ্দের নামে তার সমর্থিত প্যানেলের পক্ষে ভোট চান। তিনি বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়ে গোপন বৈঠক করে দেন। প্যানেলের বাইরে থাকা অন্য কোন প্রচারণায় নামলে তার উপর হামলা করা হচ্ছে। তার ব্যানার ফেস্টুন ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে, তার প্রচারণা মাইক ভেঙ্গে ফেলা চচ্ছে।

তারা আরও বলে, এসব বিষয়ে অভিযোগ নিয়ে পুলিশ প্রশাসনের কাছে গেলে তারা কোন প্রদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। নির্বাচন কমিশনের লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা বারবার তাদেরকে নোটিশ করলেও এতে কোন কর্নপাত নেই।

আর এসকল বিষয় নিয়ে এবার রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন ব্যাপকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। এমনিতেই নির্বাচনে দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপির কোন প্রার্থী নেই। যারা প্রার্থী হয়েছেন তারা সকলেই ক্ষমতাসীন দলেও। কিন্তু এতেও রূপগঞ্জ উপজেলার নির্বাচন সুষ্ঠু করা সম্ভব হচ্ছে না।

তাবিবুল কাদির তমাল বলেন, এই ৩ জনের ব্যাতিরেকে বাকী প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচার, গণসংযোগ ও মাইকিং করার ক্ষেত্রে বিভিন্নভাবে বাধা সৃষ্টি করছে। এই ৩ জন ছাড়া অন্য কোন প্রার্থী কোন প্রচার প্রচারণা করতে পারছে না। তাদেরকে প্রকাশ্যে ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিভিন্নভাবে হুমকি ধমকি, ভয়-ভীতি ও নির্বাচনী প্রচার কাজে বাধা সহ কর্মী ও সমর্থকদের মারধর করা হচ্ছে।

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও তারাবো পৌরসভা মহিলা শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক মোসা: হ্যাপী বেগম বলেন, আমরা আওয়ামীলীগ পরিবারের সন্তান। কিন্তু আমাদেরকে নির্বাচনে কোন রকমের সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী গোপন বৈঠকের মাধ্যমে ৩ জনের প্যানেলকে সমর্থন দিয়ে আসছে। তিনি উন্নয়ন কাজের বরাদ্দের কথা বলে প্রার্থীদের দিয়ে বেপোরোয়াভাবে ভোট চাচ্ছে। পুলিশ প্রশাসনকে জানালেও তারা কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। আমরা কোন আস্থা রাখতে পারছি না।

নারায়ণগঞ্জ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান বলেন, রূপগঞ্জের ৭ প্রার্থীর দেয়া অভিযোগপত্রটি কমিশনে (নির্বাচন বিভাগে) পাঠানো হয়েছে। ওখান থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য।

তিনি আরো বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছি যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জন্য। আর স্থানীয় মন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলেছি। তিনি এলাকায় আছেন কিনা। এলাকায় থাকলেও যেন কারো প্রচারণায় অংশগ্রহণ না করে সে জন্য অনুরোধ করেছি। এর প্রেক্ষিতে তিনি আমাকে বলেছেন, ‘তিনি একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে এসেছেন। সেখান থেকে শনিবার বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে চলে যাবেন। তিনি কারো নির্বাচনী প্রচারণায় আসেন নাই।’


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও