সুষ্ঠু ভোটে বাজিমাত হতে পারে আড়াইহাজারে

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:১৮ পিএম, ২৪ মার্চ ২০১৯ রবিবার

সুষ্ঠু ভোটে বাজিমাত হতে পারে আড়াইহাজারে

নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই জমে উঠছে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাচন। এই নির্বাচনে বিএনপি সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীরা অংশগ্রহণ না করলেও বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের দলীয় প্রার্থীর পাশাপাশি বিদ্রোহী প্রার্থীও রয়েছেন। একই সাথে তারা দুইজনেই শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন। তেমনিভাবে জনপ্রিয়তার দিক দিয়েও কেউ কারও চেয়ে কম নয়। ফলে সুষ্ঠু ভোট হলে আড়াইহাজার উপজেলায় আওয়ামীলীগের দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী বাজিমাত হতে পারে। তবে সেটা নিশ্চিত হওয়ার জন্য আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

সূত্র বলছে, প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতিকে অনুষ্ঠিত হচ্ছে উপজেলা নির্বাচন। যদিও এবারের উপজেলা নির্বাচনে দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপি সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো অংশগ্রহণ করছে না। যার সূত্র ধরে আড়াইহাজার উপজেলায় শুধুমাত্র বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের প্রার্থীরাই রয়েছেন।

আর এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত ১ মার্চ দলের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় দলীয় প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। সেই সাথে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার মুজাহিদুর রহমান হেলো সরকারকে আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়। তবে তাকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন প্রত্যাশী আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মো: শাহজালাল মেনে নিতে পারলেও স্থানীয় সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবুর ভাগিনা ইকবাল হোসেন মোল্লা মেনে নিতে পারছেন না। ফলে তিনি বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবেই নির্বাচনী মাঠে রয়ে গেছেন।

গত ১৪ মার্চ বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জ জেলা নির্বাচন অফিসে প্রতিদ্বন্দ্বীতাকারী প্রার্থীদের প্রতিক বরাদ্দ দেয়া হয়। চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগ থেকে মুজাহিদর রহমান হেলো সরকার নৌকা ও স্বতন্ত্র থেকে ইকবাল হোসেন মোল্লা আনারস প্রতিক পেয়েছেন। তবে ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে কোন প্রতিদ্বন্দ্বীতা না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় ভাইস চেয়ারম্যান হওয়ার পথে রয়েছেন যথাক্রমে রফিকুল ইসলাম ও ঝর্না রহমান। দুইজন ভাইস চেয়ারম্যান পার পেয়ে গেলেও বিদ্রোহী প্রার্থীর জন্য এখনও আটকে রয়েছেন আওয়ামীলীগের দলীয় প্রার্থী মুজাহিদুর রহমান হেলো সরকার।

একই সাথে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী এলাকায় ইকবাল হোসেন মোল্লার ভাল অবস্থানে রয়েছে। আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী মুজাহিদুর রহমান হেলো সরকারকে নৌকা প্রতিকে পরাজিত করারও সামর্থ রয়েছে তার। ইকবাল হোসেন মোল্লার প্রতি মৌন সমর্থন রয়েছে আওয়ামীলীগের স্থানীয় সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবুর। কারণ যিনি আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেয়েছেন সেই হেলু মূলত নজরুল ইসলাম বাবুর সমর্থিত ছিলেন না। ফলে নির্বাচনী মাঠে এমপির জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগানোর সম্ভাবনা রয়েছে ইকবাল হোসেন মোল্লার। পাশাপাশি বিএনপির নেতাকর্মীরাও আওয়ামীলীগের জনপ্রিয়তা নেই প্রমাণ দেয়ার জন্য ইকবাল হোসেন মোল্লাকেই বেছে নিতে পারেন।

নির্বাচন প্রসঙ্গে ইকবাল হোসেন মোল্লার বক্তব্য হচ্ছে, আড়াইহাজারে জনবিচ্ছিন্ন লোককে নৌকা দেয়া হয়েছে। তারা জনগণের সাথে কথা বলে না এলাকায় যায় না। সিলেকশন যদি করে তাহলে নির্বাচনের দরকার কি। নির্বাচন করতে হলে শুধু টাকায় হয় না। জনগণের ভালবাসা লাগে। আমি ইকবাল হোসেন মোল্লা টাকা দিয়ে রাজনীতি করি না। আমি যেদিকে যাব সেদিকে লক্ষ্য জনতা যাবে। আমার বাবা চেয়ারম্যান, চাচা তিনবারের চেয়ারম্যান। আমার বাবা ২০ বছর আওয়ামীলীগের সভাপতি ছিলেন। আমার পরিবার নির্বাচন করে এসেছে। আমি সেই হিসেবেই নির্বাচন করতে এসেছি।

ইকবাল হোসেন মোল্লার এই অবস্থানে আওয়ামীলীগের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মুজাহিদুর রহমান হেলো সরকার কিছুটা শংকিত রয়েছেন। দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েও ইকবাল হোসেন মোল্লার জন্য তিনি শঙ্কামুক্ত থাকতে পারছেন না।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও