বার বার কর্মীদের অভয়ে চাঙ্গা করেন শামীম ওসমান

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:০৭ পিএম, ৭ এপ্রিল ২০১৯ রবিবার

বার বার কর্মীদের অভয়ে চাঙ্গা করেন শামীম ওসমান

নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদকের বিরুদ্ধে জিডি, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মীর হোসেন মীরুর বিরুদ্ধে মামলা, ক্রীড়া সংগঠক তানভীর আহমেদ টিটু যিনি এমপি শামীম ওসমানের শ্যালক তার বিরুদ্ধে মদ বিয়ারের ঘটনায় জড়ানো, শহরে পুলিশের মহড়ার পর যখন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কিছুটা চাপা আতংকে ছিলেন তখন সেটাকে রণেভঙ্গ দেওয়া হয়েছে। এর আগেও গত বছরের ১৬ জানুয়ারী চাষাঢ়ায় হকার ইস্যুর পর থানায় মামলার আবেদন করা হলে তখনও কড়া কথা বলেন তিনি।

নেতাকর্মীদের অভিভাবক খ্যাত প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমান স্বভাবসুলভভাবে কর্মীদের পাশে থাকার ঘোষণার পাশাপাশি বেশ দৃঢ়তা দেখিয়েছেন। শামীম ওসমানকে পাশে পেয়ে যখন নেতাকর্মীরা উত্তেজিত তখন তাদের বিপথে না যেতে হাতজোড় করতেও দ্বিধাবোধ করেনি।

তাছাড়া কর্মীদের আরো চাঙ্গা করতে শামীম ওসমানের কড়া বক্তব্যের পর পাল্টে যায় পুরো চিত্র। সবশেষ গত ৬ এপ্রিল কথা বলেন শামীম ওসমান। সেদিন নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের বিশেষ কর্মী সভা হলেও সেখানে উঠে আসে বহুল আলোচিত পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের ইস্যু। আওয়ামী লীগের হাতেগোনা যে কতজন নেতা বক্তব্য দিয়েছেন তাদের কণ্ঠে ছিল চরম পুলিশ বিদ্বেষী বক্তব্য। এছাড়া নেতাকর্মীরা বার বার আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমানের উপস্থিতিতে এসপি হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে। ওই সময়ে শামীম ওসমানকেও এসব স্লোগান থামাতে বেশ বেগ পেতে হয়।

তিনি সভার শুরুতেই বলেন, আমাকে বার বার বলা হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নাকি আতংকিত। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বলছেন গণপদত্যাগ করবে। আসলে ভাগ্য ভালো যে আমি ২০১১ সালের শামীম ওসমান না।

তিনি বলেন, আপনাদের এত টেনশন করার কারণ নাই। উত্তেজিত হবেন না। শেখ হাসিনার ভাবমূর্তি নষ্ট করা যাবে না। আমার লোকজন খারাপ হলে ছাড় দিব না। কিন্তু যদি অহেতুক কাউকে হয়রানি করা হয় তাহলে নারায়ণগঞ্জ এর মাটিতে চাড়া নাচায়া দিব। এক সেকেন্ড সময় দিব না। এর পরেও যদি খেলা হয়। আগামীতে ২৪ ঘণ্টা না মাত্র ৬ ঘণ্টার সময় দিব। আশা করি আর খেলা হবে না। খেলার আগেই খেলা শেষ হয়ে যাবে।

শামীম ওসমান বলেন, কয়লাতে খোঁচা দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। আগুন জললে কিন্তু নিভাতে পারবেন না।  আমি শামীম ওসমানও তাদের সামলাতে পারবো না। নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগের লোকজন কিন্তু বিচ্ছু বিচ্ছু খেলতে অভ্যস্ত। আমি আল্লাহর কসম খেয়ে বলছি। অগ্নিগিরি দেখেছেন অগ্নিগিরির আগুন কিন্তু দেখেন নাই। নারায়ণগঞ্জে অগ্নিস্ফূলিঙ্গ হবে।

তিনি বলেন, ২০০১ সালের ১৬ জুন বোমা হামলার পরেই আমাদের এক্সটেনশন লাইফ চলছে। আমার তো মরা মানুষ। ইতোমধ্যে আমাদের নেতারা বলছেন, গণপদত্যাগ করবে। কিন্তু আমি বলি এত উত্তেজিত হওয়ার কিছু নাই। মশা মারতে কামান লাগাতে পারবে না।

নিজের অতীত রাজনৈতিক ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে শামীম ওসমান বলেন, ৭৯ সালে আমরা মাত্র ৭ জন ছেলে নিয়ে জিয়াউর রহমানকে নারায়ণগঞ্জকে ঢুকতে দেই নাই। তোলারাম কলেজে মন্ত্রীরা প্রবেশ করতে পারে নাই। আমাদের উপর গুলিও করেছিল। খালেদা জিয়াও নারায়ণগঞ্জে এসে বলেছিল শামীম ওসমান কোথায়, কোথায় আওয়ামী লীগ। তখন আমরা শ্রমিকদের বলেছিলাম রাস্তা ব্যারিকেড দিতে। আর ছাত্রদের বলেছিলাম রেল লাইন অবরোধ করতে। শামীম ওসমান আছে কী না তখন অস্তিত্ব জানান দেওয়া হয়েছিল। তখন কিন্তু খালেদা জিয়াও শহর থেকে যেতে পারেনি। মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কিন্তু আমরা বিএনপিকে তাড়িয়েছিলাম।

তিনি বলেন, আপনারা যা দেখছেন সেটা আসল না। পর্দার আড়ালে কিছু খেলা হয়। কেউ কেউ ভুলে সে খেলায় পা দেয়। হয়তো নারায়ণগঞ্জের মেহমানরা সেই খেলায় পা দিয়েছেন। আমি কারো নাম বলবো না। আমি তাদের গোনায় ধরি না। বাইরের লোকজনদের দোষ দিয়ে লাভ নাই। আমার ঘরের লোকজনদের দোষ। আমাদের ভেতরেই খন্দকার মোশতাকদের অবস্থান। বাইরের মানুষের কোন দোষ নাই।

শামীম ওসমান বলেন, আমাদের নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা হলেই আমরা ভয় পাবো সেটা ভাবার কারণ নাই। মনে রাখতে হবে আমরা এখনো বুড়ো হই নাই। আমাদের নিয়ে খেইলেন না, খেলাইয়েন না। আমরা এখনো জোয়ান আছি। মন্ত্রীকে প্রশ্ন করায় জুয়ার মামলা দিবেন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে। আমার আত্মীয়কে মদের মামলা দিবেন। এসব দিয়ে আমাকে কাবু করতে পারবেন না।

তিনি বলেন, আমাকে বার বার বলা হচ্ছে বড় কর্মসূচী দিতে। তারা আমার সঙ্গে রাগারাগি করছে। কিন্তু আমি তাদের নিবৃত্ত করছি। কারণ আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা কী নারায়ণগঞ্জের খোঁজ রাখেন না। খোঁজ রাখেন কি না সেটা টের পাবেন আগামী ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যে। মনে রাখতে হবে সরকার আমাদের, প্রশাসন আমাদের। সুতরাং আমাদের হাত পা অনেক সময়ে বাধা থাকে। কেউ যদি মনে করেন চাঁদাবাজী করবেন, মামলা দিবেন, হয়রানি করবেন সেটা হবে না। আমাদের সিনিয়র নেতারা বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানাবেন। আমি মনে করে শেখ হাসিনার বাংলাদেশে কোন অনাচার চলবে না।

তিনি কোনো ব্যবসায়ীকে এক টাকাও চাঁদা না দিতে আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেখা করার দিন শেষ, শেখ হাসিনার বাংলাদেশ।

এর আগে গত বছরের ২৭ জানুয়ারী হকার ইস্যুতে নারায়ণগঞ্জ সিটি মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনায় থানায় করা অভিযোগ (মামলা) প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সাংসদ শামীম ওসমান। তিনি বলেন, ‘নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে ভয় দেখাতে চান? আপনি বাঘ আর বিড়ালের পার্থক্য বোঝেন না। এটা বাঘ, বিড়াল না। আর বাঘের ঘরে বাঘ-ই জন্ম নেয়, বিড়াল জন্ম নেয় না। বাঘের মুখের সামনে হাত বেশি নাড়াইয়েন না।’

আইভীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আমি আইভীকে বলবো অন্যদেরও বলবো। যদি ভুল করে থাকেন স্বীকার করেন সংশোধন হন। যদি জামায়াত বিএনপি দ্বারা ভুল পথে পট পরিবর্তন করে থাকেন সেটাও আলোচনায় বসে স্বীকার করে শেষ করেন। বিএনপির কাউন্সিলর নিয়ে ঘুরবেন, রাজাকারের ছেলের কথায় ভিন্ন পথে চলবেন সেটা কইরেন না। যারা আপনার নির্বাচনে দিনরাত পরিশ্রম করে লাখ লাখ টাকা খরচ করেছে পরীক্ষিত সেসব নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন অথচ একটুও বুক কাঁপলো না। যারা বিগত বিএনপি সরকারের আমলে ৫০টা মামলা খেয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে এখন ‘হুদামিছা’ অভিযোগ করেছেন সেগুলো প্রত্যাহার করেন। বাঘ আর বিড়ালের পার্থক্য বুঝতে হবে। বাঘের ঘরে বাঘের জন্ম হয়। বাঘের মুখের সামনে হাত নাড়বেন না। ওনি (আইভী) বাঘ ও বিড়ালের পার্থক্য বুঝে না। আমি শামীম ওসমান তো পরে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ হয়েছে তারাও যদি ডাক দেয় এক লাখ লোক জমায়েত কোন ব্যাপার না। তখন কিন্তু সামলাতে পারবো না।’


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও