কায়সার হাসনাতের শেষ সুযোগ

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৩১ পিএম, ২৪ মার্চ ২০১৯ রবিবার

কায়সার হাসনাতের শেষ সুযোগ

আগামী ৩১ মার্চকে কেন্দ্র করে জমে উঠছে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার নির্বাচন। এই নির্বাচনকে ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বীতাকারী প্রার্থীরা প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিদ্বন্দ্বীতাকারী ১২ জন প্রার্থীদের মধ্যে অন্যান্য পদের চেয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতাকারী দুইজনকে নিয়েই নির্বাচনী এলাকায় বেশি আলাপ আলোচনা চলছে। কারণ দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী ইস্যুতে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের প্রভাব জড়িত রয়েছে। যার সূত্র ধরে এবারের সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাচন আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতা ও স্থানীয় সংসদ সদস্য কায়সার হাসনাতের জন্য টিকে থাকার শেষ সুযোগ হিসেব নিকেশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র বলছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতিকে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে উপজেলা নির্বাচন। এবারের উপজেলা নির্বাচনে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো অংশগ্রহণ না করায় শুধুমাত্র ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরাই রয়েছেন। যার ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মোশারফ হোসেন ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।

এদের মধ্যে মোশারফ হোসেন আওয়ামীলীগের মনোনীত নৌকা প্রতিকের প্রার্থী। তার পক্ষে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত। অন্যজন হলেন বিদ্রোহী ঘোড়া প্রতিকের প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম। তার পক্ষে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকার সমর্থন রয়েছে। ফলে দলীয় মনোনয়ন না পেয়েও সংশ্লিষ্ট আসনের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকার সমর্থনে বেশ দাপটের সাথেই মাহফুজুর রহমান কালাম প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। লিয়াকত হোসেন খোকাও কালামের প্রতি পূর্ণ সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন এবং তার পক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে মোশারফ হোসেনও দলীয় মনোনয়ন ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ সহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাকর্মীদের সমর্থন পেয়ে বেশ জোরালোভাবেই প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রায় প্রতিনিয়তই নির্বাচনী এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন।

জানা যায়, এবারের সোনারগাঁও উপজেলার নির্বাচন নৌকা প্রতিকে জয়ের জন্য আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোশারফের চেয়ে বেশি চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সাবেক সাংসদ আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাতের জন্য। কারণ এ নির্বাচনে নৌকা প্রতিককে জয়ী করাতে পারলে তার আগামী দিনের উজ্জল সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যথায় তার সম্ভাবনা নিভে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ এবারের উপজেলা নির্বাচন কায়সার হাসনাতের জন্য জনপ্রিয়তা প্রমাণের ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উপজেলা নির্বাচনের আগে আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত সংসদ নির্বাচনের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু সেবার তাকে মনোনয়ন না দিয়ে জাতীয় পার্টির প্রার্থী লিয়াকত হোসেন খোকার জন্য ছাড় দেয়া হয়। আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের বিশ্বাস ছিল সোনারগাঁ উপজেলা নৌকা প্রতিকের জনপ্রিয়তা কম। কিন্তু কায়সার হাসনাতের চেষ্টা ছিল নৌকার জনপ্রিয়তার প্রমাণ দিতে। কিন্তু তাকে সুযোগ না দিয়ে এবারের উপজেলা নির্বাচনে তার সমর্থিত প্রার্থী মোশারফ হোসেনকে মনোনয়ন দিয়ে জনপ্রিয়তা প্রমাণের সুযোগ দেয়া হয়েছে।

এদিকে এর আগে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত সোনারগাঁ পৌরসভার নির্বাচনে আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাতের সমর্থিত ফজলে রাব্বীকে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তৎকালিন সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সাদেকুর রহমানকে সমর্থন দিয়েছিলেন। তিনি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সমর্থিত প্রার্থীর বাইরে গিয়ে বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী পক্ষে কাজ করেছিলেন।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী ফলাফলে গিয়ে কায়সার হাসনাত লিয়াকত হোসেন খোকার কাছে হেরে গিয়েছিলেন। এবারের নির্বাচনেও যদি লিয়াকত হোসেন খোকার সমর্থিত মাহফুজুর রহমান কালামের কাছে কায়সার হাসনাতের সমর্থিত প্রার্থী মোশাররফ হেরে যান তাহলে সোনারগাঁয়ের ভবিষ্যত রাজনীতিতে কায়সারের সম্ভাবনা মিইয়ে যেতে পারে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও