কাজী মনির মামুনের স্বেচ্ছাচারিতার নেপথ্যে

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৩০ পিএম, ২৪ মার্চ ২০১৯ রবিবার

কাজী মনির মামুনের স্বেচ্ছাচারিতার নেপথ্যে

নারায়ণগঞ্জে জেলা বিএনপির কমিটি পুনর্গঠনের জন্য কেন্দ্রে তালিকা জমা দেয়া নিয়ে স্বেচ্ছাচারিতা শুরু করেছে দলটির বর্তমান সভাপতি ও সেক্রেটারী পদে থাকা কাজী মনির ও মামুন মাহমুদ। এ জেলায় বিএনপির রাজনীতিকে নিজেদের হাতের মুঠোয় রাখতে দলের ত্যাগী নেতাদের মাইনাস ও নিজ বলয়ের অনুগামীদের পদায়িত করার মিশন বাস্তবায়িত করছেন। যেকারণে দলটির দুর্দিনে যখন ত্যাগী ও হাল ধরা নেতাদের খুবই প্রয়োজন তখনো স্বেচ্ছাচারিতার মধ্য দিয়ে দলটিকে আরো বিপদের মুখে ফেলে দিচ্ছে। আর এসব স্বেচ্ছাচারিতার নেপথ্যে রয়েছেন পদত্যাগী নেতা শাহআলম যিনি পদত্যাগ করলেও তার অনুগামীরা ঠিকই এককভাবে পদায়িত হচ্ছে।

জানা গেছে, দল গোছাতে ব্যর্থতার দায়ে তারেক রহমানের কাছ থেকে ভর্ৎসনার শিকার হয়ে তড়িগড়ি করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি নাম তালিকা কেন্দ্রে জমা দিয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি। তবে তৈমূর ও গিয়াস বলয়ের অনেক ত্যাগী নেতাকর্মীকে বাদ দিয়েই ২শ এক সদস্য বিশিষ্ট ওই কমিটি জমা দেওয়া হয়েছে। কমিটির তালিকাতে যাদের নাম জমা দেয়া হয়েছে তারা সবাই কাজী মনির, মামুন মাহমুদ ও শাহআলমের অনুগামীরা। যেকারণে স্বেচ্ছাচারিতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।

এদিকে তড়িগড়ি করে কমিটির নাম তালিকা জমা দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন দলটির অনেক নেতাকর্মী। তারা বলছেন, এভাবে একটি দল চলতে পারে না। দলের এই দুঃসময়ে এভাবে বিভাজন রেখে সাংগঠনিক কার্যক্রমকে গতিশীল করা যাবে না।

তারা অভিযোগ করেন, বিএনপি কারো ব্যক্তিগত সম্পদ নয় কিন্তু বর্তমান কমিটির অনেকেই মনে করেন এটা তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি মনে করেন। আর এ কারণে দলকে যেভাবে ইচ্ছে সেভাবেই তারা কমিটি সাজাচ্ছেন। কমিটি জমা দেওয়ার পূর্বে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে কোনো রকম আলোচনা না করেই এভাবে তড়িগড়ি করে কমিটি জমা দেওয়া ঠিক হয়নি।

বর্তমান কমিটির কয়েকজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, পূর্ণাঙ্গ কমিটির নাম তালিকার নির্ণয় করার ক্ষেত্রে জেলা বিএনপির ২৬ সদস্যের অন্যান্যদের তেমন একটা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। মূলত কাকে রাখা হবে কাকে রাখা হবে না তা পুরোপুরি নির্ধারণ করেছেন কাজী মনির, মামুন এবং রোজেল। আর নেপথ্যে ছিলেন শাহ আলম।

২২ মার্চ মতবিনিময় সভায় তৈমূর আলম খন্দকার এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার তিনটি শর্ত দিয়েছেন। আর এই তিনটি শর্ত হল একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যারা মাঠে ময়দানে বিএনপির প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করছে তাদের একটি তালিকা, এই নির্বাচনে যারা কাজ করে নাই তাদের একটা তালিকা ও আরেকটি তালিকা হলো যারা বিরোধীতা করছে।

সদ্য অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দলটির ভরাডুবির মধ্য দিয়ে দলের সুবিধাবাদী, বিরোধী ও নিষ্ক্রিয় নেতাদের মুখোশ যেমন উন্মোচিত হয়েছে। ঠিক তেমনি দলটির ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতাদের পরিচয়ও স্পষ্ট হয়েছে। ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনির, সেক্রেটারী মামুন মাহমুদ ও সহ সভাপতি শাহআলম মনোনয়ন প্রত্যাশা করে কাজী মনির ছাড়া বাকি দুজন মনোনয়ন বঞ্চিত হয়। তবে কাজী মনির রুপগঞ্জে ধানের শীষের প্রার্থী হয়েও নিষ্ক্রিয়তার পরিচয় দিয়েছেন। অন্যদিকে মামুন মাহমুদ ও শাহআলম দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেনি উল্টো ক্ষমতাসীনদের সাথে গোপন আতাঁত করে নিষ্ক্রিয় থেকেছেন।

এর আগেও বিএনপি দলটির দলীয় কর্মসূচিতেও শীর্ষ পদধারী এই নেতারা বরাবারের মত নিষ্ক্রিয় থেকেছেন। যেকারণে দলের বাকি নেতাকর্মীরা নেতৃত্বের অভাবে দলীয় কর্মসূচি ঠিকভাবে পালন করতে পারেনি। যদিও মামুন মাহমুদ মধ্যেখানে বেশ সক্রিয় হয়ে উঠলেও নির্বাচনের সময় তার আসল চেহারা বেরিয়ে এসেছে। আর কাজী মনির ও শাহআলম বরাবারের মত মানকাওয়াস্তে নেতা হিসেবে কাগজে কলমে নেতা হয়েছেন। এরই মধ্যে হামলা, মামলার ঝামেলা থেকে নিস্তার পেতে সহ সভাপতি ও ফতুল্লা থানার সভাপতি পদে থাকা শাহআলম পদত্যাগ করেছেন। কিন্তু পদত্যাগ করেও ফতুল্লা থানার নতুন কমিটির সকল পদে তার অনুগামীদের পদায়ীত করেছেন। এতে করে পদে না থেকেও পেছন থেকে কলকাঠি নাড়া সেই নাটের গুরু শাহআলমের কর্মকা- সবার কাছে স্পষ্ট হয়েছে। আর সেই বিতর্কিত কর্মকা-ের মিশন বাস্তবায়নে সামনে থেকে কাজ করে যাচ্ছেন জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনির ও সেক্রেটারী মামুন মাহমুদ।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও